কৃষিশিক্ষা • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২
কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন
পুকুর হচ্ছে চাষযোগ্য মাছের বাসস্থান। মাছ চাষের পুকুরে কিছু বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার যা চাষ প্রক্রিয়াকে লাভজনক করে তোলে। তা ছাড়া মাছ চাষের পুকুরের পানির দুই ধরনের, যথা— ক. ভৌত খ. রাসায়নিক গুণাগুণ থাকে যা মাছের বেঁচে থাকা, খাদ্য গ্রহণ ও আশানুরূপ বৃদ্ধির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- ক)(1)
প্লাংকটন কী?
- খ)(2)
পুকুরে চুন প্রয়োগ করা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘ক’ এর গুণাগুণমূহ কীভাবে মাছ চাষের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে? তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
প্লাংকটন হলো পানিতে ভাসমান ক্ষুদ্র উদ্ভিদ ও প্রাণী, যা মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য।
- খ)
পুকুরে চুন প্রয়োগের কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো।
১. চুন পানির অম্লত্ব কমিয়ে pH ঠিক রাখে।
২. এটি পুকুরের তলদেশের ক্ষতিকর জীবাণু ও পরজীবী ধ্বংস করে।
৩. পানির ঘোলাটে ভাব দূর করে এবং প্লাংকটন উৎপাদন বাড়ায়। - গ)
উদ্দীপকে মাছ চাষের পুকুরের বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে। চাষ লাভজনক করতে পুকুরের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
১. অবস্থান: পুকুর খোলামেলা হবে যাতে পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায়। বড় গাছের ছায়া বেশি না থাকা ভালো।
২. আকার ও গভীরতা: আয়তাকার ও প্রায় ১-২ মিটার গভীর হলে পরিচর্যা সহজ হয়।
৩. মাটি: দোআঁশ বা এঁটেল-দোআঁশ মাটি ভালো, যাতে পানি ধরে রাখে।
৪. পানির উৎস: সারা বছর পানি থাকা ও সহজে পানি দেওয়া-নেওয়ার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
৫. নিরাপত্তা: বন্যামুক্ত এবং ক্ষতিকর প্রাণীর আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত হওয়া উচিত। - ঘ)
উদ্দীপকের 'ক' হলো পানির ভৌত গুণাগুণ। মাছ চাষে এগুলোর প্রভাব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।
১. তাপমাত্রা: পানির উপযুক্ত তাপমাত্রা মাছের খাদ্য গ্রহণ, বৃদ্ধি ও বংশবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করে। তাপমাত্রা অতিরিক্ত বাড়লে বা কমলে মাছ দুর্বল হয়।
২. স্বচ্ছতা: পানির স্বচ্ছতা প্লাংকটনের পরিমাণ নির্দেশ করে। অতিরিক্ত ঘোলা পানিতে আলো প্রবেশ কমে যায়, ফলে প্লাংকটন কম জন্মে।
৩. রং: পানির সবুজাভ রং প্রাকৃতিক খাদ্য প্রচুর থাকার ইঙ্গিত দেয়।সুতরাং, পানির ভৌত গুণাগুণ ঠিক থাকলে মাছ সুস্থভাবে বেড়ে ওঠে এবং চাষ লাভজনক হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও