বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৪
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
আরমানের মৃত্যুর পর তার দুই ছেলের মধ্যে সম্পদের বণ্টন নিয়ে দ্বন্দ্ব বাঁধে। বণ্টননামা অনুসারে যৌথভাবে সংসার চালানোর কথা থাকলেও বাবার রেখে যাওয়া দোকান দেখার দায়িত্ব নেন বড় ছেলে লোকমান ও সংসার খরচের দায়িত্ব পান ছোট ছেলে খলিল। খলিলের তেমন আয় না থাকায় সংসার চালাতে খলিল ব্যর্থ হন। অপরপক্ষে মূল আয়ের অর্থ লোকমান নিলেও তার তেমন খরচ ছিল না। উদ্ভূত জটিল পরিস্থিতির সমাধানকল্পে সংসার চালানোসহ সকল দায়িত্ব বড় ভাই লোকমান স্থায়ীভাবে গ্রহণ করেন।
- ক)(1)
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর কী?
- খ)(2)
ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এ দেশ-ত্যাগ করে কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সম্পদ বণ্টন প্রক্রিয়ার সাথে বাংলার কোন বিশেষ ধরনের শাসনব্যবস্থার মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"উক্ত শাসনব্যবস্থার পর ভূমি ব্যবস্থাপনায় বৃটিশরা স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণ করেন"-বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর হলো ১১৭৬ বঙ্গাব্দে (১৭৭০ খ্রিষ্টাব্দে) বাংলায় সংঘটিত ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, যাতে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মারা যায়।
- খ)
ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ইংরেজদের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় টিকতে পারেনি।
পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলায় ইংরেজদের প্রভাব বেড়ে যায়। পরে ভারতে ইংরেজদের কাছে ফরাসিরা বারবার পরাজিত হয় এবং তাদের শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে ফরাসিরা এদেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। - গ)
উদ্দীপকের সম্পদ বণ্টন প্রক্রিয়ার সঙ্গে বাংলার দ্বৈত শাসনব্যবস্থার মিল পাওয়া যায়।
১৭৬৫ সালে রবার্ট ক্লাইভ বাংলায় দ্বৈত শাসন চালু করেন। এতে দেওয়ানি বা রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব ছিল কোম্পানির হাতে, আর নিজামত বা শাসন ও বিচারের দায়িত্ব নবাবের কাছে। উদ্দীপকেও আয় লোকমানের হাতে, খরচের দায়িত্ব খলিলের হাতে ছিল।
ফলে ক্ষমতা ও দায়িত্ব আলাদা হয়ে সমস্যা তৈরি হয়। লোকমানের সব দায়িত্ব স্থায়ীভাবে নেওয়ার মতোই ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন তুলে দেন।
সুতরাং, উদ্দীপকের বণ্টন প্রক্রিয়া দ্বৈত শাসনের অনুরূপ। - ঘ)
দ্বৈত শাসনের পর ব্রিটিশরা ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিসের মাধ্যমে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করে।
১. দ্বৈত শাসনের ব্যর্থতা: দ্বৈত শাসনে ক্ষমতা ও দায়িত্বের বিভাজনে প্রশাসন ভেঙে পড়ে, রাজস্ব আদায়ও অনিশ্চিত হয়। স্থায়ী ও সুসংহত ভূমি ব্যবস্থার প্রয়োজন দেখা দেয়।
২. পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা: পাঁচশালা ও দশশালা বন্দোবস্তে সমস্যার সমাধান হয়নি, তাই স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
৩. নিশ্চিত আয়: জমিদারদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে রাজস্ব পাওয়ায় কোম্পানির আয় স্থির হয় এবং জমিদার শ্রেণি ইংরেজদের অনুগত থাকে।
সুতরাং, দ্বৈত শাসনের সমস্যা কাটিয়ে ওঠার জন্যই ব্রিটিশরা চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত গ্রহণ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও