বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৬
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: প্রাচীন বাংলার বিখ্যাত একজন শাসক তার জনহিতকর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে এক বিশাল বিহার প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে উক্ত নিদর্শনটি বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতিও লাভ করে।দৃশ্যকল্প-২: বাংলার অপর একজন শাসক সুপণ্ডিত হিসেবে যেমন তার লেখনী প্রতিভার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন ঠিক তেমনি বিশেষ ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন।
- ক)(1)
'ব্রহ্মক্ষত্রিয়' কারা?
- খ)(2)
"প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে শশাঙ্কই প্রথম সার্বভৌম শাসক"- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১-এ বর্ণিত তথ্যাবলি কোন বিষয়টিকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর, দৃশ্যকল্প-২-এ বর্ণিত কার্যাবলি বল্লাল সেনেরই প্রতিচ্ছবি? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ব্রহ্মক্ষত্রিয় হলো সেন রাজাদের পরিচয়; তাঁরা ব্রাহ্মণ বংশজাত হয়েও ক্ষত্রিয়ের কর্ম গ্রহণ করেছিলেন।
- খ)
শশাঙ্ক প্রথমে গুপ্তদের মহাসামন্ত ছিলেন। পরে তিনি গৌড়ে স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন এবং কর্ণসুবর্ণকে রাজধানী করেন। গৌড়, মগধ, উড়িষ্যার কিছু অংশ প্রভৃতি অঞ্চলে তাঁর কর্তৃত্ব বিস্তৃত হয়। কোনো বিদেশি শক্তির অধীনতা না মেনে বাংলাকে একটি সার্বভৌম রাজ্যে পরিণত করায় তাঁকে প্রাচীন বাংলার প্রথম সার্বভৌম শাসক বলা হয়।
- গ)
দৃশ্যকল্প-১-এর তথ্যাবলি পাহাড়পুরের সোমপুর মহাবিহারকে নির্দেশ করে, যা পাল রাজা ধর্মপাল প্রতিষ্ঠা করেন।
বর্তমান নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরে অবস্থিত এই মহাবিহার প্রাচীন বাংলার অন্যতম বৃহৎ বৌদ্ধ বিহার ও শিক্ষাকেন্দ্র ছিল। এর স্থাপত্য ও ধ্বংসাবশেষের গুরুত্বের কারণে ইউনেস্কো একে বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দিয়েছে (১৯৮৫)।
- ঘ)
দৃশ্যকল্প-২-এর বর্ণনা বল্লাল সেনের সঙ্গে অনেকাংশে মেলে।
১. বল্লাল সেন সুপণ্ডিত ছিলেন এবং দানসাগর ও অদ্ভুতসাগর রচনা করেন (অদ্ভুতসাগর তিনি শেষ করে যেতে পারেননি, পরে লক্ষ্মণ সেন সম্পন্ন করেন)।
২. তিনি ব্রাহ্মণ্য হিন্দু ধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এবং কৌলীন্য প্রথা চালু করেন।
৩. সুতরাং লেখনী প্রতিভা ও বিশেষ ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা— দুটি বৈশিষ্ট্যই বল্লাল সেনের জীবনে স্পষ্ট।অতএব, দৃশ্যকল্প-২-এর কার্যাবলি বল্লাল সেনেরই প্রতিচ্ছবি— এ মত যুক্তিসংগত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও