ভূগোল এবং পরিবেশ • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন
- ক)(1)
বায়ুপ্রবাহ কাকে বলে?
- খ)(2)
দক্ষিণ অক্ষাংশে কোন বায়ুর গতিবেগ সর্বাধিক? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
A স্থানের দিকে বর্ষাকালে কোন বায়ু প্রবাহিত হয়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'B' ও 'D' স্থানন্বয়ের বৃষ্টিপাতের ধরন কি অভিন্ন? যুক্তিসহ মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে বায়ুর অনুভূমিক প্রবাহকে বায়ুপ্রবাহ বলে।
- খ)
দক্ষিণ অক্ষাংশে পশ্চিমা বায়ুর গতিবেগ সর্বাধিক। দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগের পরিমাণ বেশি, তাই বাধা কম পেয়ে এ বায়ু প্রবলবেগে প্রবাহিত হয়। এজন্য একে প্রবল পশ্চিমা বায়ু বলে। বিশেষ করে ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ অক্ষাংশে এর গতি সবচেয়ে বেশি, যে অঞ্চলকে গর্জনশীল চল্লিশ (Roaring forties) বলে।
- গ)
চিত্রে 'A' স্থানটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত (এ অংশটি চিত্রে ছোট ও অস্পষ্ট, তাই অবস্থান এভাবে ধরা হলো)। বর্ষাকালে এখানে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়।
১. জুন মাসে সূর্য উত্তর গোলার্ধে লম্ব কিরণ দেয়, ফলে এ অঞ্চলে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়।
২. দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখা পার হয়ে ফেরেলের সূত্র অনুসারে উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে বেঁকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুতে পরিণত হয়।
৩. বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরের ওপর দিয়ে আসায় এ বায়ু জলীয়বাষ্পে পূর্ণ থাকে এবং বর্ষাকালে বৃষ্টি আনে। - ঘ)
না, 'B' ও 'D' স্থানের বৃষ্টিপাতের ধরন অভিন্ন নয়। (চিত্রে B উত্তর-পূর্বাংশে, অর্থাৎ সিলেট অঞ্চলে এবং D মধ্যাংশে ধরা হয়েছে।)
১. 'B' (উত্তর-পূর্ব): এখানে বর্ষাকালে সাগর থেকে আসা আর্দ্র দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু পূর্ব ও উত্তরের পাহাড়ি এলাকায় বাধা পেয়ে ওপরে ওঠে এবং শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি ঘটায়। তাই এই অঞ্চলে বৃষ্টিপাত সবচেয়ে বেশি।
২. 'D' (মধ্যাংশ): এটি প্রধানত সমতল এলাকা। এখানে বর্ষায় মৌসুমি বৃষ্টি হলেও পাহাড়ের বাধার প্রভাব কম, তাই বৃষ্টির পরিমাণ তুলনায় কম। গ্রীষ্মে এখানে কালবৈশাখিজনিত বৃষ্টি হয়।
৩. পরিমাণ: বর্ষাকালে বছরের প্রায় ৮০ ভাগ বৃষ্টি হয়, তবে উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে বৃষ্টিপাত মধ্য অঞ্চলের চেয়ে অনেক বেশি।সুতরাং, ভূপ্রকৃতি ও বায়ুর বাধার তারতম্যের কারণে দুই স্থানের বৃষ্টিপাতের ধরন ও পরিমাণ অভিন্ন নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও