ইসলাম • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪

ইসলাম প্রশ্ন

জনাব হাফিজ তাড়াপুর নামক এলাকায় বসবাস করেন। সেখানকার মানুষ প্রতিনিয়ত তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে মারামারি ও ঝগড়াঝাটিতে লিপ্ত হয়ে পড়ে। সেখানে মানুষের জান-মাল ও ইজ্জতের কোনো মূল্য নেই। জনাব হাফিজের বন্ধু নাদিম একজন সমাজসেবক। তিনি তার অধীনস্থদের সাথে সদ্ব্যবহার করেন। নিজে যা আহার করেন, তাদেরকেও তা খাওয়ান।

  1. ক)

    মদিনার সনদ কী?

    (1)
  2. খ)

    রাসুল (স)-এর জীবনাদর্শ অনুকরণীয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    জনাব হাফিজের এলাকার মানুষের অবস্থা মহানবি (স)-এর সময়কার কোন অবস্থার সাথে তুলনা করা যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    জনাব নাদিমের কর্মকাণ্ডে মহানবি (স)-এর জীবনের কোন ভাষণের প্রতিফলন ঘটেছে? আদর্শ সমাজ গঠনে উক্ত ভাষণের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    মদিনার সনদ হলো হিজরতের পর রাসূল (স) মদিনায় মুসলিম, ইহুদি ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি, নিরাপত্তা ও সহাবস্থান নিশ্চিত করতে যে লিখিত চুক্তি বা সংবিধান প্রণয়ন করেন।

  2. খ)

    রাসূল (স)-এর জীবনাদর্শ অনুকরণীয়, কারণ আল্লাহ নিজেই তাঁকে মানবজাতির জন্য আদর্শ ঘোষণা করেছেন। কুরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।"
    তিনি ব্যক্তিজীবন, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও ব্যবসা সকল ক্ষেত্রে সততা, ন্যায় ও দয়ার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর জীবন অনুসরণ করলে মানুষ দুনিয়ায় শান্তি ও আখিরাতে মুক্তি পায়।

  3. গ)

    জনাব হাফিজের এলাকার মানুষের অবস্থা মহানবি (স)-এর সময়কার আইয়ামে জাহিলিয়া বা অন্ধকার যুগের সাথে তুলনা করা যায়।

    ইসলাম-পূর্ব আরব সমাজে সামান্য বিষয় নিয়ে গোত্রে গোত্রে যুদ্ধ চলত, যা বছরের পর বছর স্থায়ী হতো। মানুষের জান-মাল ও ইজ্জতের কোনো নিরাপত্তা ছিল না। নারী ও দুর্বলরা নির্যাতিত হতো এবং ন্যায়বিচার ছিল না। তাড়াপুরের মানুষও তুচ্ছ কারণে মারামারি ও ঝগড়ায় জড়ায় এবং সেখানে জান-মাল ও ইজ্জতের মূল্য নেই। তাই দুই অবস্থার মধ্যে মিল রয়েছে।

  4. ঘ)

    জনাব নাদিমের কর্মকাণ্ডে মহানবি (স)-এর বিদায় হজের ভাষণের প্রতিফলন ঘটেছে। এ ভাষণে রাসূল (স) অধীনস্থদের প্রতি সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, তোমরা নিজেরা যা খাবে তাদেরও তা খাওয়াবে, নিজেরা যা পরবে তাদেরও তা পরাবে।

    আদর্শ সমাজ গঠনে ভাষণের তাৎপর্য:
    ১. জান-মাল-ইজ্জতের নিরাপত্তা: ভাষণে ঘোষণা করা হয়েছে, প্রত্যেকের জীবন, সম্পদ ও সম্মান পবিত্র, যা হাফিজের এলাকার অশান্তি দূর করতে পারে।
    ২. সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব: আরবের ওপর অনারবের বা সাদার ওপর কালোর শ্রেষ্ঠত্ব নেই; শ্রেষ্ঠত্ব কেবল তাকওয়ায়।
    ৩. অধিকার সংরক্ষণ: নারী ও অধীনস্থদের অধিকার রক্ষা এবং সুদ, হত্যা ও প্রতিশোধের প্রথা বাতিল করা হয়েছে।
    ৪. কুরআন-সুন্নাহর অনুসরণ: এ দুটি আঁকড়ে ধরলে মানুষ পথভ্রষ্ট হবে না।

    সুতরাং, বিদায় হজের ভাষণ একটি আদর্শ, শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের স্থায়ী দিকনির্দেশনা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন