বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৪
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
লক্ষ লক্ষ মানুষের আত্মত্যাগের ফসল স্বাধীন বাংলাদেশ। স্বাধীনতা অর্জন করতে গিয়ে নির্যাতিত হয়েছিল অনেক নারী-পুরুষ। দেশমাতৃকার জন্য যাঁরা অকাতরে জীবন বিসর্জন দিয়েছিলেন তাঁদের প্রত্যেকেরই রয়েছে এক একটি বিজয় গাথা। দেশের এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বিজয় গাথার চেতনায়-ই যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশের বিজয়কেতনকে অনন্ত অক্ষয় রাখবে।
- ক)(1)
কার চোখে আলোচিত ঢাকা?
- খ)(2)
"সেই ফুল আমাদেরই প্রাণ।"-কীভাবে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সাথে 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় কাদের তুলনা করা হয়েছে? বিশ্লেষণ কর।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপক ও 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতাটি একই চেতনায় সমুজ্জ্বল।"-আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শহীদ বরকতের চোখে আলোচিত ঢাকা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"সেই ফুল আমাদেরই প্রাণ" বলতে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ এবং একুশের রক্তাক্ত কৃষ্ণচূড়ার প্রতীকী রূপকে বোঝানো হয়েছে।
'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় রক্তে ফোটা কৃষ্ণচূড়া শুধু প্রকৃতির ফুল নয়, তা ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের আত্মদান ও বাঙালির সংগ্রামী চেতনার প্রতীক। এই চেতনা বাঙালির আত্মপরিচয় ও জাতীয় জীবনের প্রাণশক্তি হয়ে উঠেছে, যা পরবর্তী সকল গণআন্দোলনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সাথে 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় সালাম, বরকত, রফিক ও জব্বারের মতো ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদদের তুলনা করা হয়েছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জনের পেছনে রয়েছে লক্ষ লক্ষ মানুষের আত্মত্যাগ ও নারী-পুরুষের নির্যাতন ভোগের ইতিহাস। দেশমাতৃকার জন্য জীবন বিসর্জন দেওয়া এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের আত্মবলিদানই বাঙালির প্রেরণার উৎস।
'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণ করা হয়েছে। সেখানে সালাম, বরকত প্রমুখ বীরের রক্তে রঞ্জিত কৃষ্ণচূড়া ফুল এবং তাঁদের আত্মদান দেশবাসীকে নতুন সংগ্রামে উজ্জীবিত করে। উদ্দীপকের শহীদদের মতোই তাঁরা দেশপ্রেমের সর্বোচ্চ প্রমাণ দিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানে পরিণত হয়েছেন। তাই উদ্দীপকের আত্মত্যাগী শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সঙ্গে কবিতার ভাষা শহীদদের স্পষ্ট সাদৃশ্য লক্ষণীয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপক ও 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতাটি একই চেতনায় সমুজ্জ্বল"—উক্তিটি যথার্থ।
উদ্দীপকে তুলে ধরা হয়েছে দেশমাতৃকার স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গকারী বীর সেনানীদের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মহিমা, যা চিরকাল জাতিকে পথ দেখাবে এবং বিজয়ের পতাকাকে সমুন্নত রাখবে।
অন্যদিকে, 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় কবি শামসুর রাহমান বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক আত্মত্যাগকে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের স্বৈরাচারবিরোধী চেতনার সাথে যুক্ত করেছেন। পাকিস্তানি শোষক ও স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামী জনতার অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে ১৯৫২ সালের ভাষা শহীদদের রক্তই অবিনাশী চেতনা হয়ে পথ দেখিয়েছে। সালাম, বরকতরা যেমন দেশের অধিকার রক্ষায় প্রাণ দিয়েছিলেন, তেমনি উনসত্তরের গণআন্দোলনের মাধ্যমে সেই চেতনার ধারাবাহিকতাই পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের রূপ নেয়।
অতএব, উদ্দীপক ও কবিতা উভয়েরই মূল সুর হলো দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার অদম্য চেতনা। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপক ও 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতাটি স্বাধীনতা, মুক্তি ও আত্মত্যাগের একই অভিন্ন চেতনায় সমুজ্জ্বল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও