হিন্দু ধর্ম • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

মাধবীদের গ্রামের বাড়িতে ফাল্গুনী পূর্ণিমার বিশেষ তিথিতে এক উৎসবের আয়োজন করা হয়। গ্রামবাসী গুড়া রং মাখামাখি করে আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠে। উৎসবে 'বুড়ির ঘর' পুড়িয়ে প্রতীকী অনুষ্ঠান পালন করা হয়। অন্যদিকে, মাধুরীদের বাড়ির সামনের মন্দিরে কয়েকদিন ব্যাপী চলে একটি অনুষ্ঠান। অনেক দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তগণ এসে যোগ দেয় এ অনুষ্ঠানে। রাম ও কৃষ্ণের নাম বার বার উচ্চারিত হতে থাকে এ অনুষ্ঠানে।

  1. ক)

    সংক্রান্তি কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    কোন ধর্মাচারের মাধ্যমে মনের কালিমা মুছে সারা পৃথিবীকে আলোকিত করা যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    মাধবীদের গ্রামের বাড়িতে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানটি তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মাধুরীদের বাড়ির সামনের মন্দিরে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানটির পারিবারিক ও সামাজিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বাংলা মাসের শেষ দিনকে সংক্রান্তি বলে।

  2. খ)

    দীপাবলির মাধ্যমে মনের কালিমা মুছে সারা পৃথিবীকে আলোকিত করা যায়। কালীপূজার রাতে প্রদীপ জ্বালিয়ে এ উৎসব পালন করা হয়। এর প্রতীকী অর্থ হলো সচেতনতার আলো জ্বেলে মনের অজ্ঞানতা ও মোহান্ধকার দূর করা। এর মাধ্যমে কুসংস্কার দূর করে জ্ঞানের আলোয় সমাজ আলোকিত হয়।

  3. গ)

    মাধবীদের গ্রামের বাড়িতে ফাল্গুনী পূর্ণিমায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানটি দোলযাত্রা।

    পাঠ্যপুস্তক অনুযায়ী ফাল্গুনী পূর্ণিমা বা দোলপূর্ণিমার দিন রাধা-কৃষ্ণকে দোলায় রেখে আবীর, কুঙ্কুমে রাঙিয়ে পূজা করা হয় এবং সবাই পরস্পরকে রং বা আবীর মাখিয়ে আনন্দ করে। এ পূজার আগের দিন, অর্থাৎ ফাল্গুনী শুক্লা চতুর্দশীতে ‘বুড়ির ঘর’ বা ‘মেড়া’ পুড়িয়ে অমঙ্গল দূর করার প্রতীকী অনুষ্ঠান করা হয়। এটি মূলত বৈষ্ণবীয় উৎসব। বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ রাধিকা ও গোপীদের সাথে রং খেলায় মেতেছিলেন, সেখান থেকে দোল খেলার প্রবর্তন। একে বসন্ত-উৎসবও বলা হয়। বাংলার বাইরে এটি হোলি নামে পরিচিত।

    উদ্দীপকে ফাল্গুনী পূর্ণিমার তিথিতে গ্রামবাসী গুঁড়া রং মাখামাখি করে আনন্দ করেছে এবং ‘বুড়ির ঘর’ পুড়িয়ে প্রতীকী অনুষ্ঠান পালন করেছে। এসব বৈশিষ্ট্য দোলযাত্রার সাথে সম্পূর্ণ মিলে যায়।

  4. ঘ)

    মাধুরীদের বাড়ির সামনের মন্দিরে কয়েকদিনব্যাপী যে অনুষ্ঠান হয়, যেখানে দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা এসে রাম ও কৃষ্ণের নাম উচ্চারণ করেন, সেটি নামযজ্ঞ। নামযজ্ঞে বিভিন্ন সুরে, ছন্দে ও তালে কৃষ্ণনাম ও রামনাম কীর্তন করা হয়। অনুষ্ঠানটি আয়োজনের পরিধি অনুযায়ী কয়েক প্রহরব্যাপী চলে। হিন্দুরা বিশ্বাস করে, শ্রীহরির নাম নিলে বা শুনলে পুণ্য লাভ হয় এবং দুঃখ-যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এর পারিবারিক ও সামাজিক গুরুত্ব অনেক।

    ১. পারিবারিক গুরুত্ব: নামযজ্ঞে পরিবারের সদস্যরা একসাথে অংশ নেয়, ফলে পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় হয়। পুণ্য ও শান্তিলাভের বিশ্বাস পরিবারে ধর্মীয় পরিবেশ ও নৈতিকতা তৈরি করে।
    ২. মানসিক শান্তি: হরিনাম কীর্তন ভক্তদের মনে ভক্তি ও প্রশান্তি আনে। উদ্দীপকে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এই বিশ্বাস নিয়েই আসেন।
    ৩. সামাজিক মিলন: নামযজ্ঞ মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়। ভেদাভেদ ভুলে ধনী-দরিদ্র ও উঁচু-নিচু সবাই একাত্ম হয়, ফলে সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়।
    ৪. সাংস্কৃতিক গুরুত্ব: কীর্তনের সুর, ছন্দ ও তালের মাধ্যমে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষিত হয় এবং মন্দিরে পবিত্র পরিবেশ বজায় থাকে।

    সুতরাং, নামযজ্ঞ ভক্তি ও সম্প্রীতির মাধ্যমে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনকে সুন্দর করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন