উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৬
উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন
প্রতি বছর শীতকালে আমেনা বেগম বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পিঠা তৈরি করেন। এজন্য পিঠা তৈরির বিভিন্ন উপকরণ যেমন- চালের গুঁড়া, নারকেল, গুড়, পাতিল ইত্যাদি স্থানীয় বাজার থেকে ক্রয় করেন। তার তৈরি পিঠা মানসম্মত হওয়ায় চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়। এ বর্ধিত চাহিদা পূরণের জন্য তিনি শহরের বিভিন্ন ফাস্টফুডের দোকানে পিঠা সরবরাহের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
- ক)(1)
উৎপাদন কী?
- খ)(2)
উৎপাদনশীলতা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
আমেনা বেগম তার কর্মকাণ্ড দ্বারা কোন ধরনের উপযোগ সৃষ্টি করেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
আমেনা বেগমের বিভিন্ন ফাস্টফুডের দোকানে পিঠা সরবরাহের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা উপযোগের ধরন উল্লেখপূর্বক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রকৃতিপ্রদত্ত সম্পদের রূপ পরিবর্তন করে মানুষের ব্যবহার উপযোগী নতুন পণ্য বা উপযোগ সৃষ্টি করার প্রক্রিয়াকে উৎপাদন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উৎপাদনশীলতা বলতে উৎপাদনের দক্ষতা বা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত উপাদান ও প্রাপ্ত ফলাফলের অনুপাতকে বোঝায়। অর্থাৎ, উৎপাদনের উপকরণ বা ইনপুট (যেমন: কাঁচামাল, শ্রম, মূলধন ইত্যাদি) এবং উৎপাদিত পণ্য বা আউটপুটের অনুপাতই হলো উৎপাদনশীলতা (উৎপাদনশীলতা = মোট আউটপুট ÷ মোট ইনপুট)। কম উপকরণ ব্যবহার করে অধিক উৎপাদন অর্জন করাই উৎপাদনশীলতার মূল লক্ষ্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আমেনা বেগম তার কর্মকাণ্ড দ্বারা 'রূপগত উপযোগ' সৃষ্টি করেন।
কোনো বস্তুর বাহ্যিক আকার, আকৃতি বা অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে যে নতুন উপযোগ সৃষ্টি করা হয়, তাকে রূপগত উপযোগ বলে। রূপগত উপযোগের মাধ্যমে পণ্যের ব্যবহারযোগ্যতা বৃদ্ধি পায় এবং এটি উৎপাদনের প্রত্যক্ষ রূপ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আমেনা বেগম স্থানীয় বাজার থেকে কাঁচামাল বা উপকরণ হিসেবে চালের গুঁড়া, নারকেল, গুড় ইত্যাদি ক্রয় করেন। এরপর নিজস্ব প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে সেগুলোর মূল রূপ পরিবর্তন করে সুস্বাদু ও খাবার উপযোগী 'পিঠা' তৈরি করেন। কাঁচামালের রূপ পরিবর্তনের ফলেই পিঠার সৃষ্টি হয়েছে। সুতরাং, তার এই কর্মকাণ্ড রূপগত উপযোগ সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আমেনা বেগমের বিভিন্ন ফাস্টফুডের দোকানে পিঠা সরবরাহের সিদ্ধান্তটি 'স্থানগত উপযোগ' সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যৌক্তিক।
এক স্থানের উৎপাদিত পণ্য অন্য স্থানের ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে যে উপযোগ সৃষ্টি হয়, তাকে স্থানগত উপযোগ বলে। পরিবহন বা সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানগত উপযোগ তৈরি হয়, যা পণ্যের ভৌগোলিক দূরত্বের প্রতিবন্ধকতা দূর করে এবং বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা করে।
উদ্দীপকে আমেনা বেগমের তৈরি পিঠার মান ভালো হওয়ায় চাহিদ ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। তিনি যদি শুধু তার নিজ অবস্থানেই সীমাবদ্ধ থাকতেন, তবে দূরবর্তী ক্রেতারা তা ভোগ করতে পারতেন না। তিনি শহরের বিভিন্ন ফাস্টফুডের দোকানে পিঠা সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর ফলে পিঠা তৈরি কেন্দ্র থেকে স্থানান্তরিত হয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকার ফাস্টফুডের দোকানে ভোক্তাদের হাতের নাগালে পৌঁছে যাবে। এটি স্থানগত উপযোগের সফল বাস্তবায়ন।
স্থানগত উপযোগ সৃষ্টির ফলে যেমন শহরের সাধারণ ক্রেতারা সহজে পিঠা ক্রয়ের সুযোগ পাবে, তেমনি আমেনা বেগমের বিক্রয় ও মুনাফার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। অতএব, বর্ধিত চাহিদা পূরণ এবং ব্যবসার পরিধি বিস্তারের জন্য তার এই সরবরাহের সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও