ইসলাম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫
ইসলাম প্রশ্ন
শরীফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিনহাজ সাহেব ইন্তেকাল করলে তারই বন্ধু খায়ের সাহেব জনগণের সরাসরি সমর্থনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতিসহ নানা জটিলতা দেখা দিলে তা শক্ত হাতে সমাধান করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন। এজন্য তাকে 'দুর্দিনের কান্ডারি' বলা হয়। খায়ের সাহেবের আরেক ভাই সশস্ত্র বাহিনীতে চাকরির সুবাদে কঙ্গোতে শান্তিরক্ষা মিশনে যান। তিনি সেখানে বিদ্রোহী গোষ্ঠীদের কঠোর হস্তে দমন করে বীরত্বের পরিচয় দেন। ফলে সরকার তাকে 'শান্তি বীর' উপাধি দেন। সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তাকে খুলাফায়ে রাশেদিনের একজনের প্রতিচ্ছবি বলে মন্তব্য করেন।
- ক)(1)
হজ কাকে বলে?
- খ)(2)
'জিহাদ ও সন্ত্রাসবাদ এক নয়'- বুঝিয়ে লেখ।
- গ)(3)
খায়ের সাহেবের পদক্ষেপে কোন খলিফার কর্মকাণ্ডের প্রতিফলন দেখা যায়? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
খায়ের সাহেবের ভাই সম্পর্কে প্রধান অতিথির মন্তব্য যথার্থ কিনা? মতামতের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট স্থানসমূহে (কাবা, আরাফাত, মিনা, মুযদালিফা) বিশেষ পদ্ধতিতে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে ইবাদত করা হয়, তাকে হজ বলে।
- খ)
জিহাদ অর্থ আল্লাহর পথে সংগ্রাম। এর উদ্দেশ্য অন্যায় দূর করে ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠা, আত্মরক্ষা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা। জিহাদ নির্দিষ্ট নীতিমালা মেনে করতে হয়; নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও নিরীহ মানুষকে হত্যা নিষিদ্ধ। অপরদিকে সন্ত্রাসবাদ নির্বিচারে মানুষ হত্যা, ভয় সৃষ্টি ও বিশৃঙ্খলা করে, যা ইসলামে ফিতনা ও হারাম। তাই জিহাদ ও সন্ত্রাসবাদ এক নয়।
- গ)
খায়ের সাহেবের পদক্ষেপে হযরত আবু বকর (রা.)-এর কর্মকাণ্ডের প্রতিফলন দেখা যায়। মহানবি (স.)-এর ইন্তেকালের পর মুসলিম সমাজে সংকট দেখা দিলে জনগণের সমর্থনে আবু বকর (রা.) প্রথম খলিফা নির্বাচিত হন। তখন ভণ্ড নবির আবির্ভাব, যাকাত অস্বীকারকারী ও ধর্মত্যাগীদের বিদ্রোহ ইসলামি রাষ্ট্রকে হুমকিতে ফেলেছিল। তিনি দৃঢ় হাতে এসব দমন করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন। খায়ের সাহেবও বন্ধুর মৃত্যুর পর জনসমর্থনে নির্বাচিত হয়ে আইনশৃঙ্খলার সংকট শক্ত হাতে সমাধান করেছেন।
- ঘ)
প্রধান অতিথির মন্তব্য যথার্থ। খায়ের সাহেবের ভাই হযরত আলি (রা.)-এর আদর্শের প্রতিচ্ছবি।
যুক্তি:
১. বীরত্ব: হযরত আলি (রা.) ‘আসাদুল্লাহ’ উপাধি পেয়েছিলেন বদর, খায়বার প্রভৃতি যুদ্ধে অসাধারণ বীরত্বের জন্য। ভাইটিও কঙ্গোতে বীরত্ব দেখিয়ে ‘শান্তি বীর’ উপাধি পেয়েছেন।
২. বিদ্রোহ দমন: হযরত আলি (রা.)-এর খিলাফতকালে অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। তিনি সাহসের সাথে তা মোকাবিলা করেন। ভাইটিও বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে কঠোর হস্তে দমন করেছেন।
৩. শান্তি প্রতিষ্ঠা: উভয়ের উদ্দেশ্য ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠা, ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়।সুতরাং, প্রধান অতিথির মন্তব্য যুক্তিসংগত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও