হিন্দু ধর্ম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে অনুরাধাদের বাড়ি ও অনুরাধাকে সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। এই অনুষ্ঠানটি মূলত তাকে ঘিরেই। এটি ছিল অনুরাধার জীবনে একটি বিশেষ দিন। অপরদিকে, প্রিতমের বাবা হঠাৎ করে মারা গেছে। তার বাবার আত্মার শান্তি কামনা করে সামর্থ্য অনুযায়ী শ্রদ্ধার সঙ্গে বিভিন্ন সামগ্রী উৎসর্গ করে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করে।

  1. ক)

    সংস্কার কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    পাঠ শেষে গুরুগৃহ থেকে ফেরার সময় যে অনুষ্ঠান করা হয় তার ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    অনুরাধাদের বাড়িতে পালনকৃত অনুষ্ঠানটির গুরুত্ব পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো

    (3)
  4. ঘ)

    প্রিতমের সম্পন্নকৃত অনুষ্ঠানটির ধারণা ও বিধান পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ঐতিহ্য অনুসরণ করে হিন্দুদের সমগ্র জীবনে যে-সকল মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান করা হয়, সেগুলোকে সংস্কার বলে।

  2. খ)

    পাঠ শেষে গুরুগৃহ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিজগৃহে ফেরার সময় যে অনুষ্ঠান করা হয়, তাকে সমাবর্তন বলে। এটি স্মৃতিশাস্ত্রে বর্ণিত দশবিধ সংস্কারের একটি।

    এই অনুষ্ঠানে গুরু বা শিক্ষক শিক্ষার্থীকে অনেক মূল্যবান উপদেশ দিতেন। এটি ব্রহ্মচর্য আশ্রম শেষ করে গার্হস্থ্য জীবনে প্রবেশের সূচনা।

  3. গ)

    অনুরাধাদের বাড়িতে পালিত অনুষ্ঠানটি বিবাহ। সংস্কারের মধ্যে বিবাহ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এর গুরুত্ব নিচে ব্যাখ্যা করা হলো।

    বিবাহ সংস্কারের ধারণা: হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে দশবিধ সংস্কারের মধ্যে বিবাহ শ্রেষ্ঠ। হিন্দুবিবাহ কোনো চুক্তি নয়, বরং জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সংস্কারমূলক অধ্যায়। শুভলগ্নে নারায়ণ, অগ্নি, গুরু, পুরোহিত, আত্মীয় ও অতিথিদের সাক্ষী রেখে মঙ্গলমন্ত্রের উচ্চারণ, উলুধ্বনি ও শঙ্খধ্বনির মাধ্যমে এটি সম্পন্ন হয়।

    গুরুত্ব: বিবাহের মাধ্যমে স্বামী সন্তানের জনক হয়ে পিতৃত্ব এবং স্ত্রী জননী হয়ে মাতৃত্ব লাভ করেন। মাতা, পিতা, পুত্র, কন্যা সবাইকে নিয়ে সুখের সংসার গড়ে ওঠে। এ সংসারে প্রেমপ্রীতি, স্নেহ, বাৎসল্য প্রভৃতি মানব মনের সুকুমার বৃত্তিগুলো পূর্ণরূপে বিকশিত হয়। এভাবে সংসার আলোকিত মানুষ তৈরির সূতিকাগার হয়।

    উদ্দীপকের সঙ্গে সম্পর্ক: অনুরাধাদের বাড়ি ও অনুরাধাকে সাজানো হয়েছে এবং অনুষ্ঠানটি তাকে ঘিরেই। এটি তার জীবনের বিশেষ দিন। এসব বিবাহ অনুষ্ঠানের বৈশিষ্ট্য।

    অতএব, অনুরাধার অনুষ্ঠানটি বিবাহ এবং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে এর গুরুত্ব অপরিসীম।

  4. ঘ)

    প্রিতমের সম্পন্ন করা অনুষ্ঠানটি আদ্যশ্রাদ্ধ। পিতার মৃত্যুর পর প্রথম যে শ্রাদ্ধ করা হয়, তাকে আদ্যশ্রাদ্ধ বলে।

    আদ্যশ্রাদ্ধের ধারণা: ‘শ্রদ্ধা’ শব্দের সঙ্গে ‘অণ্’ প্রত্যয় যোগে ‘শ্রাদ্ধ’ শব্দটি গঠিত। শ্রদ্ধার সঙ্গে যা দান করা হয় তাই শ্রাদ্ধ। যেখানে শ্রদ্ধার সংযোগ নেই, সেখানে আড়ম্বর থাকলেও শ্রাদ্ধ হয় না। অশৌচকাল শেষ হওয়ার পরদিন এটি অনুষ্ঠিত হয়। একজনের উদ্দেশে অনুষ্ঠিত হয় বলে এর পূর্ণ নাম আদ্য একোদ্দিষ্ট শ্রাদ্ধ।

    ১. অশৌচ পালন: আদ্যশ্রাদ্ধের আগে পুত্রকে অশৌচ পালন করতে হয়। এ সময় সংযম পালন, হবিষ্যান্ন বা ফল গ্রহণ, তুলসীতলায় জল ও দুধ দেওয়া এবং পূরকপিণ্ড দান করতে হয়। অশৌচান্তে মস্তক মুণ্ডন করে নববস্ত্র পরতে হয়।

    ২. শ্রাদ্ধের বিধান: প্রথমে প্রদীপ জ্বালিয়ে বাস্তুপুরুষ, যজ্ঞেশ্বর ও ভূস্বামীর পূজা করতে হয়। এরপর মৃত ব্যক্তির নামে আসন, ছাতা, পাদুকা, বস্ত্র, অন্ন, জল, তাম্বুল, মালা, বিছানা প্রভৃতি মন্ত্রসহ উৎসর্গ করে পিণ্ডদান করা হয়। উদ্দীপকে প্রিতম এসব সামগ্রী উৎসর্গ করেছে।

    ৩. সামর্থ্য অনুযায়ী আয়োজন: শাস্ত্রে ছয়, আট, ষোলো প্রভৃতি বিভিন্ন দানের বিধান আছে। প্রিতম সামর্থ্য অনুযায়ী ও শ্রদ্ধার সঙ্গে অনুষ্ঠানটি করেছে, যা বিধানসম্মত।

    ৪. পাঠ ও গুরুত্ব: এ অনুষ্ঠানে গীতা ও মহাভারতের বিরাট পর্ব পাঠের বিধান আছে। এর ধর্মীয়, পারিবারিক ও সামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম। এতে আত্মীয়স্বজন একত্র হয় এবং সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হয়।

    সুতরাং, প্রিতমের আদ্যশ্রাদ্ধ পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত ধারণা ও বিধান অনুযায়ীই সম্পন্ন হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন