গার্হস্থ্য বিজ্ঞান • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৯

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান প্রশ্ন

৩৬ বছর বয়সী লামিয়া তার প্রথম সন্তান রনির জন্ম দেন। গর্ভাবস্থায় তিন মাসের মধ্যে তার মাম্পস এবং সাথে খিঁচুনি হয়। রনি বড় হতেই লক্ষ করা যায় যে তার আচরণ স্বাভাবিক নয়। অপরদিকে, রনির খালাতো ভাই রিদম ইশারায় ভাব বিনিময় করে এবং টিভির কাছে গিয়ে শব্দ শুনতে চেষ্টা করে। ডাক্তারের কাছে নিলে তিনি বলেন, 'রিদমের সমস্যা রোধ করা সম্ভব, যদি বাবা-মা সচেতন হয়ে তার পাশে থাকেন।'

  1. ক)

    কিশোর অপরাধ কী?

    (1)
  2. খ)

    ক্রিটিনিজম বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    রনির আচরণ স্বাভাবিক না হবার কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে করো রিদমের সমস্যা রোধে ডাক্তারের উক্তিটি সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে? সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    কিশোর-কিশোরীদের দ্বারা সংঘটিত সমাজ ও আইনবিরোধী কাজকে কিশোর অপরাধ বলে।

  2. খ)

    ক্রিটিনিজম হলো আয়োডিনের অভাবজনিত একটি জন্মগত সমস্যা। গর্ভাবস্থায় মায়ের দেহে আয়োডিনের ঘাটতি থাকলে গর্ভের শিশুর বিকাশ ব্যাহত হয়। ফলে শিশু বামনাকৃতি হয়, তার বুদ্ধি কম থাকে এবং শারীরিক ও মানসিক বিকাশ স্বাভাবিক হয় না। কখনো কখনো শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধিতাও দেখা দেয়।

  3. গ)

    রনির আচরণ স্বাভাবিক না হওয়ার কারণ মূলত গর্ভকালীন সময়ে মায়ের স্বাস্থ্যগত সমস্যা এবং মায়ের বেশি বয়স।

    ১. গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে সংক্রমণ: এ সময় শিশুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও মস্তিষ্ক গঠিত হয়। লামিয়ার এ সময় মাম্পসের মতো সংক্রামক রোগ হওয়ায় ভ্রূণের মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
    ২. খিঁচুনি: গর্ভাবস্থায় খিঁচুনি হলে ভ্রূণে অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং মস্তিষ্কের ক্ষতি হতে পারে।
    ৩. মায়ের বেশি বয়স: ৩৬ বছর বয়সে প্রথম সন্তান ধারণ করায় জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    এসব কারণে রনির মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয়েছে এবং তার আচরণ অস্বাভাবিক হয়েছে।

  4. ঘ)

    হ্যাঁ, আমি মনে করি ডাক্তারের উক্তিটি রিদমের সমস্যা রোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। রিদম ইশারায় ভাব বিনিময় করে এবং টিভির কাছে গিয়ে শব্দ শুনতে চেষ্টা করে। এটি শ্রবণপ্রতিবন্ধিতার লক্ষণ। বাবা-মা সচেতন থাকলে এর মাত্রা কমানো বা বাড়তে না দেওয়া সম্ভব। এর স্বপক্ষে যুক্তি:

    ১. গর্ভকালীন যত্ন: গর্ভাবস্থায় সংক্রামক রোগ থেকে সতর্ক থাকা, নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ ও টিকা নেওয়ায় জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি কমে।
    ২. কানের সংক্রমণের চিকিৎসা: শিশুর কান পাকা বা সংক্রমণ হলে দ্রুত চিকিৎসা করালে শ্রবণশক্তি নষ্ট হওয়া ঠেকানো যায়।
    ৩. আগাম শনাক্তকরণ: সচেতন বাবা-মা শিশুর অস্বাভাবিক আচরণ দ্রুত লক্ষ করে চিকিৎসকের কাছে নিতে পারেন।
    ৪. সহায়ক ব্যবস্থা: শ্রবণযন্ত্র ও বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে শিশুকে স্বাভাবিক জীবনে সহায়তা করা যায়।

    সুতরাং, বাবা-মা সচেতন হলে রিদমের সমস্যা অনেকাংশে রোধ বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন