কৃষিশিক্ষা • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২০

কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন

হাসিব খান প্রতি বছর তার জমিতে ধান চাষ করেন। কিন্তু এ বছর তিনি ঐ জমিতে ধান ও গলদা চিংড়ি একসাথে চাষের সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য তিনি জমিতে মাছ চাষের জন্য প্রয়োজনীয় কাজগুলো সম্পন্ন করেন ।

  1. ক)

    হাঁস ও মাছের সমন্বিত চাষ কী?

    (1)
  2. খ)

    হাঁস ও মাছের সমন্বিত চাষে পুকুরে মাছের অক্সিজেনের সমস্যা হয় না কেন? ব্যাখ্যা করো ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে হাসিব খানের জমিতে প্রয়োজনীয় কাজগুলো বর্ণনা করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    হাসিব খানের সিদ্ধান্তটি মূল্যায়ন করো ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    একই জমি বা জলাশয়ে হাঁস পালনের পাশাপাশি মাছ চাষ করার পদ্ধতিকে হাঁস ও মাছের সমন্বিত চাষ বলে।

  2. খ)

    হাঁস ও মাছের সমন্বিত চাষে হাঁসের বিষ্ঠা পানিতে মিশে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের পরিমাণ বাড়ায়। এই ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন সূর্যালোকে সালোকসংশ্লেষণ করে অক্সিজেন তৈরি করে। এছাড়া হাঁস সারাক্ষণ পানিতে সাঁতার কাটার ফলে পানি নড়াচড়া করে, ফলে বাতাসের অক্সিজেন সহজে পানিতে মিশে যায়। তাই পুকুরে মাছের অক্সিজেনের সমস্যা হয় না।

  3. গ)

    হাসিব খান ধান ও গলদা চিংড়ি একসাথে চাষের জন্য জমিতে নিম্নলিখিত কাজগুলো করবেন।

    ১. জমি নির্বাচন ও আইল তৈরি: পানি ধরে রাখতে পারে এমন জমি বেছে নিয়ে চারদিকের আইল উঁচু ও মজবুত করতে হবে, যাতে বন্যায় বা বৃষ্টিতে চিংড়ি বেরিয়ে না যায়।
    ২. নালা বা খাল খনন: জমির চারপাশে বা ভেতরে নালা কেটে নিতে হবে, যেখানে চিংড়ি আশ্রয় নিতে পারে এবং পানি কমে গেলে বেঁচে থাকতে পারে।
    ৩. পানি প্রবেশ ও নির্গমন পথে জাল: পানি ঢোকা ও বের হওয়ার মুখে জাল দিতে হবে, যাতে অন্য মাছ ঢুকতে বা চিংড়ি বের হতে না পারে।
    ৪. জমি প্রস্তুতি: চাষ ও মই দিয়ে জমি প্রস্তুত করে চুন ও সার প্রয়োগ করতে হবে।
    ৫. ধান রোপণ ও পোনা ছাড়া: ধানের চারা রোপণের পর উপযুক্ত পানির গভীরতা বজায় রেখে সুস্থ গলদা চিংড়ির পোনা মজুদ করতে হবে।
    ৬. পরিচর্যা: সম্পূরক খাদ্য দেওয়া এবং ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার না করা।

  4. ঘ)

    হাসিব খানের সিদ্ধান্তটি যথার্থ ও লাভজনক বলে আমি মনে করি।

    ১. একই জমিতে দুই ফসল: একই জমি থেকে ধান ও গলদা চিংড়ি পাওয়ায় আয় বাড়ে।
    ২. পরস্পর সহায়ক: চিংড়ি জমির পোকামাকড় ও আগাছার কিছু অংশ খায়, ফলে ধানের ক্ষতি কমে। চিংড়ির বর্জ্য ধানের সার হিসেবে কাজ করে।
    ৩. কম খরচে বাড়তি আয়: আলাদা জমি লাগে না, সার ও কীটনাশকের খরচ কমে। গলদা চিংড়ির বাজারমূল্য ও রপ্তানি সম্ভাবনা ভালো।
    ৪. পুষ্টি ও কর্মসংস্থান: পরিবারের আমিষের চাহিদা মেটে এবং কাজের সুযোগ বাড়ে।

    সুতরাং, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও কীটনাশক ব্যবহারে সতর্কতা মেনে চললে হাসিব খানের সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিকভাবে সফল হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন