পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

'ক' ও 'খ' রাষ্ট্র দুইটি পাশাপাশি হলেও রাষ্ট্রব্যবস্থা ভিন্ন। 'ক' রাষ্ট্রে শাসন ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে। জনগণ স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ ও সরকারের সমালোচনা করতে পারে। অন্যদিকে 'খ' রাষ্ট্রে শাসন ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত না থেকে একজন শাসকের হাতে ন্যস্ত থাকে। এই রাষ্ট্রে একটিমাত্র রাজনৈতিক দল থাকায় এই দলের নেতাই সরকার প্রধান হয়।

  1. ক)

    অর্থনীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র কত ধরনের?

    (1)
  2. খ)

    সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    'খ' রাষ্ট্রটির শাসন ব্যবস্থার ধরন ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ক' রাষ্ট্রটি জনগণের দ্বারা জনগণের কল্যাণার্থে পরিচালিত একটি শাসন ব্যবস্থা-উক্তিটির যৌস্তকতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    অর্থনীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র ২ ধরনের: ধনতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক।

  2. খ)

    সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হলো এমন রাষ্ট্র, যেখানে উৎপাদনের উপকরণ ও সম্পদের মালিকানা ব্যক্তির হাতে না থেকে রাষ্ট্র বা সমাজের হাতে থাকে। এখানে ব্যক্তিগত মুনাফার চেয়ে সমষ্টির কল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়া হয় এবং সম্পদের সুষম বণ্টনের চেষ্টা করা হয়। সবার জন্য কর্মসংস্থান ও মৌলিক চাহিদা পূরণ রাষ্ট্রের দায়িত্ব। চীন বা কিউবাকে এর উদাহরণ হিসেবে ধরা হয়।

  3. গ)

    উদ্দীপকের 'খ' রাষ্ট্রে শাসন ক্ষমতা জনগণের হাতে না থেকে একজন শাসকের হাতে ন্যস্ত এবং একটিমাত্র রাজনৈতিক দল থাকায় সেই দলের নেতাই সরকার প্রধান হন। এ বৈশিষ্ট্যগুলো একনায়কতন্ত্র শাসনব্যবস্থাকে নির্দেশ করে।

    ব্যাখ্যা: একনায়কতন্ত্রে সব ক্ষমতা একজন ব্যক্তি বা একটি দলের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে। এখানে সাধারণত একদলীয় ব্যবস্থা চালু থাকে এবং বিরোধী দলের অস্তিত্ব স্বীকৃত হয় না। জনগণের মতপ্রকাশ ও সরকারের সমালোচনার স্বাধীনতা সীমিত থাকে। শাসক জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নন। 'খ' রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায় এসব বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    আব্রাহাম লিংকনের মতে, গণতন্ত্র হলো জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের জন্য পরিচালিত শাসনব্যবস্থা। উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য ধারণ করায় উক্তিটি যৌক্তিক।

    ১. জনগণের সরকার: 'ক' রাষ্ট্রে শাসন ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত। জনগণ ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করে সরকার গঠন করে।
    ২. জনগণের দ্বারা: জনগণ স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ ও সরকারের সমালোচনা করতে পারে, যার ফলে শাসনকাজে তাদের অংশগ্রহণ ও নিয়ন্ত্রণ থাকে।
    ৩. জনগণের কল্যাণার্থে: জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহি থাকায় সরকার জনস্বার্থ বিবেচনা করে নীতি গ্রহণ করে এবং জনকল্যাণমূলক কাজ করে।

    অতএব, 'ক' রাষ্ট্র জনগণের দ্বারা জনগণের কল্যাণার্থে পরিচালিত শাসনব্যবস্থা—উক্তিটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন