অর্থনীতি • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪

অর্থনীতি প্রশ্ন

মি. জামিলের দেশে উৎপাদন ও ভোগ কার্যক্রম সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত হয়। অন্যদিকে মি. জামিলের বন্ধু মি, হাবিবের দেশের জনগণ উৎপাদন ও ভোগের ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।

  1. ক)

    অধ্যাপক আলফ্রেড মার্শাল কর্তৃক প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞা দাও।

    (1)
  2. খ)

    সমাজে মানুষ সর্বদা একটি দেওয়া-নেওয়ার (Trade offs) নীতি মেনে চলেন- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত মি. জামিলের দেশে কোন ধরনের অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মি. হাবিবের দেশে প্রচলিত অর্থব্যবস্থার নাম উল্লেখপূর্বক চারটি বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    অধ্যাপক আলফ্রেড মার্শালের মতে, অর্থনীতি মানবজীবনের সাধারণ কাজকর্মের আলোচনা; এটি ব্যক্তিগত ও সামাজিক কার্যাবলির সেই অংশ পরীক্ষা করে যা বস্তুগত কল্যাণ অর্জন ও তার ব্যবহারের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।

  2. খ)

    সম্পদ সীমিত বলে কোনো কিছু পেতে হলে অন্য কিছু ছাড়তে হয়। একে বলা হয় দেওয়া-নেওয়ার নীতি (Trade-offs)। যেমন, একজন ছাত্র খেলার সময়টুকু পড়াশোনায় দিলে বিনোদন ছাড়তে হয়। সরকারও একই টাকা সড়ক নির্মাণে খরচ করলে স্বাস্থ্যখাতে কম বরাদ্দ দিতে পারে। এভাবে ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্র সবাইকে একটির বিনিময়ে আরেকটি ত্যাগ করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

  3. গ)

    উদ্দীপকে মি. জামিলের দেশে উৎপাদন ও ভোগ সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত হয়। যে অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণের মালিকানা ও পরিচালনা রাষ্ট্রের হাতে থাকে এবং সরকারই সিদ্ধান্ত নেয় কী, কীভাবে ও কার জন্য উৎপাদন হবে, তাকে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা (Socialist Economy) বলে। এখানে ব্যক্তিগত মালিকানা প্রায় থাকে না এবং কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে সম্পদ বণ্টিত হয়। সুতরাং, মি. জামিলের দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকে মি. হাবিবের দেশের জনগণ উৎপাদন ও ভোগে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এই অর্থব্যবস্থার নাম ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা (Capitalist Economy)। এর চারটি বৈশিষ্ট্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।

    ১. ব্যক্তিগত মালিকানা: জমি, কারখানা ও মূলধনের ওপর ব্যক্তির মালিকানা ও তা ব্যবহারের স্বাধীনতা থাকে।
    ২. মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্য: উৎপাদনকারী সর্বোচ্চ মুনাফার লক্ষ্যে উৎপাদন করে, যা কাজে প্রণোদনা জোগায়।
    ৩. ভোক্তার সার্বভৌমত্ব ও দাম ব্যবস্থা: ভোক্তা নিজের পছন্দমতো পণ্য কেনে এবং দাম চাহিদা-জোগানের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।
    ৪. প্রতিযোগিতা ও সীমিত সরকারি হস্তক্ষেপ: বাজারে উৎপাদকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকে এবং সরকারের ভূমিকা সীমিত।

    সুতরাং, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও মুনাফাভিত্তিক প্রতিযোগিতাই ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার প্রধান পরিচয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন