ভূগোল এবং পরিবেশ • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩
ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন
শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে মার্বেল, কোয়ার্টজাইট, গ্রাফাইট নামক শিলাগুলো হাতে নিয়ে শিক্ষাথীদের, দেখালেন এবং আলোচনা করলেন। তিনি অন্যান্য কিছু শিলা শিক্ষার্থীদের দেখতে বললেন। রিতু ও বিথী ব্যাসল্ট, চুনাপাথর নামক শিলাগুলো হাতে নিয়ে পর্যবেক্ষণ করল।
- ক)(1)
শিলা কাকে বলে?
- খ)(2)
ধীর পরিবর্তন বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
শিক্ষক যে শিলাগুলো নিয়ে আলোচনা করলেন সেগুলোর গঠন প্রক্রিয়া গঠন প্রক্রিয়া বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
রিতু ও বিথীর দেখা শিলাগুলোর বৈশিষ্ট্যর তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ভূত্বক গঠনকারী সকল কঠিন ও কোমল পদার্থকে শিলা বলে। যেমন: নুড়ি, কাঁকর, গ্রানাইট, কাদা, বালি। শিলা এক বা একাধিক খনিজের মিশ্রণ।
- খ)
অনেকগুলো প্রাকৃতিক শক্তি, যেমন সূর্যতাপ, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত, নদী ও হিমবাহ দ্বারা ভূপৃষ্ঠের যে পরিবর্তন ধীরে ধীরে ঘটে এবং বিশাল এলাকা জুড়ে হয়, তাকে ধীর পরিবর্তন বলে। এতে শিলা ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়, অপসারিত হয় ও অন্যত্র জমা হয়। এভাবে পর্যায়ক্রমে ভূমিরূপ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নতুন ভূমিরূপে পরিণত হয়।
- গ)
শিক্ষকের আলোচিত শিলাগুলো (মার্বেল, কোয়ার্টজাইট, গ্রাফাইট) রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic Rocks)।
গঠন প্রক্রিয়া: আগ্নেয় ও পাললিক শিলা যখন ভূআন্দোলন, অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, ভূগর্ভের প্রচণ্ড তাপ, চাপ ও রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে রূপ পরিবর্তন করে নতুন রূপ নেয়, তখন রূপান্তরিত শিলা তৈরি হয়। যেমন:
১. চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল
২. বেলেপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টজাইট
৩. কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইটএই শিলা স্ফটিকযুক্ত, খুব কঠিন এবং এতে জীবাশ্ম দেখা যায় না।
- ঘ)
রিতু ও বিথী ব্যাসল্ট ও চুনাপাথর দেখেছে। ব্যাসল্ট আগ্নেয় শিলা (বহিঃজ) এবং চুনাপাথর পাললিক শিলা। দুটির তুলনা:
বিষয় ব্যাসল্ট (আগ্নেয়) চুনাপাথর (পাললিক) গঠন ভূগর্ভের গলিত ম্যাগমা বা লাভা ঠান্ডা হয়ে জমাট বেঁধে পলল বা তলানি স্তরে স্তরে জমে তাপ ও চাপে কঠিন হয়ে স্তর স্তরবিহীন (অস্তরীভূত) স্তরীভূত কাঠিন্য কঠিন ও কম ভঙ্গুর, ভারী নরম ও হালকা, সহজে ক্ষয় হয় গঠন-বৈশিষ্ট্য স্ফটিকাকার ছিদ্রযুক্ত জীবাশ্ম থাকে না অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় সুতরাং, আগ্নেয় শিলা প্রাথমিক ও কঠিন, আর পাললিক শিলা পলি জমে সৃষ্ট, নরম ও স্তরীভূত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও