হিন্দু ধর্ম • হিন্দুধর্মে সংস্কার • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৮

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

মানবজীবনকে সুন্দর ও কল্যাণকর করার জন্য প্রাচীন মুনি-ঋষিরা হিন্দুধর্মের আচার-আচরণে বেশ কিছু সংস্কার করে গেছেন। এই সংস্কারের শিক্ষায় প্রভাবিত হয়ে মলয় বাবু তার একমাত্র সন্তান অনিককে গুরুগৃহে প্রেরণ করেন। গুরুর কাছে শিক্ষা শেষে অনিক নিজে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গৃহে প্রবেশ করে এবং সংসারধর্ম আরম্ভ করে।

  1. ক)

    দশবিধ সংস্কারের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ কোনটি?

    (1)
  2. খ)

    উপনয়ন বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    কোন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনিক গুরুগৃহ থেকে ফিরে আসে? উক্ত অনুষ্ঠানের শিক্ষা তার পরবর্তী জীবনে কী প্রভাব ফেলতে পারে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মানবজীবনের সুকুমার বৃত্তিগুলির বিকাশে সংসারধর্ম পালনের গুরুত্ব মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    দশবিধ সংস্কারের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ সংস্কার বিবাহ।

  2. খ)

    উপনয়ন একটি সংস্কার। 'উপনয়ন' শব্দের অর্থ নিকটে নিয়ে যাওয়া, অর্থাৎ শিক্ষার্থীকে বিদ্যাশিক্ষার জন্য গুরুর কাছে নিয়ে যাওয়া। এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীকে দীক্ষা দিয়ে গুরুগৃহে বিদ্যা অর্জনের জন্য পাঠানো হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী নিয়মশৃঙ্খলা ও সংযমের জীবন শুরু করে।

  3. গ)

    অনিক সমাবর্তন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গুরুগৃহ থেকে ফিরে আসে। এই অনুষ্ঠানের শিক্ষা তার সংসারজীবনে ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল আচরণে প্রভাব ফেলবে।

    পাঠ শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা গুরুগৃহ থেকে নিজগৃহে ফিরে আসার সময় যে অনুষ্ঠান হয়, তার নাম সমাবর্তন। দশবিধ সংস্কারের অন্যতম সংস্কার এটি। এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক বা গুরু শিক্ষার্থীকে অনেক মূল্যবান উপদেশ দিতেন।

    উদ্দীপকে অনিক গুরুর কাছে শিক্ষা শেষে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গৃহে ফিরে এসেছে এবং সংসারধর্ম আরম্ভ করেছে। এটিই সমাবর্তন।

    গুরুর মূল্যবান উপদেশ অনিকের পরবর্তী জীবনে পথনির্দেশক হবে। সেগুলো মেনে চলে সে নৈতিক, সংযত ও দায়িত্বশীল জীবনযাপন করতে পারবে এবং সংসার, সমাজ ও ধর্মীয় কর্তব্য সুষ্ঠুভাবে পালন করবে। তার অর্জিত জ্ঞান পরিবার ও সমাজের কল্যাণে কাজে লাগবে।

    সুতরাং সমাবর্তনের শিক্ষা অনিকের জীবনকে সুন্দর ও কল্যাণকর করতে সাহায্য করবে।

  4. ঘ)

    মানবজীবনের সুকুমার বৃত্তিগুলোর বিকাশে সংসারধর্ম পালন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হিন্দুধর্মে সংসারধর্মের সূচনা হয় বিবাহের মাধ্যমে, যা দশবিধ সংস্কারের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।

    যৌবনে বেদমন্ত্র উচ্চারণ ও হোমের মাধ্যমে বর-বধূর মিলনের নাম বিবাহ। উদ্দীপকের অনিক সমাবর্তনের পর সংসারধর্ম আরম্ভ করে। এর গুরুত্ব নিম্নরূপ।

    ১. স্নেহ-প্রেমের বিকাশ: বিবাহের মাধ্যমে মাতা, পিতা, পুত্র, কন্যা সবাইকে নিয়ে সুখের সংসার গড়ে ওঠে। সেই সংসারকে কেন্দ্র করে প্রেমপ্রীতি, স্নেহ, বাৎসল্য প্রভৃতি সুকুমার বৃত্তি পরিপূর্ণরূপে বিকশিত হয়।

    ২. দায়িত্ববোধ ও ত্যাগ: বিবাহের ফলে পুরুষকে স্ত্রীর ভরণ-পোষণ ও মানসম্ভ্রম রক্ষার দায়িত্ব নিতে হয়। এই দায়িত্ব পালন মানুষকে ত্যাগ ও সহনশীলতা শেখায়।

    ৩. পিতৃত্ব ও মাতৃত্ব: স্বামী সন্তানের জনক হয়ে পিতৃত্ব এবং স্ত্রী জননী হয়ে মাতৃত্ব লাভ করেন। সন্তান লালনপালনের মধ্য দিয়ে মমতা ও কর্তব্যবোধ জাগ্রত হয়।

    ৪. ধর্মচর্চার সহায়ক: স্ত্রী সহধর্মিণী; তাঁকে বাদ দিয়ে পুরুষের কোনো ধর্মকার্য সম্পন্ন হয় না। তাই সংসারধর্ম পালন ধর্মীয় জীবনেরও অংশ।

    ৫. একাত্মতা: 'তোমার হৃদয় আমার হোক, আমার হৃদয় হোক তোমার' মন্ত্রে স্বামী-স্ত্রীর গভীর একাত্মতা গড়ে ওঠে।

    এভাবে সংসারধর্ম মানুষকে স্বার্থপরতা থেকে মুক্ত করে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।

    সুতরাং সুকুমার বৃত্তির বিকাশে সংসারধর্ম পালনের গুরুত্ব অপরিসীম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন