হিন্দু ধর্ম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২০

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

রাসপূর্ণিমায় অজিৎ তার কাকার সাথে কুয়াকাটা রাস উৎসব দেখতে যায়। সেখানে সে এক মনোরম দৃশ্য দেখে তার মধ্যে সৃষ্টি সম্পর্কে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। এক বিশাল সাগর, সূর্য উদিত ও অস্ত যায় প্রাকৃতিক দৃশ্যকে এসব নিয়ন্ত্রণ করছে। তার কাকা বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হন। অজিতের মধ্যে ঈশ্বর সম্পর্কে ধারণা জন্মে। অপরদিকে সুদীপ তার বাবার সাথে তাদের এক আত্মীয় এর বাড়িতে মৃত্যু সংবাদ শুনে সেখানে যায়। জন্ম-মৃত্যু সম্পর্কে অনেক আলোচনা মানুষের মুখে-মুখে শোনে। মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, সংহারকর্তা ও ঈশ্বরের অনেক শক্তি সম্পর্কে জানতে পারে যে, সবকিছুই শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে।

  1. ক)

    ঈশ্বর' কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    সর্বশক্তিমান হিসাবে স্রষ্টার ভূমিকা আলোচনা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে অজিতের চরিত্রে ঈশ্বর সম্পর্কে কোন দিকটি ফুটে উঠেছে তা বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "ঈশ্বর সবকিছুই শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন" সুদীপের এ ধারণাটি পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যিনি এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও সংহারকর্তা, সর্বশক্তির উৎস এবং যাঁর উপরে কেউ নেই, তিনিই ঈশ্বর।

  2. খ)

    ঈশ্বর সর্বশক্তিমান। তিনি সৃষ্টি, স্থিতি ও লয়, এই তিনটি প্রধান ক্রিয়া সাধন করেন। তিনি জীবের জন্ম ও মৃত্যুর বিধায়ক এবং ভালো কাজের ফলদাতা। তিনি স্বর্গ ও নরক সৃষ্টি করেছেন, যাতে মানুষ সৎকর্মের মাধ্যমে স্বর্গলাভ করতে পারে। আমাদের মঙ্গল-অমঙ্গল সবই তাঁর হাতে।

  3. গ)

    উদ্দীপকে অজিতের চরিত্রে ঈশ্বরের সৃষ্টিকর্তা ও নিয়ন্তা দিকটি ফুটে উঠেছে। সাগর, সূর্যের উদয়-অস্ত ও প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে সে বুঝেছে, এসব এক মহাশক্তি নিয়ন্ত্রণ করছেন।

    পাঠ্যবই অনুযায়ী ঈশ্বর এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তা ও নিয়ন্তা। আকাশ, পৃথিবী, নদ-নদী, চন্দ্র, সূর্য, গাছপালা সবকিছু সৃষ্টির মূলে রয়েছেন তিনি। তিনি সর্বশক্তিমান এবং তাঁর শক্তিতেই সবকিছু শক্তিমান। রজনীকান্ত সেনের গানে আছে, তিনি অনল-অনিলে, ভূধর-সলিলে, শশী-তারকায় ও তপনে বিরাজ করেন।

    উদ্দীপকে অজিত রাসপূর্ণিমায় কুয়াকাটায় বিশাল সাগর এবং সূর্য উদয় ও অস্ত যাওয়ার মনোরম দৃশ্য দেখে সৃষ্টি সম্পর্কে কৌতূহলী হয়। সে ভাবে, এই বিশাল সাগর ও সূর্যের নিয়মিত গতি কে নিয়ন্ত্রণ করছে। এই ভাবনা থেকে তার মধ্যে ঈশ্বর সম্পর্কে ধারণা জন্মে। এখানে ঈশ্বরকে প্রকৃতির স্রষ্টা ও নিয়ন্তা হিসেবে উপলব্ধি করার দিকটিই ফুটে উঠেছে।

    সুতরাং অজিতের চরিত্রে ঈশ্বরের সৃষ্টিকর্তা ও নিয়ন্তা রূপটি প্রকাশিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    সুদীপের ধারণা, ঈশ্বর সবকিছুই শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন। পাঠ্যবইয়ের আলোকে এই ধারণা সম্পূর্ণ যথার্থ। ঈশ্বর সৃষ্টি, পালন ও সংহারের মাধ্যমে বিশ্বে নিয়ম ও ভারসাম্য বজায় রাখেন।

    পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, ঈশ্বর এ মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও সংহারকর্তা। তিনি সর্বশক্তিমান এবং সবকিছু তাঁর থেকে জন্মায় ও তাঁর কাছেই ফিরে যায়।

    ১. সৃষ্টি, স্থিতি ও লয় : ঈশ্বর বিশ্ব সৃষ্টি করেন, পালন করেন এবং সংহার করেন। তিনি ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিবরূপে এই তিন ক্রিয়ার প্রকাশ ঘটান। সূর্যের উদয়-অস্ত, ঋতুর পরিবর্তন প্রভৃতি এই নিয়মের অধীন। এভাবে সৃষ্টিজগৎ নিয়মের মধ্য দিয়ে চলে।

    ২. জন্ম ও মৃত্যুর বিধায়ক : বেদান্ত অনুসারে সবকিছু যাঁর থেকে জন্ম নেয় এবং মৃত্যু বা ধ্বংসের মাধ্যমে যাঁর কাছে ফিরে যায়, তিনিই ব্রহ্ম। ঈশ্বর জন্ম ও মৃত্যু সৃষ্টি করেছেন, যাতে সব প্রাণী নিয়মের মধ্য দিয়ে ভারসাম্য রক্ষা করে চলে। উদ্দীপকে সুদীপ আত্মীয়ের মৃত্যুতে জন্ম-মৃত্যু নিয়ে আলোচনা শুনে এই সত্যই উপলব্ধি করে।

    ৩. কর্মফলের বিধান : ঈশ্বর স্বর্গ ও নরক সৃষ্টি করেছেন। সৎপথে ও সৎকর্মে স্বর্গলাভ হয়, মন্দ কর্ম করলে নরকে যেতে হয়। এই বিধান মানুষকে ন্যায়ের পথে রাখে এবং সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখে।

    ৪. বিভিন্ন শক্তিরূপে ঈশ্বর : দেব-দেবীগণ ঈশ্বরের বিভিন্ন গুণ ও শক্তির প্রকাশ। বিষ্ণু পালন করেন, শিব সংহার করে সমতা রক্ষা করেন। এভাবে একই ঈশ্বরের বিভিন্ন শক্তি বিশ্বকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করে।

    সুতরাং ঈশ্বরের নিয়ন্ত্রণেই জগৎ শৃঙ্খলার সাথে পরিচালিত হচ্ছে। সুদীপের ধারণা তাই পাঠ্যবইয়ের সাথে সংগতিপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন