হিন্দু ধর্ম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২০
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
সুভাষ বাবু প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় এক পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠ করেন। সেই ধর্মগ্রন্থকে ঘিরে আবার ধর্ম সম্পর্কিত সাহিত্য তৈরি হয়েছে এবং সুভাষ বাবু উপলব্ধি করেন জগতের সবকিছু ব্রহ্মময়। বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে যা কিছু আছে সবই এক, কোনো ভেদাভেদ নেই, কোনো হিংসাবিদ্বেষ নেই। অপরপক্ষে নগেন বাবু প্রতিদিন আরেক ধর্মগ্রন্থ পাঠ করেন। সে ধর্মগ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে উপলব্ধি করেন, পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্য, ভাইদের মধ্যে প্রেম, দেশপ্রেম, নিষ্ঠা ও নীতির প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং শত্রুদের দমন করা।
- ক)(1)
আরুণি কে ছিলেন?
- খ)(2)
নৈতিকতা গঠনে ধর্মগ্রন্থের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
সুভাষ বাবুর পাঠ করা ধর্মগ্রন্থ ঘিরে যে সাহিত্য তৈরি হয়েছে তা বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে নগেন বাবু যে গ্রন্থটি প্রতিদিন পাঠ করেন- মানব জীবনে তার গুরুত্ব অপরিসীম- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
আরুণি ছিলেন একজন মহাজ্ঞানী ঋষি, যিনি তাঁর পুত্র শ্বেতকেতুকে ব্রহ্মতত্ত্ব উপদেশ দিয়েছিলেন।
- খ)
ধর্মগ্রন্থে বিভিন্ন কাহিনি, আখ্যান ও উপাখ্যানের মাধ্যমে ধর্ম ও অধর্মের ধারণা এবং তাদের পরিণতি তুলে ধরা হয়েছে। এসব কাহিনি মানুষকে ধর্মের পথে পরিচালিত করে এবং মনে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে।
ধর্মগ্রন্থ পাঠে সত্য, ক্ষমা, দয়া, সংযম ইত্যাদি গুণের প্রতি শ্রদ্ধা জন্মায় এবং অন্যায়ের প্রতি ঘৃণা তৈরি হয়। ফলে সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই নৈতিকতা গঠনে ধর্মগ্রন্থের গুরুত্ব অপরিসীম।
- গ)
সুভাষ বাবুর পাঠ করা ধর্মগ্রন্থটি বেদ। উদ্দীপকে আছে, ‘জগতের সবকিছু ব্রহ্মময়’, এ উপলব্ধি উপনিষদের বাণী। উপনিষদ বেদেরই অংশ। বেদ হিন্দুদের আদি ধর্মগ্রন্থ এবং বেদকে ঘিরে যে সাহিত্য রচিত হয়েছে, তাকে বৈদিক সাহিত্য বলা হয়।
বৈদিক সাহিত্যের ধারণা: বৈদিক সাহিত্য সাধারণত চার প্রকার ভিন্ন অথচ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত রচনার সমষ্টি। এগুলো হলো (১) মন্ত্র বা সংহিতা, (২) ব্রাহ্মণ, (৩) আরণ্যক ও (৪) উপনিষদ। এ রচনাসমষ্টি দুটি কাণ্ডে বিভক্ত। কর্মকাণ্ডে আছে মন্ত্র, যাগ-যজ্ঞ, অনুষ্ঠান ও আচার-নিয়মের নির্দেশনা। জ্ঞানকাণ্ডে আছে ঈশ্বর, ব্রহ্ম, সৃষ্টিকর্তা ও সৃষ্টিরহস্যের কথা। উপনিষদ জ্ঞানকাণ্ডের অংশ, যাকে বেদান্তও বলা হয়।
উদ্দীপকের সঙ্গে সম্পর্ক: সুভাষ বাবু যে গ্রন্থ পাঠ করে উপলব্ধি করেন, বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের সবই এক এবং কোনো ভেদাভেদ ও হিংসা-বিদ্বেষ নেই, তা উপনিষদের শিক্ষা। এ উপনিষদসহ বৈদিক সাহিত্যই বেদকে ঘিরে গড়ে উঠেছে।
অতএব, সুভাষ বাবুর ধর্মগ্রন্থ বেদকে ঘিরে চারটি স্তরে বৈদিক সাহিত্য রচিত হয়েছে।
- ঘ)
নগেন বাবু যে গ্রন্থ প্রতিদিন পাঠ করেন, তা রামায়ণ। কারণ উদ্দীপকে বর্ণিত পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্য, ভ্রাতৃপ্রেম, দেশপ্রেম, নিষ্ঠা, নীতির প্রতি ভালোবাসা এবং শত্রু দমন রামায়ণেরই শিক্ষা। মানবজীবনে এর গুরুত্ব সত্যিই অপরিসীম।
রামায়ণের পরিচয়: আদি কবি বাল্মীকি মুনি রামায়ণ রচনা করেন, তাই একে আদিকাব্য বলা হয়। কৃত্তিবাস এটি বাংলায় অনুবাদ করেন। এতে আদর্শ রাজার কথা, ধর্মের জয় ও অধর্মের পরাজয়ের কথা এবং দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের কথা আছে।
১. পারিবারিক মূল্যবোধ: রামায়ণে পিতার প্রতি পুত্রের কর্তব্য ফুটে উঠেছে। রাজা দশরথের সত্যরক্ষার জন্য রাম রাজত্ব ত্যাগ করে চৌদ্দ বছরের জন্য বনে গিয়েছিলেন। এ কাহিনি আমাদের পিতামাতার প্রতি দায়িত্ব ও আনুগত্যের শিক্ষা দেয়।
২. ভ্রাতৃপ্রেম ও পতিপ্রেম: লক্ষ্মণ ও সীতা রামের সঙ্গে বনে যান। ভরত রাজা হয়েও রামের পাদুকা সিংহাসনে রেখে বনবাসীর মতো জীবন কাটান। এগুলো ভ্রাতৃপ্রেম ও পতিপ্রেমের অনন্য দৃষ্টান্ত।
৩. দুষ্টের দমন ও দেশপ্রেম: রাবণ সীতাকে হরণ করলে রাম লঙ্কা আক্রমণ করে রাবণকে সবংশে নিধন করেন এবং সীতাকে উদ্ধার করেন। এতে ন্যায়ের জয় ও শত্রু দমনের শিক্ষা পাওয়া যায়।
৪. আদর্শ রাজা ও নীতি: রাম প্রজাদের কল্যাণকে সবার ওপরে রাখতেন, এমনকি প্রজাদের মনোরঞ্জনের জন্য সীতাকে ত্যাগ করেছিলেন। এতে রাজার কর্তব্য সম্পর্কে শিক্ষা মেলে।
সুতরাং, রামায়ণ পাঠে নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও ধর্মাচরণের প্রেরণা পাওয়া যায়। তাই মানবজীবনে এর গুরুত্ব অপরিসীম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও