হিন্দু ধর্ম • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

তাপস বোস একজন বিত্তবান ও অত্যাচারী ব্যক্তি। তার কাছে ঈশ্বর বলতে কিছুই নেই। কিন্তু তার ছেলে গৌতম ছিল হরিভক্ত। সে ঈশ্বর ছাড়া কিছুই বোঝে না। তার বাবা তাকে অনেকবার মারার চেষ্টা করলেও সে বেঁচে যায়। তার বিশ্বাস ছিল, "ধর্মের জয় অবশ্যম্ভাবী।"

  1. ক)

    ধর্মাধর্ম নির্ণয়ে বেদের পরে স্থান কার?

    (1)
  2. খ)

    ধার্মিকের স্বরূপ ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    পাঠ্যপুস্তকের কোন চরিত্রের সাথে তাপস বোস চরিত্রের সাদৃশ্য পাওয়া যায়? বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    গৌতমের বিশ্বাস 'ধর্মের জয় অবশ্যম্ভাবী'- উক্তিটির তাৎপর্য মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ধর্মাধর্ম নির্ণয়ে বেদের পরে স্থান স্মৃতিশাস্ত্রের।

  2. খ)

    যিনি ধর্মের দশটি বাহ্য লক্ষণ (ধৃতি, ক্ষমা, দম, অস্তেয়, শৌচ, ইন্দ্রিয়-নিগ্রহ, সত্য, ধী, বিদ্যা, অক্রোধ) নিজের জীবনে অনুসরণ করেন, তিনিই ধার্মিক।

    ধার্মিক ব্যক্তি ইন্দ্রিয় সংযত রাখেন, সত্যপ্রিয় ও বিনয়ী হন এবং সুখে-দুঃখে নিরুদ্বেগ থাকেন। তিনি সমদর্শী, জীবসেবাকে পরম কর্তব্য মনে করেন এবং বেদ, স্মৃতি, সদাচার ও বিবেককে প্রামাণ্য বলে মানেন।

  3. গ)

    উদ্দীপকের তাপস বোস চরিত্রের সাথে পাঠ্যপুস্তকের হিরণ্যকশিপু চরিত্রের সাদৃশ্য পাওয়া যায়।

    হিরণ্যকশিপুর পরিচয়: 'ধর্মের জয়' উপাখ্যানে সত্যযুগে দৈত্যদের রাজা ছিলেন হিরণ্যকশিপু। তিনি ছিলেন হরিবিদ্বেষী। তাঁর পুত্র প্রহ্লাদ ছিলেন হরিভক্ত। হরিনাম ছাড়াতে না পেরে তিনি পুত্রকে হত্যার জন্য নানা অত্যাচার করেন। প্রহ্লাদকে শূল দিয়ে আঘাত, বিষমিশ্রিত অন্ন প্রদান, হাতির পায়ের নিচে ফেলা, বিষধর সাপের মধ্যে নিক্ষেপ ও পর্বত থেকে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হরিনামের বলে প্রহ্লাদ প্রতিবার রক্ষা পান। শেষে নৃসিংহ অবতাররূপে শ্রীহরি হিরণ্যকশিপুকে বধ করেন।

    সাদৃশ্য: উদ্দীপকে তাপস বোস বিত্তবান ও অত্যাচারী এবং ঈশ্বরে অবিশ্বাসী। তাঁর হরিভক্ত পুত্র গৌতমকে তিনি বহুবার মারার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু গৌতম বেঁচে গেছে। এটি হিরণ্যকশিপুর আচরণ ও প্রহ্লাদের রক্ষা পাওয়ার সাথে মেলে।

    অতএব, তাপস বোস চরিত্রটি হিরণ্যকশিপুর সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    গৌতমের বিশ্বাস 'ধর্মের জয় অবশ্যম্ভাবী' উক্তিটি যথার্থ। এ উক্তির তাৎপর্য হলো, শেষ পর্যন্ত অধর্ম ও অত্যাচার পরাজিত হয় এবং ধর্ম বা সত্যের জয় হয়।

    পাঠ্যবইয়ের 'ধর্মের জয়' উপাখ্যানে প্রহ্লাদ নির্ভয়ে ধর্মের পথে থেকেছেন। তাই 'ধর্মই ধার্মিককে রক্ষা করে', 'ধর্মো রক্ষতি রক্ষিতঃ'। উদ্দীপকের গৌতমও একই বিশ্বাসে অটল।

    ১. ধর্মের রক্ষা: প্রহ্লাদকে শূল, বিষ, হাতি, সাপ ও সমুদ্র কোনোভাবেই হত্যা করা যায়নি, কারণ ধর্মের শক্তি তাঁকে রক্ষা করেছে। গৌতমও পিতার বহু চেষ্টার পরও বেঁচে গেছে। এতে বোঝা যায় ধার্মিককে ধর্মই রক্ষা করে।

    ২. অধর্মের পরাজয়: অহংকারী ও অত্যাচারী হিরণ্যকশিপু সমস্ত শক্তি ও বর থাকা সত্ত্বেও নৃসিংহ অবতারের হাতে নিহত হন। অত্যাচারী যত শক্তিশালীই হোক, অধর্মের পরিণাম ধ্বংস। তাপস বোসের মতো অত্যাচারীও তাই শেষ পর্যন্ত জয়ী হতে পারে না।

    ৩. ঈশ্বরে অবিচল বিশ্বাস: প্রহ্লাদ শ্রীহরির কাছে চেয়ে নিলেন অবিচল ভক্তি। ঈশ্বরের প্রতি অটল বিশ্বাস ধার্মিককে বিপদে সাহস ও শক্তি জোগায়। গৌতমের বিশ্বাসও তার সম্বল।

    ৪. জীবনের শিক্ষা: পাঠ্যবইয়ে ধার্মিক ও অধার্মিকের পরিণতি তুলে ধরে দেখানো হয়েছে, ধর্মপথে চললে মানুষের মঙ্গল হয়। এ উক্তি আমাদের সত্য ও ন্যায়ের পথে থাকতে উৎসাহিত করে।

    সুতরাং, গৌতমের বিশ্বাস সঠিক। ধর্মের জয় অবশ্যম্ভাবী এবং অধর্মের পরাজয় অনিবার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন