পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন
স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে ফাহাদের গবেষণার বিষয় ছিল বিভিন্ন দেশের সংবিধান ও এর প্রণয়ন পদ্ধতি। সে গবেষণা চালানোর সময় জানতে পারে, 'ক' রাষ্ট্রের সংবিধান ১৯৭২ সালে গণপরিষদ কর্তৃক প্রণীত হয়। সংবিধানটি সহজে পরিবর্তন ও সংশোধন করা যায় না।
- ক)(1)
ম্যাগনাকার্টা কী?
- খ)(2)
সংবিধান প্রণয়ন প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রে সংবিধানের কোন বৈশিষ্ট্যগুলো পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো
- ঘ)(4)
'ক' রাষ্ট্রের সংবিধানকে কি উত্তম সংবিধান বলা যায়? উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
১২১৫ সালে ইংল্যান্ডের রাজা জন জনগণের অধিকার স্বীকার করে যে সনদে স্বাক্ষর করেন, তাকে ম্যাগনাকার্টা বলে।
- খ)
সংবিধান রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক আইন। এতে সরকারের বিভিন্ন বিভাগের কাঠামো, ক্ষমতা ও কার্যাবলি নির্দিষ্ট থাকে। এটি না থাকলে শাসকরা স্বেচ্ছাচারী হতে পারেন। নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও কর্তব্যের নিশ্চয়তা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সংবিধান প্রণয়ন প্রয়োজন।
- গ)
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের সংবিধান ১৯৭২ সালে গণপরিষদ প্রণীত এবং সহজে পরিবর্তন করা যায় না। এখান থেকে সংবিধানের নিচের বৈশিষ্ট্যগুলো পাওয়া যায়:
১. লিখিত: গণপরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে রচনা করেছে বলে এটি লিখিত সংবিধান, যার ধারাগুলো সুস্পষ্ট ও লিপিবদ্ধ।
২. দুষ্পরিবর্তনীয়: সংশোধনের জন্য বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়, তাই সহজে পরিবর্তন করা যায় না।
৩. গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রণীত: জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একে রচনা করেছেন।এই বৈশিষ্ট্যগুলো বাংলাদেশের সংবিধানেও দেখা যায়।
- ঘ)
'ক' রাষ্ট্রের সংবিধানকে আমি উত্তম সংবিধান বলা যায় বলে মনে করি, কারণ এতে উত্তম সংবিধানের অনেক গুণ আছে।
১. লিখিত ও সুস্পষ্ট: গণপরিষদ রচিত লিখিত সংবিধান বলে এর ধারাগুলো স্পষ্ট এবং ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্ক কম হয়।
২. স্থায়িত্ব: দুষ্পরিবর্তনীয় হওয়ায় ক্ষমতাসীনরা খেয়ালখুশিমতো একে বদলাতে পারে না। ফলে এটি স্থিতিশীল ও মৌলিক অধিকারের রক্ষক।
৩. জনগণের প্রতিফলন: জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রণীত হওয়ায় এতে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়।তবে সময়ের পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রাখতে প্রয়োজনে সংশোধনের সুযোগ থাকা দরকার। সুতরাং, সামগ্রিকভাবে 'ক' রাষ্ট্রের সংবিধানকে উত্তম সংবিধান বলা যায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও