পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

জনাব 'A' একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মানিত ব্যক্তি। তিনি ইচ্ছা করলে একজন ফাঁসির আসামিকে মুক্তি দিতে পারেন। অপরদিকে 'B' ঐ দেশের শাসনব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু। তার অনুপস্থিতিতে দেশের শাসনব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। এমনকি জনাব 'A' গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য 'B' এর সাথে পরামর্শ করে থাকেন।

  1. ক)

    কেন্দ্রীয় প্রশাসন কী?

    (1)
  2. খ)

    আইনসভা কীভাবে শাসনবিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    জনাব 'A' বাংলাদেশের সরকারের কার প্রতিনিধিত্ব করেন? তাঁর কার্যাদি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "জনাব 'B' দেশের শাসনব্যবস্থার মধ্যমণি" বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    রাজধানী থেকে দেশের সামগ্রিক প্রশাসন পরিচালনার জন্য যে প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে ওঠে, যার মধ্যে মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদপ্তর অন্তর্ভুক্ত, তাকে কেন্দ্রীয় প্রশাসন বলে।

  2. খ)

    আইনসভা বিভিন্ন উপায়ে শাসনবিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে।

    ১. প্রশ্ন ও আলোচনা: সংসদ সদস্যরা মন্ত্রীদের প্রশ্ন করেন এবং সরকারি নীতি ও কাজের সমালোচনা করেন।
    ২. অনাস্থা প্রস্তাব: সংসদ অনাস্থা প্রস্তাব পাস করলে মন্ত্রিসভাকে পদত্যাগ করতে হয়।
    ৩. বাজেট অনুমোদন: সরকার সংসদের অনুমোদন ছাড়া অর্থ ব্যয় করতে পারে না।
    ৪. সংসদীয় কমিটি: কমিটির মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের কাজ তদারকি করা হয়।

  3. গ)

    জনাব 'A' বাংলাদেশের সরকারের রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধিত্ব করেন, যিনি রাষ্ট্রের প্রধান।

    ফাঁসির আসামিকে মুক্তি বা দণ্ড মওকুফের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির আছে এবং তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মানিত ব্যক্তি। তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন।

    রাষ্ট্রপতির কার্যাদি:
    ১. প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং তাঁর পরামর্শে অন্যান্য মন্ত্রী নিয়োগ করা।
    ২. সংসদের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত ও ভেঙে দেওয়া।
    ৩. সংসদে পাস হওয়া বিলে সম্মতি দেওয়া।
    ৪. প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারক নিয়োগ করা।
    ৫. কোনো দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করা।
    ৬. সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন।

  4. ঘ)

    "জনাব 'B' দেশের শাসনব্যবস্থার মধ্যমণি", এ কথা সম্পূর্ণ সত্য। 'B' হলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অনুপস্থিতিতে দেশের শাসনব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। এর কারণ:

    ১. মন্ত্রিসভার প্রধান: তিনি মন্ত্রিসভা গঠন করেন, মন্ত্রীদের মধ্যে কাজ বণ্টন করেন ও মন্ত্রণালয় পরিচালনা তদারকি করেন।
    ২. সংসদ নেতা: সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে আইন প্রণয়নে মুখ্য ভূমিকা রাখেন।
    ৩. নীতি নির্ধারণ: সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত তাঁর নেতৃত্বেই ঠিক হয়।
    ৪. রাষ্ট্রপতির পরামর্শদাতা: রাষ্ট্রপতি অধিকাংশ কাজ প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে করেন, উদ্দীপকে 'A' ও 'B' এর সাথে পরামর্শ করেন।
    ৫. দেশের প্রতিনিধিত্ব: তিনি দেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্ব করেন।

    সুতরাং, শাসনব্যবস্থার সব সূত্র প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করে ঘোরে বলে 'B' দেশের শাসনব্যবস্থার মধ্যমণি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন