হিন্দু ধর্ম • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৭
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
বিনয় নামে একদা ভারতবর্ষে এক মহামানব এসেছিলেন। তিনি ছোট বেলায় খুব মেধাবী ছিলেন। পড়াশুনা অপেক্ষা ধর্মের প্রতি মন ছিল তাঁর বেশি। খেলার পরিবর্তে মন্দিরে গিয়ে বসে থাকতে তাঁর ভাল লাগত। শ্রীকৃষ্ণকে কীভাবে পাওয়া যায় এই ছিল তাঁর ধ্যান জ্ঞান। মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি পিতামাতার অনুমতি নিয়ে গৃহত্যাগ করেন। নবদ্বীপের জগাই-মাধাইকে কৃষ্ণনামে উদ্ধার করেন। আজো লাখো মানুষের হৃদয়ে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- ক)(1)
নিমাই পণ্ডিতের অপর নাম কী?
- খ)(2)
কুবেরের নাম কীভাবে নিত্যানন্দ হলো?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ব্যক্তির বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
'বিনয় যেন নিত্যানন্দেরই প্রতিচ্ছবি'- মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
নিমাই পণ্ডিতের অপর নাম শ্রীগৌরাঙ্গ বা শ্রীচৈতন্য।
- খ)
নিত্যানন্দের প্রকৃত নাম ছিল কুবের। বৃন্দাবন থেকে স্বপ্নে কৃষ্ণের আদেশে তিনি নবদ্বীপে যান। সেখানে নন্দন আচার্যের গৃহে নিমাই পণ্ডিতের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়।
দুজন দুজনকে চিনতে পারেন, যেন জীবোদ্ধারের জন্য একই সত্তা দুই দেহে আবির্ভূত। সেদিন থেকেই কুবেরের নতুন নাম হয় নিত্যানন্দ। সংক্ষেপে তাঁকে নিতাই বলা হয়।
- গ)
উদ্দীপকের বিনয় নামের মহামানবের বৈশিষ্ট্যগুলো পাঠ্যবইয়ের প্রভু নিত্যানন্দের জীবনের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ মেলে। বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে আলোচনা করা হলো।
১. মেধাবী: ছোটবেলায় তিনি খুব মেধাবী ছিলেন। নিত্যানন্দও ছাত্র হিসেবে মেধাবী ছিলেন।
২. ধর্মানুরাগ: তাঁর মন পড়াশোনার চেয়ে ধর্মের প্রতি বেশি ছিল। খেলার বদলে মন্দিরে গিয়ে বসে থাকতেন, ধর্মকথা শুনতেন।
৩. কৃষ্ণভক্তি: শ্রীকৃষ্ণকে কীভাবে পাওয়া যায়, এটাই ছিল তাঁর ধ্যানজ্ঞান। কুবেরও সারাক্ষণ কৃষ্ণচিন্তায় বিভোর থাকতেন।
৪. গৃহত্যাগ: মাত্র ১২ বছর বয়সে পিতা-মাতার অনুমতি নিয়ে তিনি গৃহত্যাগ করেন। কুবেরও বারো বছর বয়সে পিতামাতার সম্মতি নিয়ে সন্ন্যাসীর সঙ্গে গৃহত্যাগ করেন।
৫. মানবকল্যাণ: তিনি নবদ্বীপের মদ্যপ জগাই-মাধাইকে কৃষ্ণনামে উদ্ধার করেন, যা নিত্যানন্দের প্রেমভক্তি ও ক্ষমার দৃষ্টান্ত। তাঁর প্রেমধর্মে জাতিভেদ ছিল না।
এসব বৈশিষ্ট্য তাঁকে লক্ষ মানুষের হৃদয়ে অমর করে রেখেছে।
- ঘ)
“বিনয় যেন নিত্যানন্দেরই প্রতিচ্ছবি”, মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকের বিনয়ের জীবন ও কর্মের সঙ্গে প্রভু নিত্যানন্দের জীবনের চমৎকার মিল রয়েছে।
নিত্যানন্দের পরিচয়: ১৪৭৩ সালে বীরভূমের একচক্রা গ্রামে নিত্যানন্দ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম কুবের। তিনি শ্রীগৌরাঙ্গের সঙ্গী হয়ে নবদ্বীপে প্রেমভক্তি প্রচার করেন।
১. বাল্যজীবনের মিল: বিনয় মেধাবী হলেও পড়াশোনার চেয়ে ধর্মে বেশি আগ্রহী ছিলেন এবং খেলার বদলে মন্দিরে বসে থাকতে ভালোবাসতেন। কুবেরও পড়াশোনায় মনোযোগী না হয়ে মন্দিরে বসে থাকতে পছন্দ করতেন।
২. কৃষ্ণ-অনুরাগ ও গৃহত্যাগ: শ্রীকৃষ্ণকে পাওয়ার ব্যাকুলতা দুজনেরই ছিল। দুজনই বারো বছর বয়সে পিতা-মাতার অনুমতি নিয়ে গৃহত্যাগ করেন।
৩. প্রেমভক্তিতে উদ্ধার: নিত্যানন্দ মাধাইয়ের আঘাতেও রাগ না করে কৃষ্ণনাম গেয়ে জগাই-মাধাইকে প্রেমভক্তিতে উদ্ধার করেন। উদ্দীপকের বিনয়ও জগাই-মাধাইকে কৃষ্ণনামে উদ্ধার করেন। এখানে ক্ষমা ও ভালোবাসার আদর্শ ফুটে ওঠে।
৪. চিরস্মরণীয়তা: নিত্যানন্দের প্রেমধর্মে জাতিভেদ ছিল না, তাই দলে দলে মানুষ তাঁর অনুসারী হয়েছিল। বিনয়ও আজও লক্ষ মানুষের হৃদয়ে অমর।
তবে উদ্দীপকের বিনয়ের গৃহত্যাগের পর পরিণতি নিয়ে কিছু বলা হয়নি, যেখানে নিত্যানন্দ পরে সংসারী হয়েছিলেন। কিন্তু মূল বৈশিষ্ট্য ও কর্ম একই।
সুতরাং, বিনয় সত্যিই নিত্যানন্দের প্রতিচ্ছবি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও