পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন
কামাল মিয়া অল্প বয়সে চারজন কন্যা সন্তানের বাবা হন। ছেলের আশায় দ্বিতীয় বার বিয়ে করলে তার দুই মেয়ে এবং এক ছেলের জন্ম হয়। অভাব তার সংসারের নিত্যসঙ্গী। তার ভাই জামাল মিয়া জমিতে ইটের ভাটা তৈরি করেছেন। ইটের ভাটার জ্বালানির জন্য তিনি প্রতিনিয়ত গাছ কাটছেন।
- ক)(1)
খাদ্যনিরাপত্তা কাকে বলে?
- খ)(2)
কামাল মিয়ার পরিবার কোন ধরনের নাগরিক সমস্যার সম্মুখীন? কারণগুলো ব্যাখ্যা' করো।
- গ)(3)
কামাল মিয়ার পরিবার কোন ধরনের নাগরিক সমস্যার সম্মুখীন? কারণগুলো ব্যাখ্যা' করো।
- ঘ)(4)
জামাল মিয়ার কর্মকান্ডের ফলে যে দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে তা থেকে পরিত্রাণের জন্য কোন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে তুমি মনে কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
খাদ্যনিরাপত্তা বলতে সব সময় সব মানুষের জন্য পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের সহজলভ্যতা ও ক্রয়ক্ষমতা নিশ্চিত করাকে বোঝায়।
- খ)
কামাল মিয়ার পরিবার জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও দারিদ্র্যের সমস্যার সম্মুখীন। ছেলের আশায় একাধিক সন্তান নেওয়ায় পরিবারের সদস্যসংখ্যা বেড়েছে, কিন্তু আয় বাড়েনি। ফলে অভাব তার নিত্যসঙ্গী হয়েছে। এর কারণগুলো হলো কুসংস্কার (পুত্রসন্তানের প্রতি আকাঙ্ক্ষা), শিক্ষার অভাব ও সচেতনতার অভাব।
- গ)
কামাল মিয়ার পরিবার জনসংখ্যা সমস্যার সম্মুখীন, যার সাথে দারিদ্র্যও জড়িত।
এর কারণগুলো নিম্নরূপ:
১. কুসংস্কার ও পুত্রসন্তানের প্রতি আকাঙ্ক্ষা: ছেলের আশায় কামাল মিয়া দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং সন্তানসংখ্যা বাড়ে।
২. শিক্ষা ও সচেতনতার অভাব: পরিবার পরিকল্পনা ও ছোট পরিবারের উপকারিতা সম্পর্কে জ্ঞানের অভাবে জন্মহার বেশি থাকে।
৩. দারিদ্র্য: দরিদ্র পরিবারে সন্তানকে আয়ের উৎস মনে করার প্রবণতা থাকে।
৪. বাল্যবিবাহ: কম বয়সে বিয়ে হলে প্রজননকাল দীর্ঘ হয় এবং সন্তানসংখ্যা বাড়ে।ফলে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার সংকট দেখা দেয়।
- ঘ)
জামাল মিয়া ইটের ভাটার জ্বালানির জন্য নির্বিচারে গাছ কাটছেন। এতে বনভূমি ধ্বংস হয়ে পরিবেশ দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন, অনাবৃষ্টি, খরা ও ভূমিক্ষয়ের মতো পরিবেশগত দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য নিম্নোক্ত উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি:
১. বৃক্ষরোপণ ও বন সংরক্ষণ: বেশি করে গাছ লাগানো এবং অবৈধভাবে গাছ কাটা বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা।
২. আইনের প্রয়োগ: ইটভাটা স্থাপনে সরকারি অনুমতি ও পরিবেশ ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক করা এবং আইন ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া।
৩. বিকল্প জ্বালানি ও প্রযুক্তি: কাঠের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব বিকল্প জ্বালানি এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করা।
৪. সচেতনতা সৃষ্টি: গণমাধ্যম ও শিক্ষার মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা।সুতরাং, সরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগ একসাথে কাজ করলে পরিবেশগত দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও