ভূগোল এবং পরিবেশ • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩
ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: ভূগোল ক্লাসে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের আকাশের এক বিস্ময়কর জ্যোতিষ্কের বর্ণনা দিয়ে বললেন, জ্যোতিষ্কটির লম্বা লেজ রয়েছে।দৃশ্যকল্প-২: মাহিন ও নিতাই বন্ধু। মাহিন সুইডেনে (৬৬.৫° উত্তর অক্ষাংশ) বসবাস করে। অপরদিকে নিতাই ক্যানবেরায় (৩৫° দক্ষিণ অক্ষাংশ) বাস করে। মাহিন ২০ ডিসেম্বর নিতাই এর সাথে ফোনে কথা বলে তার খোঁজ খবর নেয়।
- ক)(1)
দ্রাঘিমা কাকে বলে?
- খ)(2)
কানাডাতে প্রমাণ সময় একাধিক কেন?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত জ্যোতিষ্কটির বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
মাহিনের ফোনে কথা বলার তারিখে দুটি শহরে কি একই ঋতু বিরাজ করেছিল? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি প্রদর্শন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
কোনো স্থানের পূর্ব বা পশ্চিমে গ্রিনিচ মধ্যরেখা থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত কোণিক দূরত্বকে দ্রাঘিমা বলে।
- খ)
কানাডা পূর্ব-পশ্চিমে অনেক বিস্তৃত বিশাল দেশ। একটি স্থানের দ্রাঘিমা অনুযায়ী পুরো দেশের সময় নির্ধারণ করলে পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের মধ্যে সময়ের বড় ব্যবধান হয়ে সময় গণনায় বিভ্রাট ঘটে। এ বিভ্রাট এড়াতে কানাডায় একাধিক প্রমাণ সময় ব্যবহার করা হয়।
- গ)
দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত লম্বা লেজবিশিষ্ট বিস্ময়কর জ্যোতিষ্কটি হলো ধূমকেতু (Comet)।
ধূমকেতু কী: ধূমকেতু সৌরজগতের একটি সদস্য। সূর্য, গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণুপুঞ্জ ও উল্কার সাথে ধূমকেতুও সৌরজগৎ গঠন করেছে। এটি সূর্যকে কেন্দ্র করে লম্বা ডিম্বাকৃতি কক্ষপথে ঘোরে।
বৈশিষ্ট্য:
১. ধূমকেতুর একটি উজ্জ্বল মাথা বা কেন্দ্র এবং একটি লম্বা লেজ থাকে। এটি মূলত বরফ, ধূলিকণা ও জমাট গ্যাসে গঠিত।
২. সূর্যের কাছে এলে তাপে এর বরফ গলে গ্যাসে পরিণত হয় এবং ধূলিকণাসহ সূর্যের বিপরীত দিকে লেজের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এজন্য লেজ সবসময় সূর্যের উল্টো দিকে থাকে।
৩. সূর্য থেকে দূরে সরে গেলে লেজ ছোট হয়ে যায় বা অদৃশ্য হয়।
৪. নির্দিষ্ট সময় পর পর কিছু ধূমকেতু আকাশে দেখা যায়।উদ্দীপকের সাথে সম্পর্ক: শিক্ষক আকাশের যে বিস্ময়কর জ্যোতিষ্কটির লম্বা লেজের কথা বলেছেন, তা ধূমকেতুর বৈশিষ্ট্যের সাথে মিলে যায়। সুতরাং, জ্যোতিষ্কটি ধূমকেতু।
- ঘ)
মাহিনের ফোনে কথা বলার তারিখ ২০ ডিসেম্বরে দুটি শহরে একই ঋতু বিরাজ করেনি। সুইডেনে তখন শীতকাল এবং ক্যানবেরায় গ্রীষ্মকাল।
ঋতু পরিবর্তনের কারণ: পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার সময় অক্ষ হেলে থাকার ফলে সূর্যরশ্মি কখনো উত্তর গোলার্ধে এবং কখনো দক্ষিণ গোলার্ধে লম্বভাবে পড়ে। এতেই দুই গোলার্ধে ভিন্ন ঋতু দেখা যায়। ২১ জুন সূর্য কর্কটক্রান্তিতে এবং ২২ ডিসেম্বর মকরক্রান্তিতে লম্বভাবে কিরণ দেয়।
১. সূর্যের অবস্থান: ২০ ডিসেম্বর অর্থাৎ ২২ ডিসেম্বরের কাছাকাছি সময়ে সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে মকরক্রান্তি রেখার ( দক্ষিণ) কাছাকাছি লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে উত্তর গোলার্ধ সূর্য থেকে দূরে সরে থাকে।
২. সুইডেনের অবস্থা: মাহিন ৬৬.৫° উত্তর অক্ষাংশে সুইডেনে বাস করে, যা উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত। এখানে সূর্যরশ্মি অত্যন্ত তির্যকভাবে পড়ে, দিন ছোট ও রাত দীর্ঘ হয় এবং প্রচণ্ড শীত পড়ে। তাই তখন সুইডেনে শীতকাল।
৩. ক্যানবেরার অবস্থা: নিতাই ৩৫° দক্ষিণ অক্ষাংশে ক্যানবেরায় থাকে, যা দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত। সূর্য মকরক্রান্তির কাছাকাছি থাকায় এখানে রশ্মি প্রায় লম্বভাবে পড়ে, দিন বড় ও রাত ছোট হয় এবং গরম বেশি থাকে। তাই তখন ক্যানবেরায় গ্রীষ্মকাল।
৪. গোলার্ধভেদে বিপরীত ঋতু: এ কারণেই দুই গোলার্ধে একই সময়ে ঋতু বিপরীত হয়। যখন উত্তর গোলার্ধে শীত, তখন দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্ম।সুতরাং, দুটি শহর দুই ভিন্ন গোলার্ধে অবস্থিত হওয়ায় ২০ ডিসেম্বর সুইডেনে শীত এবং ক্যানবেরায় গ্রীষ্ম বিরাজ করেছিল। অর্থাৎ ঋতু এক ছিল না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও