পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

বাবুল একজন দাদন ব্যবসায়ী। দাদন ব্যবসার নামে তিনি নিরীহ কৃষক রহিমকে চড়া সুদে টাকা ধার দিয়ে ফাঁকা স্ট্যাম্পে টিপসহি নেন। কৃষক যথাসময়ে তার দেনা পরিশোধ করলেও বাবুল অতিরিক্ত টাকার জন্য রহিমকে চাপ প্রয়োগ করেন। রহিম বিষয়টি নিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিকট গিয়ে এর প্রতিকার চান। কিন্তু সে কোনো প্রতিকার পায়নি। উপরন্তু তাকে হয়রানির শিকার হতে হয়।

  1. ক)

    আইন ও স্বাধীনতার শর্ত সম্পর্কে উইলোবির মত কী?

    (1)
  2. খ)

    আইনের শাসন একটি সভ্য সমাজের মানদণ্ড- ব্যাখ্যা করো

    (2)
  3. গ)

    নাগরিক জীবনে কোন বিষয়টি না থাকার কারণে রহিম হয়রানির শিকার হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে কর, নাগরিক জীবনে উক্ত বিষয়টি না থাকার কারণে রহিমের মত নিরীহ কৃষকেরা আরও বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়? তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    উইলোবির মতে, আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী নয়। আইন স্বাধীনতার শর্ত ও রক্ষক, কারণ আইনের মাধ্যমেই স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়।

  2. খ)

    যে সমাজে আইনের শাসন আছে, সেখানে আইনই সর্বোচ্চ, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং সবাই আইনের চোখে সমান। এখানে নাগরিকের জীবন, সম্পদ ও স্বাধীনতা নিরাপদ থাকে।

    সভ্য সমাজে মানুষ ক্ষমতা বা প্রভাব দিয়ে নয়, আইন ও বিচারের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান পায়। তাই আইনের শাসনকে সভ্য সমাজের মানদণ্ড বলা হয়।

  3. গ)

    নাগরিক জীবনে আইনের শাসন না থাকার কারণে রহিম হয়রানির শিকার হয়েছে।

    আইনের শাসনে সবাই আইনের চোখে সমান এবং আইনই সর্বোচ্চ। কিন্তু উদ্দীপকে বাবুল দাদন ব্যবসার নামে রহিমকে চড়া সুদে টাকা দিয়ে ফাঁকা স্ট্যাম্পে টিপসই নিয়েছে এবং দেনা শোধ করার পরও অতিরিক্ত টাকার জন্য চাপ দিয়েছে। রহিম আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে গিয়েও প্রতিকার পায়নি, উল্টো হয়রানির শিকার হয়েছে। এটি আইনের শাসনের অভাব নির্দেশ করে। এ ঘটনায় বোঝা যায়, ক্ষমতাবান ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে থাকছে এবং দুর্বল নাগরিক ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

  4. ঘ)

    হ্যাঁ, আমি মনে করি আইনের শাসন না থাকার কারণে রহিমের মতো নিরীহ কৃষকেরা আরও বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়।

    ১. অর্থনৈতিক শোষণ: সুদখোর ও প্রভাবশালীরা কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত সুদ ও অর্থ আদায় করে, ফলে কৃষকরা ঋণের জালে আটকে যায়।
    ২. সম্পদ হারানোর ঝুঁকি: ফাঁকা কাগজে সই নিয়ে জমি বা সম্পদ আত্মসাৎ করা হয়।
    ৩. ন্যায়বিচার না পাওয়া: গরিব কৃষক মামলার খরচ ও প্রভাবশালীদের চাপের কারণে বিচার পায় না।
    ৪. হয়রানি ও নির্যাতন: আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছেও অনেক সময় হয়রানির শিকার হতে হয়।
    ৫. অধিকার থেকে বঞ্চিত: আইনের শাসন না থাকলে মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা বিপন্ন হয়।
    ৬. অসাম্য ও সামাজিক অস্থিরতা: ধনী-গরিব বৈষম্য বাড়ে এবং সমাজে অসন্তোষ দেখা দেয়।

    সুতরাং, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে রহিমের মতো কৃষকদের সমস্যা আরও বাড়ে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন