বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
- ক)(1)
প্রাচীন যুগ কাকে বলে?
- খ)(2)
মানুষের জীবনাচরণে ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের প্রভাব ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
চিত্র-১ যে জনপদের প্রতিনিধিত্ব করছে তার ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
চিত্র-১ এবং চিত্র-২ এ নির্দেশিত জনপদ থেকেই কি প্রাচীন বাংলার সম্পূর্ণ সীমারেখা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
মানব ইতিহাসে লিখিত তথ্যের সূচনা থেকে মধ্যযুগ শুরুর আগ পর্যন্ত সময়কে প্রাচীন যুগ বলা হয়।
- খ)
মানুষের জীবনযাপন ভৌগোলিক পরিবেশের ওপর অনেকটা নির্ভর করে। নদীবহুল উর্বর এলাকায় মানুষ কৃষিকাজ করে এবং ঘনবসতি গড়ে তোলে। পাহাড়ি এলাকায় ফসল কম হয়, তাই বসতি কম থাকে। এছাড়া ভৌগোলিক অবস্থা মানুষের খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান, পেশা ও যাতায়াতব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করে।
- গ)
চিত্র-১-এ মহাস্থানগড় দেখা যাচ্ছে, যা প্রাচীন বাংলার পুণ্ড্র জনপদের প্রতিনিধিত্ব করছে।
মহাস্থানগড় বর্তমান বগুড়া জেলায় করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত। প্রাচীনকালে এর নাম ছিল পুণ্ড্রনগর বা পুণ্ড্রবর্ধন। এটি ছিল পুণ্ড্র জনপদের রাজধানী। এখানে ব্রাহ্মী লিপিতে লেখা শিলালিপি পাওয়া গেছে, যা এই জনপদের প্রাচীনত্ব ও গুরুত্বের প্রমাণ।
- ঘ)
চিত্র-১ মহাস্থানগড় (পুণ্ড্র জনপদ) এবং চিত্র-২ শালবন বিহার (সমতট জনপদ)। আমার মতে এই দুটি জনপদ থেকে প্রাচীন বাংলার সম্পূর্ণ সীমারেখা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব নয়।
১. জনপদের সংখ্যা: প্রাচীন বাংলায় পুণ্ড্র ও সমতট ছাড়াও গৌড়, বঙ্গ, রাঢ়, হরিকেল প্রভৃতি জনপদ ছিল। দুটি জনপদ পুরো ভূখণ্ড বোঝায় না।
২. ভৌগোলিক বিস্তার: পুণ্ড্র ছিল উত্তরাঞ্চলে এবং সমতট দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে। পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমের অঞ্চল এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।
৩. সীমার পরিবর্তন: বিভিন্ন শাসকের আমলে জনপদগুলোর সীমা বদলে গেছে, তাই এক সময়ের চিত্র থেকে সর্বকালের সীমা জানা যায় না।সুতরাং, সব জনপদ ও তাদের সম্মিলিত বিস্তার না জানলে প্রাচীন বাংলার সম্পূর্ণ সীমারেখা বোঝা সম্ভব নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও