ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২০
ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং প্রশ্ন
সজিৰ কোম্পানি লিমিটেড শেয়ার বাজারের একটি তালিকাভুক্ত 'প্রতিষ্ঠান। অর্থের ঘাটতি থাকায় তারা শেয়ারহোল্ডারদের নগদ লভ্যাংশের পরিবর্তে আনুপাতিক হারে শেয়ার দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আর্থিক সংকট নিরসন না হওয়ায় কোম্পানিটি স্থায়ী সম্পদের বিপরীতে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে।
- ক)(1)
লভ্যাংশ নীতি কত প্রকার?
- খ)(2)
সাধারণ শেয়ারে বিনিয়োগ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
অর্থের ঘাটতি থাকায় সজিব কোম্পানি যে শেয়ার ইস্যু করে তা কোন ধরনের? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
আর্থিক সংকট নিরসন না হওয়ায় সজিব কোম্পানির গৃহীত সিদ্ধান্তটি যথার্থকিনা তা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
লভ্যাংশ নীতি প্রধানত চার প্রকার: অবশিষ্ট লভ্যাংশ নীতি, স্থিতিশীল লভ্যাংশ নীতি, স্থির শতাংশ লভ্যাংশ নীতি এবং নিয়মিত স্বল্প ও অতিরিক্ত লভ্যাংশ নীতি।
- খ)
সাধারণ শেয়ারমালিকরা কোম্পানির প্রকৃত মালিক এবং মুনাফা ও ক্ষতি দুটোরই ভাগী। লভ্যাংশ নির্দিষ্ট নয়; মুনাফা না হলে কিছুই পাওয়া যায় না। কোম্পানি বিলুপ্ত হলে সব দায় মেটানোর পর অবশিষ্ট থাকলে তবেই তারা মূলধন ফেরত পায়। এছাড়া শেয়ারের বাজারমূল্য ওঠানামা করে। এ কারণে সাধারণ শেয়ারে বিনিয়োগ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- গ)
সজিব কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের নগদ লভ্যাংশের পরিবর্তে আনুপাতিক হারে শেয়ার দিচ্ছে। এ শেয়ার বোনাস শেয়ার।
বোনাস শেয়ার হলো কোম্পানির সঞ্চিত মুনাফা বা সংরক্ষিত তহবিলকে মূলধনে রূপান্তর করে বিদ্যমান শেয়ারমালিকদের তাদের শেয়ারের অনুপাতে বিনামূল্যে দেওয়া শেয়ার। এতে কোম্পানির নগদ অর্থ বের হয় না, ফলে অর্থের ঘাটতি থাকলেও লভ্যাংশ দেওয়া যায়। এভাবে নগদ অর্থ ধরে রেখে কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের সন্তুষ্ট করে।
- ঘ)
আর্থিক সংকট না কাটায় সজিব কোম্পানি স্থায়ী সম্পদের বিপরীতে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছে। এটি জামানতযুক্ত ঋণপত্র (Mortgage Debenture) ইস্যুর মাধ্যমে ঋণ সংগ্রহ। আমি মনে করি সিদ্ধান্তটি মোটামুটি যথার্থ।
১. নিয়ন্ত্রণ অক্ষুণ্ণ: ঋণপত্রধারীরা ঋণদাতা, মালিক নন, তাই শেয়ারহোল্ডারদের ভোটাধিকার ও নিয়ন্ত্রণ অপরিবর্তিত থাকে।
২. কর সাশ্রয়: ঋণপত্রের সুদ ব্যয় হিসেবে করযোগ্য আয় থেকে বাদ যায়।
৩. জামানতের সুবিধা: স্থায়ী সম্পদ জামানত থাকায় বিনিয়োগকারীরা আস্থা পায় এবং তুলনামূলক কম সুদে অর্থ সংগ্রহ সম্ভব।
৪. ঝুঁকি: নির্দিষ্ট সময়ে সুদ ও আসল পরিশোধ করতে হবে, ব্যর্থ হলে সম্পদ হারানোর ঝুঁকি থাকে।সুতরাং, নগদ সংকট থাকা অবস্থায় শেয়ার ইস্যুর চেয়ে ঋণপত্র ইস্যু বেশি উপযোগী হলেও পরিশোধ-ক্ষমতা বিবেচনা করে এর পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও