পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

প্রদত্ত ছকের আলোকে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

  1. ক)

    তথ্য অধিকার আইন কী?

    (1)
  2. খ)

    "অধিকার ও কর্তব্য পরস্পর পরিপূরক" ব্যাখ্যা করো

    (2)
  3. গ)

    ছকটিতে নাগরিকের কোন ধরনের অধিকার প্রকাশ পেয়েছে? এটি নাগরিকের জন্য কতটুকু প্রয়োজনীয়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    হকে উল্লেখিত বিষয়গুলো নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটায়- উক্তিটির সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যে আইনের মাধ্যমে নাগরিকরা সরকারি ও কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তাদের কাজ সম্পর্কিত তথ্য জানার অধিকার পায়, তাকে তথ্য অধিকার আইন (২০০৯) বলে।

  2. খ)

    অধিকার ও কর্তব্য একই মুদ্রার দুই পিঠ, একটি ছাড়া অন্যটি অর্থহীন।

    আমি যেমন কিছু অধিকার ভোগ করি, তেমনি অন্যের সেই অধিকারের প্রতি সম্মান দেখানো আমার কর্তব্য। যেমন আমার চলাফেরার অধিকার আছে, তাই অন্যের চলাফেরায় বাধা না দেওয়া আমার কর্তব্য। রাষ্ট্র আমার নিরাপত্তা দেয়, বিনিময়ে আমাকে আইন মানতে ও কর দিতে হয়। তাই অধিকার ও কর্তব্য পরস্পর পরিপূরক।

  3. গ)

    ছকে নাগরিকের আইনগত অধিকারের চারটি ধরন প্রকাশ পেয়েছে: সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার।

    প্রয়োজনীয়তা:

    ১. সামাজিক অধিকার: জীবন, নিরাপত্তা ও শিক্ষার অধিকার নাগরিকের সুস্থভাবে বাঁচার ভিত্তি।

    ২. রাজনৈতিক অধিকার: ভোট দেওয়া, নির্বাচিত হওয়া ও মত প্রকাশের অধিকার দিয়ে নাগরিক রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশ নেয়।

    ৩. অর্থনৈতিক অধিকার: কাজ ও ন্যায্য মজুরির অধিকার জীবিকা ও আর্থিক নিরাপত্তা দেয়।

    ৪. সাংস্কৃতিক অধিকার: ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নাগরিকের নিজস্ব সত্তা ও ঐতিহ্য রক্ষা করে।

    এই অধিকারগুলো ছাড়া নাগরিকের জীবন পূর্ণাঙ্গ ও মর্যাদাপূর্ণ হয় না, তাই এগুলো নাগরিকের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

  4. ঘ)

    ছকে উল্লিখিত সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারগুলো নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উক্তিটি যথার্থ।

    ১. সামাজিক অধিকার: শিক্ষা, জীবন ও নিরাপত্তার অধিকার নাগরিককে সুস্থ, শিক্ষিত ও নিরাপদ জীবন দেয়, যা ব্যক্তিত্ব গঠনের ভিত্তি।

    ২. রাজনৈতিক অধিকার: ভোট ও মতপ্রকাশের অধিকার নাগরিকের নেতৃত্বগুণ, দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা বাড়ায়।

    ৩. অর্থনৈতিক অধিকার: কাজ ও ন্যায্য মজুরির অধিকার আর্থিক স্বাবলম্বিতা এনে আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদা বাড়ায়।

    ৪. সাংস্কৃতিক অধিকার: নিজের ভাষা-সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ মানসিক বিকাশ, সৃজনশীলতা ও জাতীয় পরিচয়বোধ সমৃদ্ধ করে।

    সুতরাং, এ চার ধরনের অধিকার একসাথে নাগরিকের শারীরিক, মানসিক, নৈতিক ও সামাজিক বিকাশ ঘটিয়ে পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন