ইসলাম • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

ইসলাম প্রশ্ন

চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর আসাদ সাহেব ইউনিয়নের সকল ধর্ম ও মতের লোকদের নিয়ে একটি চুক্তি প্রণয়ন করেন, যাতে এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সকলে মিলে দুর্বৃত্তদের প্রতিরোধ করা যায়। অন্যদিকে, ওয়ার্ড মেম্বার আবুল কালামের ছেলের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি নিজে ছেলেকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

  1. ক)

    আইয়‍্যামে জাহেলিয়াত কী?

    (1)
  2. খ)

    ইমাম বুখারি (র.)-কে বুখারা ত্যাগ করতে হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    চেয়ারম্যানের কাজটি মহানবি (স.)-এর মাদানি জীবনের কোন ঘটনার প্রতিচ্ছবি? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    মেম্বার আবুল কালামের কাজে যে খলিফার আদর্শ ফুটে উঠেছে তা চিহ্নিত করে উক্ত খলিফার চরিত্র বর্ণনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ইসলামপূর্ব আরবের অজ্ঞতা, অনাচার, কুসংস্কার ও বর্বরতার যুগকে আইয়্যামে জাহেলিয়াত বা অজ্ঞতার যুগ বলে।

  2. খ)

    বুখারার শাসক খালিদ ইবনে আহমদ যুহলী ইমাম বুখারি (র.)-কে নিজের দরবারে এসে তাঁর সন্তানদের হাদিস পড়াতে বলেছিলেন। ইমাম বুখারি (র.) ইলমের মর্যাদা রক্ষার জন্য তা প্রত্যাখ্যান করেন। এতে শাসক ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে বুখারা ত্যাগ করতে বাধ্য করেন।

  3. গ)

    চেয়ারম্যান আসাদ সাহেবের কাজটি মহানবি (স.)-এর মদিনা সনদ প্রণয়নের প্রতিচ্ছবি। হিজরতের পর মদিনায় মুসলমান, ইহুদি, খ্রিস্টান ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মহানবি (স.) এই লিখিত চুক্তি করেন। এতে সবার ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার স্বীকৃত হয় এবং বহিঃশত্রুর আক্রমণ প্রতিরোধে সবাই একজোট হওয়ার অঙ্গীকার করে। আসাদ সাহেবও সব ধর্ম ও মতের লোকদের নিয়ে চুক্তি করে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও দুর্বৃত্তদের প্রতিরোধের উদ্যোগ নিয়েছেন।

  4. ঘ)

    মেম্বার আবুল কালামের কাজে হযরত উমর (রা.)-এর ন্যায়বিচারের আদর্শ ফুটে উঠেছে। তিনি নিজের ছেলেকেও অপরাধের শাস্তি থেকে রেহাই দেননি।

    হযরত উমর (রা.)-এর চরিত্র:
    ১. ন্যায়পরায়ণতা: তিনি আইনের চোখে সবাইকে সমান মনে করতেন। নিজের ছেলের ওপরও শাস্তি কার্যকর করেছেন।
    ২. সাহসিকতা: তাঁর সাহস ও দৃঢ়তার কারণে মহানবি (স.) তাঁকে ‘ফারুক’ (সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী) উপাধি দেন।
    ৩. সাদাসিধে জীবন ও জনদরদি: খলিফা হয়েও তিনি সাধারণ জীবনযাপন করতেন, রাতে প্রজাদের অবস্থা দেখতে ঘুরতেন।
    ৪. প্রশাসনিক দক্ষতা: তাঁর শাসনামলে (৬৩৪-৬৪৪ খ্রি.) ইসলামি রাষ্ট্রের ব্যাপক বিস্তার ঘটে।

    সুতরাং, হযরত উমর (রা.) ন্যায় ও সুশাসনের আদর্শ প্রতীক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন