বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
- ক)(1)
"গঙ্গারিডাই” জাতির বাসস্থান কোথায় ছিল?
- খ)(2)
"মাৎস্যন্যায়" বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত চিত্রটির সাথে সম্পৃক্ত রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতার ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"সোমপুর বিহারের প্রতিষ্ঠাতা উন্তু রাজবংশের শ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন"- পাঠ্যবইয়ের আলোকে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
গঙ্গারিডাই জাতি গঙ্গা নদীর মোহনা বা বদ্বীপ অঞ্চলে, অর্থাৎ প্রাচীন বাংলার দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে বাস করত।
- খ)
মাৎস্যন্যায় বলতে এমন চরম অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলার অবস্থা বোঝায়, যেখানে শক্তিশালী মানুষ দুর্বলকে নির্যাতন করে, ঠিক যেমন পুকুরের বড় মাছ ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে।
শশাঙ্কের মৃত্যুর পর প্রায় একশ বছর বাংলায় কোনো শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসক ছিল না। তখন আইন-শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে এবং সর্বত্র অরাজকতা দেখা দেয়। এই অবস্থাকেই মাৎস্যন্যায় বলা হয়।
- গ)
উদ্দীপকের চিত্রটি পাল বংশের স্থাপত্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত। পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপাল।
শশাঙ্কের মৃত্যুর পর যখন বাংলায় মাৎস্যন্যায় চলছিল, তখন প্রকৃতিপুঞ্জ (জনগণ) অষ্টম শতকের মধ্যভাগে গোপালকে রাজা নির্বাচিত করে। তিনি অরাজকতা দূর করে দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন। তিনি বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলকে এক শাসনের অধীনে আনেন এবং পাল বংশের শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করেন। তাঁর হাতেই বাংলার ইতিহাসে স্থিতিশীলতার নতুন যুগ শুরু হয়।
- ঘ)
মন্তব্যটি যথার্থ। সোমপুর বিহারের প্রতিষ্ঠাতা পাল বংশের দ্বিতীয় শাসক ধর্মপালকে এই বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক বলা হয়।
১. ধর্মপাল প্রায় বত্রিশ বছর রাজত্ব করেন। তিনি ত্রিপক্ষীয় সংগ্রামে অংশ নিয়ে কনৌজে নিজের প্রভাব বিস্তার করেন এবং উত্তর ভারতে পাল সাম্রাজ্যের শক্তি প্রতিষ্ঠা করেন।
২. তিনি বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। নওগাঁর পাহাড়পুরে সোমপুর মহাবিহার এবং বিক্রমশীলা বিহার তাঁর কীর্তি। এসব বিহার শিক্ষা ও সংস্কৃতির কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
৩. তাঁর শাসনে প্রশাসন সুসংহত ছিল এবং রাজ্যে শান্তি বজায় ছিল।তবে পাল বংশের অন্য শাসক দেবপালও বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী ছিলেন। সুতরাং, সামরিক বিজয়, প্রশাসন ও শিক্ষা-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা বিবেচনায় ধর্মপালকে পাল বংশের শ্রেষ্ঠ শাসকদের একজন বলা যায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও