গার্হস্থ্য বিজ্ঞান • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান প্রশ্ন

দশম শ্রেণির ছাত্রী নীতু ইদানিং ক্লাসে খুব চুপচাপ থাকে। কারো কথায় সাড়া দিতে চায় না। এমনকি সে তার পছন্দের কাজগুলোতেও আগ্রহ পায় না। অপরদিকে, সহপাঠী বকুল প্রায়ই ক্লাসে অনুপস্থিত থাকে। ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বন্ধুদের সাথে বেড়াতে যায়। একদিন বন্ধুদের সাথে মজা করতে গিয়ে একটি বাড়িতে ঢিল ছুড়ে জানালার কাচ ভেঙে ফেলে। ঘটনাটি তার এক প্রতিবেশী দেখে ফেলে। তিনি মন্তব্য করেন "বকুলের বাবা-মায়ের সন্তান প্রতিপালন বিষয়ে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।"

  1. ক)

    সুখের তিনটি 'এ' দিয়ে কী বোঝানো হয়?

    (1)
  2. খ)

    অন্তর্মুখী সমস্যা কীভাবে ছেলেমেয়েদের মধ্যে মানসিক ও আবেগীয় জটিলতা সৃষ্টি করে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে নীতুর মধ্যে কোন ধরনের সমস্যা ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বকুলের সমস্যাটি প্রতিরোধে প্রতিবেশির মন্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    সুখের তিনটি ‘এ’ হলো Affection (স্নেহ-ভালোবাসা), Acceptance (গ্রহণযোগ্যতা) ও Achievement (অর্জন)।

  2. খ)

    অন্তর্মুখী সমস্যায় শিশু বা কিশোর নিজের অনুভূতি প্রকাশ না করে ভেতরে ভেতরে গুটিয়ে থাকে। এতে সে লাজুক, ভীতু ও একাকী হয়ে পড়ে।

    অন্যের সাথে মিশতে না পারায় তার আত্মবিশ্বাস কমে যায় এবং সে হীনমন্যতায় ভোগে। মনের কষ্ট কাউকে বলতে না পারায় দুশ্চিন্তা, বিষণ্নতা ও আবেগীয় অস্থিরতা বাড়ে। ফলে তার মানসিক বিকাশ ও পড়াশোনা ব্যাহত হয়।

  3. গ)

    উদ্দীপকে নীতুর মধ্যে অন্তর্মুখী সমস্যা ফুটে উঠেছে।

    নীতু ইদানিং ক্লাসে চুপচাপ থাকে, কারো কথায় সাড়া দেয় না এবং পছন্দের কাজেও আগ্রহ পায় না। এগুলো বিষণ্নতা ও নিজের মধ্যে গুটিয়ে যাওয়ার লক্ষণ। অন্তর্মুখী সমস্যায় শিশু তার মনের অনুভূতি বাইরে প্রকাশ করে না, ফলে সে অন্যদের সাথে মেলামেশা এড়িয়ে চলে। নীতুর আচরণে এর সবগুলো বৈশিষ্ট্যই দেখা যায়।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বকুল ক্লাস ফাঁকি দেয়, বন্ধুদের সাথে ঘোরে এবং অন্যের জানালার কাচ ভাঙে। এটি বহির্মুখী বা আচরণগত সমস্যা, যা থেকে কিশোর অপরাধের সূত্রপাত হতে পারে। প্রতিবেশীর মন্তব্যটি যথার্থ বলে আমি মনে করি, কারণ:

    ১. স্নেহ ও সময় দেওয়া: বাবা-মা সন্তানকে সময় ও ভালোবাসা দিলে সে মানসিকভাবে নিরাপদ বোধ করে এবং বাইরে ভুল সঙ্গ খোঁজে না।
    ২. নজরদারি ও দিকনির্দেশনা: সন্তান স্কুলে নিয়মিত যাচ্ছে কি না, কাদের সাথে মিশছে, তা খেয়াল রাখলে বকুলের ক্লাস ফাঁকি দেওয়া শুরুতেই ধরা পড়ত।
    ৩. নৈতিক শিক্ষা ও আদর্শ: পরিবার থেকে সঠিক-ভুলের শিক্ষা পেলে শিশু অন্যের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকে।
    ৪. শাসন ও আদরের ভারসাম্য: অতিরিক্ত কড়াকড়ি বা অতিরিক্ত ছাড়, দুটোই আচরণগত সমস্যা বাড়ায়।

    তবে শুধু বাবা-মা নয়, বিদ্যালয় ও সমাজেরও ভূমিকা আছে। সুতরাং, বকুলের মতো সমস্যা প্রতিরোধে বাবা-মায়ের সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তাই প্রতিবেশীর মন্তব্য যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন