হিন্দু ধর্ম • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৮
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
প্রণব তার বাবার মৃত্যু পরবর্তী অশৌচ পালন শেষে শ্রাদ্ধের আয়োজন করে। কিন্তু কীভাবে সে শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করবে এ বিষয়ে তার মামার কাছে জানতে চান। মামা তাকে উপদেশ দেন যে আর্থিক অবস্থার উপর নির্ভর করে বিভিন্নভাবে শ্রাদ্ধ করা যায়। তবে শ্রাদ্ধের ব্যাপারে শ্রদ্ধাই মুখ্য।
- ক)(1)
শ্রাদ্ধ বাসরে মহাভারতের কোন পর্বটি পাঠ করা হয়?
- খ)(2)
পূরকপিণ্ড বলতে কী বুঝ? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
শাস্ত্রমতে শ্রাদ্ধের অধিকারী কে? প্রণব কীভাবে তার বাবার শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করবে? তোমার পঠিত বিষয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"শ্রাদ্ধের ব্যাপারে শ্রদ্ধাই মুখ্য" বক্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
শ্রাদ্ধবাসরে মহাভারতের বিরাট পর্ব পাঠ করা হয়।
- খ)
পিতা-মাতার মৃত্যুর পর চতুর্থ ও দশম দিনে অশৌচকালে যে পিণ্ড দান করা হয়, তাকে পূরকপিণ্ড বলে। মোট দশটি পূরকপিণ্ড দিতে হয়।
পিণ্ড দানের ধারণা হলো, এর মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির আত্মার পারলৌকিক কল্যাণ কামনা করা হয়। অশৌচকালে সংযম পালন করে সন্তান শ্রাদ্ধের উপযুক্ততা অর্জন করে।
- গ)
শাস্ত্রমতে মৃত ব্যক্তির পুত্র, বিশেষত জ্যেষ্ঠ পুত্র, দাহ ও শ্রাদ্ধকর্মের অধিকারী। তার অভাবে কে অধিকারী হবেন, তার একটি ক্রমধারা স্মৃতিশাস্ত্রে বর্ণিত আছে। প্রণব বাবুর পিতার মৃত্যু হয়েছে এবং সে পুত্র হিসেবে শ্রাদ্ধের অধিকারী।
শ্রাদ্ধের ধারণা: শ্রদ্ধার সঙ্গে যা দান করা হয়, তাই শ্রাদ্ধ। মৃত্যুর পর প্রথমে যে শ্রাদ্ধ করতে হয় তাকে আদ্যশ্রাদ্ধ বলে। অশৌচকাল শেষ হওয়ার পরদিন এটি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রণব যেভাবে শ্রাদ্ধ সম্পন্ন করবে:
১. অশৌচকালে সংযম পালন করে হবিষ্যান্ন বা ফলমূল খাবে, উঠানে তুলসী গাছ লাগিয়ে প্রতিদিন মৃত ব্যক্তির উদ্দেশে জল ও দুধ দেবে, চতুর্থ ও দশম দিনে পূরকপিণ্ড দেবে।
২. অশৌচান্তে মাথা মুণ্ডন করে নতুন বস্ত্র পরবে।
৩. পরদিন আদ্য একোদ্দিষ্ট শ্রাদ্ধে প্রদীপ জ্বালিয়ে বাস্তুপুরুষ, যজ্ঞেশ্বর ও ভূস্বামীর পূজা করবে। এরপর মৃত ব্যক্তির নামে আসন, ছাতা, পাদুকা, বস্ত্র, অন্ন, জল, তাম্বুল, মালা, বিছানা প্রভৃতি মন্ত্রসহ উৎসর্গ করে পিণ্ডদান করবে।
৪. সামর্থ্য অনুযায়ী ছয়, আট বা ষোলো প্রকার দান করা যাবে এবং শ্রাদ্ধবাসরে গীতা ও মহাভারতের বিরাট পর্ব পাঠ করা হবে।উদ্দীপকে মামার উপদেশও তাই, আর্থিক অবস্থা অনুযায়ী বিভিন্নভাবে শ্রাদ্ধ করা যায়।
- ঘ)
“শ্রাদ্ধের ব্যাপারে শ্রদ্ধাই মুখ্য” বক্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ। কারণ ‘শ্রদ্ধা’ শব্দের সঙ্গে ‘অণ্’ প্রত্যয় যোগে ‘শ্রাদ্ধ’ শব্দ গঠিত। শ্রদ্ধার সঙ্গে যা দান করা হয়, তাই শ্রাদ্ধ।
শ্রাদ্ধের ধারণা: মৃত ব্যক্তির আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং তাঁর পারলৌকিক কল্যাণ কামনা করাই শ্রাদ্ধের উদ্দেশ্য। এতে নানা উপকরণ, দান ও মন্ত্রপাঠ থাকে।
১. শ্রদ্ধা ছাড়া শ্রাদ্ধ হয় না: শাস্ত্র বলে, যেখানে শ্রদ্ধার সংযোগ নেই, সেখানে আড়ম্বর থাকলেও শ্রাদ্ধ হয় না। অর্থাৎ বাহ্যিক জাঁকজমকের চেয়ে অন্তরের শ্রদ্ধাই আসল।
২. আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী আয়োজন: আদ্যশ্রাদ্ধে ছয়, আট, ষোলো প্রভৃতি বিভিন্ন দানের বিধান আছে এবং যার যেমন সামর্থ্য সে তেমন দান করে। উদ্দীপকের মামা প্রণবকে এই কারণেই উপদেশ দিয়েছেন। দরিদ্র মানুষও শ্রদ্ধা দিয়ে শ্রাদ্ধ সম্পন্ন করতে পারে।
৩. অশৌচ পালনে শ্রদ্ধার প্রকাশ: অশৌচকালে সংযম পালন, হবিষ্যান্ন গ্রহণ, তুলসীতলায় জল ও দুধ দেওয়া এবং পিণ্ড দান সবই মৃত ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধার প্রকাশ।
৪. পারিবারিক ও সামাজিক গুরুত্ব: শ্রদ্ধার সঙ্গে অনুষ্ঠিত শ্রাদ্ধে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা মৃত ব্যক্তির পরিবারের দুঃখের সঙ্গে একাত্ম হন, যা সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে সামাজিকতার বীজ বপন করে।
সুতরাং, ব্যয় বা আড়ম্বর নয়, আন্তরিক শ্রদ্ধাই শ্রাদ্ধের প্রধান বিষয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও