সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম পেশার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারিয়ে রনি মিয়া সিইপিজেড এলাকায় ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত। তার পাশে কালু মিয়া সুস্থ ও সামর্থ্যবান হওয়া সত্ত্বেও একই পদ্ধতিতে সাহায্য কামনা করেন। এজন্য তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হয়। পথচারী হাসিব তাদের অবস্থা থেকে ইংল্যান্ডের ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনের কথা স্মরণ করে।
- ক)(1)
১৯০৫ সালের দরিদ্র আইন কমিশনের সভাপতি কে ছিলেন?
- খ)(2)
পেশাগত দুর্ঘটনা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের রনি মিয়া ইংল্যান্ডের ১৬০১ সালে দরিদ্র আইনের আলোকে কোন শ্রেণীর দরিদ্র? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত আইনে রনি ও কালু মিয়াদের মত দরিদ্রদের অবস্থার উন্নয়নে কি ধরনের কার্যক্রম উল্লেখ আছে তা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯০৫ সালের দরিদ্র আইন কমিশনের সভাপতি ছিলেন লর্ড জর্জ হ্যামিল্টন (Lord George Hamilton)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনকালে অসাবধানতা, যান্ত্রিক ত্রুটি বা অনিরাপদ পরিবেশের কারণে কোনো শ্রমিকের শারীরিক ক্ষতি, অঙ্গহানি বা প্রাণহানি ঘটলে তাকে পেশাগত দুর্ঘটনা (Occupational accident) বলে। এর ফলে শ্রমিক সাময়িক বা স্থায়ীভাবে কর্মক্ষমতা হারাতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের রনি মিয়া ইংল্যান্ডের ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনের আলোকে 'অক্ষম দরিদ্র' (The impotent poor) শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইনে দরিদ্রদের তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছিল: ১. সক্ষম দরিদ্র (The able-bodied poor), ২. অক্ষম দরিদ্র (The impotent poor) এবং ৩. নির্ভরশীল বালক-বালিকা (The dependent children)। যেসকল ব্যক্তি শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতা, বার্ধক্য কিংবা পঙ্গুত্বের কারণে কাজ করতে অক্ষম, তাদের অক্ষম দরিদ্র শ্রেণিভুক্ত করা হতো।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারিয়ে রনি মিয়া শারীরিকভাবে পঙ্গু হয়ে পড়েন এবং নিজে উপার্জন করতে না পেরে ভিক্ষাবৃত্তিতে লিপ্ত হন। যেহেতু তিনি শারীরিকভাবে কর্মে অক্ষম, তাই ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনের শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী তিনি 'অক্ষম দরিদ্র' শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৬০১ সালের দরিদ্র আইনে রনি মিয়া (অক্ষম দরিদ্র) ও কালু মিয়ার (সক্ষম দরিদ্র) মতো দরিদ্রদের অবস্থার উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট ও পৃথক কার্যক্রমের উল্লেখ ছিল, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. রনি মিয়ার মতো অক্ষম দরিদ্রদের ক্ষেত্রে:
আইন অনুযায়ী পঙ্গু ও অক্ষম দরিদ্রদের 'দরিদ্রাগার' বা আলমসহাউসে (Almshouse) আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হতো। সেখানে তাদের ভরণপোষণ ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হতো। কোনো অক্ষম দরিদ্র ব্যক্তির যদি বসবাসের জন্য ঘর থাকত, তবে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক আশ্রয়ের বাইরে ঘরে রেখে 'বহিঃসাহায্য' (Outdoor relief) হিসেবে খাদ্য, বস্ত্র ও জ্বালানি প্রদান করা হতো। তাদের কোনো প্রকার কঠোর শ্রমে বাধ্য না করে কেবল বেঁচে থাকার উপযোগী মানবিক সাহায্য দেওয়া হতো।২. কালু মিয়ার মতো সক্ষম দরিদ্রদের ক্ষেত্রে:
কালু মিয়ার মতো সুস্থ ও সামর্থ্যবান ব্যক্তি যারা কাজ করতে পারত, তাদের সাহায্য দেওয়া নিষিদ্ধ ছিল। তাদের 'সংশোধনাগার' (House of correction) বা ওয়ার্কহাউসে (Workhouse) পাঠানো হতো এবং কঠোর শ্রমে নিয়োজিত করা হতো। কাজ করতে অস্বীকার করলে বা ভিক্ষাবৃত্তি করলে তাদের কারাদণ্ড ও শারীরিক শাস্তির বিধান ছিল। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল তাদের কর্মমুখী করা এবং অলসতা ও ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ করা।সুতরাং, ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনে রনি মিয়ার মতো অক্ষমদের জন্য মানবিক পুনর্বাসনমূলক আশ্রয় এবং কালু মিয়ার মতো সক্ষম অলসদের জন্য বাধ্যতামূলক শ্রম ও সংশোধনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও