গার্হস্থ্য বিজ্ঞান • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২০

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান প্রশ্ন

আজমল সাহেব শহরের ছোট একটি বাসায় বাস করেন। ছেলের জন্মদিনে তিনি বেশ কিছু বন্ধুকে দাওয়াত দেন। ঐ দিন তিনি তৈরি খাবার ও থালা-বাসন ইত্যাদি টেবিলে সাজিয়ে রাখেন। অতিথিরা নিজ হাতে যার যার থালায় পরিমাণমতো খাবার নিয়ে ইচ্ছেমতো জায়গায় বসে খেয়ে নেন। অপরদিকে তার ভাইয়ের স্ত্রী প্রতিদিন সবার জন্য একই রকম খাদ্য প্রস্তুত করেন। এতে ভাই ও পরিবারের সদস্যরা প্রায়ই না খেয়ে থাকেন।

  1. ক)

    আনুষ্ঠানিক ভোজ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    মেয়েদের ক্যালরির চাহিদা কম হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    আজমল সাহেব যে পদ্ধতিতে খাদ্য পরিবেশন করেছেন তা উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    আজমল সাহেবের ভাইয়ের স্ত্রীর খাদ্য তালিকাটি কি তার পরিবারের সদস্যদের জন্য উপযুক্ত? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বিয়ে, আকিকা, ওলিমা ইত্যাদি বিশেষ উপলক্ষে আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য পূর্বপরিকল্পিত মেনু অনুযায়ী নির্দিষ্ট নিয়মে যে ভোজের আয়োজন করা হয়, তাকে আনুষ্ঠানিক ভোজ বলে।

  2. খ)

    মেয়েদের ক্যালরির চাহিদা ছেলেদের তুলনায় কম হয়।

    সাধারণত মেয়েদের শরীরের আকার তুলনামূলক ছোট এবং পেশির পরিমাণ কম থাকে, ফলে তাদের বিশ্রামকালীন শক্তি-ব্যয় (BMR) কম। এছাড়া ছেলেদের তুলনায় তারা কম কায়িক পরিশ্রম করে, তাই কম শক্তির প্রয়োজন হয়। তবে গর্ভাবস্থা ও দুগ্ধদানকালে মেয়েদের ক্যালরির চাহিদা বেড়ে যায়।

  3. গ)

    আজমল সাহেব খাদ্য পরিবেশনে বুফে (Buffet) পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন।

    উদ্দীপকে তিনি তৈরি খাবার ও থালা-বাসন টেবিলে সাজিয়ে রেখেছেন এবং অতিথিরা নিজ হাতে নিজের থালায় প্রয়োজনমতো খাবার তুলে নিয়ে ইচ্ছেমতো জায়গায় বসে খেয়েছেন। এটিই বুফে পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য।

    ছোট বাসায় অনেক অতিথিকে একসাথে বসিয়ে খাওয়ানোর জায়গা না থাকলে এই পদ্ধতি সুবিধাজনক। এতে অল্প জনবলে কম সময়ে সবাইকে আপ্যায়ন করা যায়, আর অতিথিরা নিজের রুচিমতো খাবার নিতে পারেন বলে খাবারের অপচয়ও কমে।

  4. ঘ)

    না, আজমল সাহেবের ভাইয়ের স্ত্রীর খাদ্য তালিকা তার পরিবারের সদস্যদের জন্য উপযুক্ত নয়।

    উদ্দীপক অনুযায়ী তিনি প্রতিদিন সবার জন্য একই রকম খাদ্য প্রস্তুত করেন, ফলে সদস্যরা প্রায়ই না খেয়ে থাকেন। এর কারণ ও যুক্তি নিচে দেওয়া হলো:

    ১. বৈচিত্র্যের অভাব: প্রতিদিন একই খাবার একঘেয়ে লাগে, রুচি নষ্ট হয় ও খাওয়ার আগ্রহ কমে যায়। মেনু পরিকল্পনায় রং, স্বাদ ও রান্নার ধরনে বৈচিত্র্য থাকা দরকার।

    ২. সদস্যদের চাহিদার পার্থক্য উপেক্ষা: বয়স, লিঙ্গ, কাজ ও স্বাস্থ্যভেদে পুষ্টির চাহিদা ভিন্ন হয়; সবার জন্য একই খাবার সবার চাহিদা পূরণ করে না।

    ৩. পুষ্টির ঘাটতি: একই খাদ্য বারবার খেলে সব পুষ্টি উপাদান (আমিষ, ভিটামিন, খনিজ ইত্যাদি) সুষমভাবে পাওয়া যায় না এবং না খেয়ে থাকায় অপুষ্টির ঝুঁকি বাড়ে।

    সুতরাং, সদস্যদের রুচি, বয়স ও চাহিদা বিবেচনা করে বৈচিত্র্যপূর্ণ ও সুষম মেনু পরিকল্পনা করলেই তা পরিবারের জন্য উপযুক্ত হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন