বিজ্ঞান • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২০
বিজ্ঞান প্রশ্ন
নুজহাতের স্কুলে বিজ্ঞান বিষয়ের মাল্টিমিডিয়া ক্লাস চলছিল। সে লক্ষ করল, মানুষের বক্ষগহ্বরের মাঝখানে একটু বাম দিকে অবস্থিত একটি অঙ্গ অবিরত সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে সারাদেহে লাল বর্ণের তরল পদার্থ ছড়িয়ে দিচ্ছে।
- ক)(1)
সিরাম কাকে বলে?
- খ)(2)
O গ্রুপের রক্তকে ইউনিভার্সাল ডোনার (সর্বজনীন দাতা) বলা হয় কেন?
- গ)(3)
নুজহাতের পর্যবেক্ষণকৃত তরল পদার্থটি দেহের জন্য অপরিহার্য কেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটিতে প্রবাহিত তরলে শর্করা বৃদ্ধি পেলে সৃষ্ট রোগটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য না নিরাময়যোগ্য? যুক্তিসহ মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
রক্ত জমাট বাঁধার পর যে হালকা হলুদ বর্ণের স্বচ্ছ তরল পদার্থ থাকে, তাকে সিরাম বলে।
- খ)
O গ্রুপের লোহিত রক্তকণিকায় কোনো অ্যান্টিজেন (A বা B) থাকে না। তাই এই রক্ত অন্য যেকোনো গ্রুপের গ্রহীতাকে দিলে গ্রহীতার প্লাজমার অ্যান্টিবডি এতে বিক্রিয়া করে না, রক্ত জমাট বাঁধে না। এ কারণে O গ্রুপের রক্তকে ইউনিভার্সাল ডোনার বলা হয়।
- গ)
নুজহাতের পর্যবেক্ষণ করা অঙ্গটি হৃৎপিণ্ড এবং তরল পদার্থটি রক্ত। রক্ত দেহের জন্য অপরিহার্য, কারণ—
১. এটি ফুসফুস থেকে অক্সিজেন দেহকোষে পৌঁছে দেয় এবং কোষ থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড ফুসফুসে নিয়ে আসে।
২. হজমকৃত খাদ্যসার ও হরমোন দেহের বিভিন্ন অংশে পরিবহন করে।
৩. বর্জ্য পদার্থ বহন করে কিডনি ও অন্যান্য অঙ্গে পৌঁছে দেয়।
৪. শ্বেতরক্তকণিকা রোগজীবাণু ধ্বংস করে এবং প্লাটিলেট রক্ত জমাট বাঁধিয়ে রক্তক্ষরণ বন্ধ করে।
৫. দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।এ কারণে রক্ত ছাড়া দেহ বাঁচতে পারে না।
- ঘ)
রক্তে শর্করা বা গ্লুকোজ বৃদ্ধি পেলে ডায়াবেটিস মেলিটাস রোগ হয়। আমার মতে, এ রোগটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য, নিরাময়যোগ্য নয়।
১. অগ্ন্যাশয় যথেষ্ট ইনসুলিন তৈরি না করলে বা দেহ ইনসুলিন ঠিকভাবে ব্যবহার না করতে পারলে এ রোগ হয়। এটি সম্পূর্ণ সেরে যায় না।
২. নিয়মিত ওষুধ বা ইনসুলিন, সুষম ও পরিমিত খাদ্যগ্রহণ, শর্করা ও চিনি কম খাওয়া এবং নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে রক্তের গ্লুকোজ স্বাভাবিক মাত্রায় রাখা যায়।
৩. নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা ও ওজন নিয়ন্ত্রণও সহায়ক।সুতরাং, ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য নয়; সঠিক জীবনযাপনের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও