ব্যবসায় উদ্যোগ • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫

ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন

জনাব জাকির হোসেন চট্টগ্রামের একজন নামকরা রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী। তিনি হোটেল ব্যবস্থাপনার ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে তিনি আমেরিকার একটি, প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিতে আবন্ধ হয়েছেন। শর্ত অনুযায়ী তিনি ঐ প্রতিষ্ঠানের পণ্য উৎপাদন ও বিতরণ করবেন। সুনামের সাথে ব্যবসায়টি চলছিল। কিন্তু হঠাৎ আগুন লেগে প্রতিষ্ঠানটির ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়।

  1. ক)

    পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ করে কোন প্রতিষ্ঠান?

    (1)
  2. খ)

    পেটেন্ট কী? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    জনাব জাকির হোসেন কোন ধরনের চুক্তি করেছিলেন? বর্ণনা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    জনাব জাকির হোসেনের কোন ধরনের পদক্ষেপ উক্ত প্রতিষ্ঠানটি চালু রাখতে সহায়ক হতো বলে তুমি মনে কর? বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ করে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

  2. খ)

    পেটেন্ট হলো এক ধরনের মেধাসম্পদ। এর মাধ্যমে কোনো আবিষ্কারকে তার আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঐ আবিষ্কার তৈরি, ব্যবহার ও বিক্রির একচেটিয়া মালিকানা দেওয়া হয়।

    এই সময়ে অন্য কেউ আবিষ্কারটি তৈরি, ব্যবহার বা বিক্রয় করতে পারে না। এতে নকলকারীর হাত থেকে উদ্ভাবকের স্বার্থ রক্ষা পায়। বাংলাদেশে ১৯১১ সালের পেটেন্ট ও ডিজাইন আইন চালু আছে।

  3. গ)

    জনাব জাকির হোসেন ফ্র্যানসাইজ চুক্তি করেছিলেন।

    কোনো খ্যাতনামা কোম্পানির নাম ব্যবহার করে এর পণ্য তৈরি, বিক্রি বা বিতরণ করার অধিকারকে ফ্র্যানসাইজিং বলে। এ ক্ষেত্রে ফ্র্যানসাইজার ও ফ্র্যানসাইজির মধ্যে চুক্তি হয়। জাকির হোসেন আমেরিকার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে শর্ত অনুযায়ী ঐ প্রতিষ্ঠানের পণ্য উৎপাদন ও বিতরণ করবেন। এখানে আমেরিকার প্রতিষ্ঠানটি ফ্র্যানসাইজার এবং জাকির হোসেন ফ্র্যানসাইজি। সাধারণত ফ্র্যানসাইজি নির্দিষ্ট ফি দিয়ে ফ্র্যানসাইজারের পণ্য বিক্রির অধিকার পায় এবং ফ্র্যানসাইজার মান যাচাইয়ের জন্য মনিটরিং করে।

  4. ঘ)

    জনাব জাকির হোসেনের আগুনজনিত ক্ষতির ঝুঁকি থেকে সুরক্ষার জন্য বিমা, বিশেষ করে অগ্নি বিমা করা সহায়ক হতো বলে আমি মনে করি।

    পাঠ্যবই অনুযায়ী ঝড়, বন্যা, চুরি, অগ্নি, দুর্ঘটনা ইত্যাদি কারণে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান যেকোনো মুহূর্তে ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। এসব ঝুঁকি কমানোর উত্তম উপায় বিমাকরণ।

    ১. ক্ষতিপূরণ : অগ্নি বিমা করা থাকলে আগুনে কারখানা, যন্ত্রপাতি, পণ্য ও গুদাম পুড়ে গেলেও বিমা কোম্পানি ক্ষতিপূরণ দিত।
    ২. ব্যবসায় চালু রাখা : ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে তিনি যন্ত্রপাতি ও পণ্য আবার কিনে ব্যবসায় চালু রাখতে পারতেন।
    ৩. ঝুঁকিগত বাধা দূর : বিমা ঝুঁকিগত বাধা দূর করে ব্যবসায়ীকে নিশ্চিন্তে ব্যবসায় চালাতে সাহায্য করে।

    সুতরাং, অগ্নি বিমা করা থাকলে জাকির হোসেনের প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হতো না।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন