বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

তপু বাংলাদেশের নাগরিক। সে গত দু'বছর আগে একটি দেশে পড়ালেখার জন্য গমন করে। অতীতে এদেশের একটি বণিক সংঘ রানির কাছ থেকে ১৫ বছর মেয়াদী বাণিজ্য করার সনদপত্র নিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন করে। তৎকালীন সম্রাটের কাছ থেকে তারা বাণিজ্য করার অনুমতি লাভ করে। আর এ বণিক সংঘ অপ্রতিরোধ্য গতিতে অগ্রসর হয়ে ভারতবর্ষের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। অন্যান্য ইউরোপীয় বণিকদের সাথেও তাদের দ্বন্দ্ব হয়।

  1. ক)

    ভাস্কো-ডা-গামা কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    কোলকাতা নগরীর জন্ম হয় কীভাবে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ভারতীয় উপমহাদেশের যে শাসনের প্রতিচ্ছবি প্রকাশিত হয়েছে তার ব্যাখ্যা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    একসময় উক্ত বণিক দলের সাথে ভারতীয় উপমহাদেশে ফরাসি বণিকদের সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে দাঁড়ায়- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ভাস্কো-ডা-গামা ছিলেন পর্তুগিজ নাবিক, যিনি ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দে ইউরোপ থেকে সমুদ্রপথে ভারতের কালিকট বন্দরে পৌঁছান।

  2. খ)

    ১৬৯০ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ ব্যবসায়ী জব চার্নক হুগলি নদীর তীরে সুতানুটিতে বাণিজ্যকুঠি স্থাপন করেন। ১৬৯৮ সালে ইংরেজ কোম্পানি সুতানুটি, কলিকাতা ও গোবিন্দপুর— এই তিন গ্রামের জমিদারি স্বত্ব লাভ করে। পরে সেখানে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নির্মিত হয় এবং এই অঞ্চল ঘিরেই কলকাতা নগরী গড়ে ওঠে।

  3. গ)

    উদ্দীপকে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আগমন ও পরবর্তীকালে ভারতীয় উপমহাদেশে তাদের আধিপত্য বিস্তারের ছবি ফুটে উঠেছে।

    ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে রানি প্রথম এলিজাবেথের কাছ থেকে প্রাচ্যে বাণিজ্যের সনদ নিয়ে কোম্পানি গঠিত হয়। পরে মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে বাণিজ্যের অনুমতি পেয়ে তারা ভারতে ঘাঁটি স্থাপন করে। ধীরে ধীরে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও যুদ্ধের মাধ্যমে তারা বাংলা ও পরে সমগ্র উপমহাদেশে শাসন প্রতিষ্ঠা করে, যা এদেশের ব্যাপক ক্ষতি করে।

  4. ঘ)

    ইংরেজ ও ফরাসি কোম্পানির মধ্যে সংঘর্ষের অনিবার্যতার কারণ ছিল বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

    ১. বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা: দুই কোম্পানিই ভারতের বাণিজ্যে একচেটিয়া আধিপত্য চাইত। এতে স্বার্থের সংঘাত অনিবার্য হয়ে ওঠে।
    ২. ইউরোপের শত্রুতার প্রভাব: ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যে ইউরোপে যুদ্ধ হলে তার প্রভাব ভারতেও পড়ত।
    ৩. কর্ণাটকের যুদ্ধ: দক্ষিণ ভারতে কর্ণাটকের তিনটি যুদ্ধে (১৭৪৬–১৭৬৩) দুই কোম্পানি মুখোমুখি হয়; শেষ পর্যন্ত ফরাসিরা পরাজিত হয়।
    ৪. বাংলায় সংঘর্ষ: ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের আগে ক্লাইভ ফরাসি ঘাঁটি চন্দননগর দখল করেন।

    সুতরাং, বাণিজ্য ও ক্ষমতার প্রতিযোগিতার কারণেই ইংরেজ ও ফরাসি বণিকদের সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে দাঁড়ায়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন