বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৬

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

জনাব আলী আজগার শেভরন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং নামে একটি কোম্পানির মালিক ছিলেন। মৃত্যুর আগে তিনি তার ছোট ছেলে আলী হোসেনকে কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করেন। আলী হোসেন দায়িত্ব গ্রহণ করলে কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও আত্মীয়স্বজন তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে।

  1. ক)

    চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' কী?

    (1)
  2. খ)

    দ্বৈত শাসন বাংলার জন্য ক্ষতিকর ছিল কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলী হোসেনের সাথে কোন মহান ব্যক্তির সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে কর, উদ্দীপকে উল্লেখিত ব্যক্তির পতনের জন্য কেবলমাত্র তার আত্মীয়দের ষড়যন্ত্রই যথেষ্ট ছিল? তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস জমিদারদের সঙ্গে নির্দিষ্ট হারে রাজস্ব আদায়ের যে স্থায়ী ব্যবস্থা চালু করেন, তাকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বলে।

  2. খ)

    দ্বৈত শাসনে কোম্পানির হাতে রাজস্বের ক্ষমতা ছিল, কিন্তু প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল নবাবের। ক্ষমতা ও দায়িত্ব আলাদা হওয়ায় প্রশাসনে বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থা দেখা দেয়।

    কোম্পানি রাজস্ব আদায়ে কঠোর হলেও জনকল্যাণে উদাসীন ছিল। এতে কৃষকরা নিপীড়িত হয়, কৃষি ও বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ১৭৭০ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ (ছিয়াত্তরের মন্বন্তর) দেখা দেয়। এ কারণে দ্বৈত শাসন বাংলার জন্য ক্ষতিকর ছিল।

  3. গ)

    উদ্দীপকের আলী হোসেনের সঙ্গে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাদৃশ্য রয়েছে।

    আলী আজগার ছোট ছেলে আলী হোসেনকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন, তেমনি নবাব আলীবর্দি খান দৌহিত্র সিরাজউদ্দৌলাকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন। সিংহাসনে বসার পর আলী হোসেনের বিরুদ্ধে প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও আত্মীয়স্বজন ষড়যন্ত্র করে। সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধেও ঘসেটি বেগম, মীর জাফর ও অন্যান্য প্রভাবশালীরা ষড়যন্ত্র করেছিলেন। ফলে এই দুজনের পরিস্থিতি সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    না, সিরাজউদ্দৌলার পতনের জন্য কেবল আত্মীয়দের ষড়যন্ত্রই যথেষ্ট ছিল না। আরও কয়েকটি কারণ মিলিত হয়ে পলাশীর পরাজয় ঘটায়।

    ১. ইংরেজদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা: ইংরেজরা বাংলার ওপর রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিয়ন্ত্রণ চাইছিল এবং ক্লাইভ ষড়যন্ত্রে নেতৃত্ব দেন।
    ২. দরবারের অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসঘাতকতা: শুধু আত্মীয় নয়, মীর জাফর, রায়দুর্লভ ও জগৎ শেঠদের মতো আমলা, সেনাপতি ও ধনী বণিকরাও ষড়যন্ত্রে যোগ দেন।
    ৩. সামরিক দুর্বলতা: নবাবের সেনাবাহিনীর বড় অংশ যুদ্ধে অংশ নেয়নি, ফলে ইংরেজদের সুশৃঙ্খল ছোট বাহিনী সহজে জিতে যায়।
    ৪. নবাবের অনভিজ্ঞতা ও কিছু ভুল সিদ্ধান্ত।

    সুতরাং, কেবল আত্মীয়দের ষড়যন্ত্র নয়, বহুমুখী কারণের সমন্বয়েই সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন