পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৪

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

উচ্চশিক্ষার জন্য মিঃ 'X' পশ্চিমা একটি দেশে অবস্থান করছে। সে লক্ষ করলো দেশটিতে কোনো সংবিধান নেই। জনগণের ইচ্ছার ভিত্তিতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নিয়মনীতি ও রীতি-নীতি অনুসরণ করে দেশ পরিচালিত হচ্ছে।অপরদিকে তার বন্ধু মিঃ 'Y' এর বসবাসকৃত দেশটিতে একটি পরিষদ কর্তৃক আইন প্রণীত অয় এবং দুই-তৃতীয়াংশের সম্মতিতে তা সংশোধন করা হয়।

  1. ক)

    বাংলাদেশের সংবিধান কত তারিখে গণপরিষদে, কর্তৃক গৃষীত হয়?

    (1)
  2. খ)

    অলিখিত সংবিধান বলতে কী বোঝ

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত মিঃ 'X' এর অবস্থানরত দেশে কী প্রক্রিয়ায় সংবিধান গড়ে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত মিঃ 'Y'-এর বসবাসরত রাষ্ট্রের সংবিধান কি সুপরিবর্তনীয়? তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।

  2. খ)

    যে সংবিধান কোনো একটি দলিলে লিখিত আকারে থাকে না, বরং দীর্ঘদিনের প্রথা, রীতিনীতি, ঐতিহ্য ও বিচারালয়ের রায়ের মাধ্যমে গড়ে ওঠে, তাকে অলিখিত সংবিধান বলে। এর অধিকাংশ বিধান অলিখিত থাকে এবং সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে বিকশিত হয়। ইংল্যান্ডের সংবিধান অলিখিত সংবিধানের প্রধান উদাহরণ।

  3. গ)

    মিঃ 'X'-এর দেশে কোনো সংবিধান নেই এবং বিভিন্ন সময়ে জনগণের ইচ্ছায় নিয়মনীতি ও রীতিনীতির মাধ্যমে দেশ চলছে। এটি অলিখিত সংবিধান, যা ক্রমবিকাশ বা বিবর্তনের মাধ্যমে গড়ে ওঠে।

    প্রক্রিয়া: এই পদ্ধতিতে সংবিধান কোনো এক সময়ে বা এক সভায় তৈরি হয় না। দীর্ঘ সময় ধরে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রয়োজনে প্রচলিত প্রথা, ঐতিহ্য, সংসদ-প্রণীত আইন এবং আদালতের রায় ধীরে ধীরে জমা হয়ে সংবিধানের রূপ নেয়। ইংল্যান্ডের সংবিধান এভাবেই বিকশিত হয়েছে। এখানে নতুন পরিস্থিতিতে সহজেই পরিবর্তন সম্ভব।

  4. ঘ)

    মিঃ 'Y'-এর রাষ্ট্রে একটি পরিষদ কর্তৃক আইন প্রণীত হয় এবং দুই-তৃতীয়াংশের সম্মতিতে তা সংশোধন করা হয়। এ বৈশিষ্ট্য থেকে বোঝা যায়, সংবিধানটি সুপরিবর্তনীয় নয়, বরং দুষ্পরিবর্তনীয়।

    ১. বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার শর্ত: সুপরিবর্তনীয় সংবিধান সাধারণ আইনের মতো সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সংশোধন করা যায়। কিন্তু 'Y' রাষ্ট্রে দুই-তৃতীয়াংশের সম্মতি লাগে, যা কঠিন শর্ত।
    ২. সংবিধান ও সাধারণ আইনের পার্থক্য: দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধানে সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি সাধারণ আইনের চেয়ে জটিল হয়। এখানেও সংশোধনের জন্য আলাদা ও কঠোর পদ্ধতি রয়েছে।
    ৩. বাংলাদেশের সঙ্গে মিল: বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধনেও সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন, তাই এটিও দুষ্পরিবর্তনীয়।

    সুতরাং, 'Y'-এর বসবাসকৃত রাষ্ট্রের সংবিধান সুপরিবর্তনীয় নয়, এটি দুষ্পরিবর্তনীয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন