ব্যবসায় উদ্যোগ • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫

ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন

জনাব সজল তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মাটি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের শোপিস, ফুলদানি তৈরি করেন এবং নিজের দোকানেই সেগুলো বিক্রি করেন। অন্যদিকে জনাব আবির ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে পাট চাষের জন্য বিখ্যাত ময়মনসিংহের ফুলপুরে একটি পাট ও পাটজাত শিল্প স্থাপন করেন।

  1. ক)

    বিপণনের অন্যতম কাজ কী?

    (1)
  2. খ)

    ঘুমন্ত অংশীদার কাকে বলে? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    জনাব সজলের স্থাপিত শিল্পের ধরন বর্ণনা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে জনাব আবিরের শিল্পের অবদান মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বিপণনের অন্যতম কাজ হলো পণ্য উৎপাদনকারী থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন, গুদামজাতকরণ ও প্রমিতকরণ।

  2. খ)

    যে অংশীদার ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করেন এবং চুক্তি অনুযায়ী লাভের অংশ পান, কিন্তু অধিকার থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায় পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন না, তাকে ঘুমন্ত অংশীদার (Sleeping Partner) বলে। এই অংশীদারদের দায় অসীম। তবে তিনি ব্যবসায়ের কোনো কাজের জন্য তৃতীয় পক্ষের নিকট দায়বদ্ধ নন।

  3. গ)

    জনাব সজলের স্থাপিত শিল্পটি কুটির শিল্প (Cottage Industry)।

    বর্ণনা: কুটির শিল্প বলতে পরিবারের সদস্যদের প্রাধান্যবিশিষ্ট সেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বোঝায়, যেখানে জমি ও কারখানা ভবন ছাড়া স্থায়ী সম্পদের মূল্য ১০ লক্ষ টাকার নিচে এবং পারিবারিক সদস্য নিয়ে সর্বোচ্চ জনবল ১৫ জনের অধিক নয়। ছোট জায়গা, স্বল্প মূলধন, ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও পারিবারিক সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে এটি গড়ে ওঠে।

    উদ্দীপকে সজল পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মাটি দিয়ে শোপিস ও ফুলদানি তৈরি করেন এবং নিজের দোকানে বিক্রি করেন। এটি মৃৎশিল্প, যা কুটির শিল্পের অন্তর্ভুক্ত। তাই তার শিল্পটি কুটির শিল্প।

  4. ঘ)

    জনাব আবির ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে পাট ও পাটজাত শিল্প স্থাপন করেছেন। উৎপাদনমুখী শিল্পে ৫০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ হলে তা বৃহৎ শিল্প। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে এ শিল্পের অবদান নিম্নরূপ-

    ১. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বৃহৎ শিল্পে অধিক সংখ্যক শ্রমিক প্রয়োজন হয়। শ্রমিকের সহজলভ্যতার কারণে এ ধরনের শিল্প বেকারত্ব কমাতে সহায়ক।
    ২. স্থানীয় কাঁচামালের ব্যবহার: ফুলপুর পাট চাষের জন্য বিখ্যাত হওয়ায় আবিরের শিল্পে স্থানীয় পাট ব্যবহৃত হবে। এতে কৃষক ন্যায্য দাম পাবে এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
    ৩. অনুন্নত এলাকার উন্নয়ন: ময়মনসিংহ অনুন্নত জেলার তালিকায় রয়েছে। সেখানে শিল্প স্থাপনে রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটে, ফলে আঞ্চলিক বৈষম্য কমে।
    ৪. জাতীয় আয় ও রপ্তানি বৃদ্ধি: পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং কর প্রদানের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব বাড়ে।

    সুতরাং, কর্মসংস্থান, কাঁচামালের ব্যবহার, আঞ্চলিক উন্নয়ন ও রপ্তানি আয়ের মাধ্যমে জনাব আবিরের শিল্প বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন