হিন্দু ধর্ম • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৬
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
তৃষ্ণা একজন দরিদ্র পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার ছোট ভাইকে অনেক কষ্টে লেখাপড়া শিখাচ্ছে। বছরের প্রথম দিবসে খবর পায় ভাইটি খুব কঠিন রোগে আক্রান্ত। ভাইকে সুস্থ করার জন্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান দোলযাত্রার আয়োজন করেন। ভাইয়ের মঙ্গল কামনায় তৃষ্ণা ভাইয়ের কপালে ফোঁটা এবং হাত রাখী বেঁধে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা জানায়। ঈশ্বরের কৃপায় ভাইটি সুস্থ হয়ে ওঠে।
- ক)(1)
ভ্রাতৃদ্বিতীয়া কখন পালিত হয়?
- খ)(2)
'রাখী বন্ধন' বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
তৃষ্ণা যেন যমুনা দেবীর প্রতিচ্ছবি- ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
ভাইয়ের মঙ্গল কামনায় দোলযাত্রা অনুষ্ঠানের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
কার্তিক মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে ভ্রাতৃদ্বিতীয়া পালিত হয়।
- খ)
'রাখী' কথাটি 'রক্ষা' শব্দ থেকে এসেছে। রাখীবন্ধন একটি হিন্দু ধর্মাচার। শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে বোনেরা ভাইদের হাতে রাখী নামে একটি পবিত্র সুতো বেঁধে দেয়। এটি ভাই-বোনের আজীবন ভালোবাসার প্রতীক। নিজের ভাই ছাড়াও আত্মীয় ও অনাত্মীয় ভাইদের হাতেও রাখী পরানো হয়, তাই এটি সম্পর্ককে মধুর করে। এ দিনটি রাখী পূর্ণিমা নামেও পরিচিত।
- গ)
তৃষ্ণার কাজের মধ্যে যমুনা দেবীর আদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে।
যমুনা দেবীর কাহিনি: পুরাণে উল্লেখ আছে, কার্তিক মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে যমুনা দেবী তাঁর ভাই যমের মঙ্গল কামনায় পূজা করেন। এ পুণ্যপ্রভাবে যমদেব অমরত্ব লাভ করেন। এ কল্যাণব্রত স্মরণে এখনকার বোনেরা ভ্রাতৃদ্বিতীয়া বা ভাইফোঁটা পালন করে। এদিন বোনেরা ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দিয়ে মঙ্গল কামনা করে এবং ভাইকে উপাদেয় খাবার খাওয়ায়।
উদ্দীপকের সাথে মিল: তৃষ্ণা দরিদ্র পরিবারের উপার্জনক্ষম বোন, যে কষ্ট করে ভাইকে পড়াশোনা শেখাচ্ছে। ভাই কঠিন রোগে আক্রান্ত হলে সে ভাইয়ের মঙ্গল কামনায় ধর্মীয় আচার পালন করে, কপালে ফোঁটা দেয় ও রাখী বাঁধে এবং ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে। যমুনা যেমন ভাইয়ের কল্যাণ চেয়েছিলেন, তৃষ্ণাও তেমনি ভাইয়ের জন্য প্রার্থনা করেছে। এ কারণে তৃষ্ণাকে যমুনা দেবীর প্রতিচ্ছবি বলা যায়।
- ঘ)
উদ্দীপকে তৃষ্ণা ভাইয়ের মঙ্গল কামনায় দোলযাত্রার আয়োজন করেছে। আমার মতে, ভাইয়ের জন্য এ আয়োজনের আংশিক যৌক্তিকতা আছে, তবে ভাইয়ের মঙ্গল কামনার জন্য নির্দিষ্ট অনুষ্ঠান ভ্রাতৃদ্বিতীয়া ও রাখীবন্ধন।
দোলযাত্রার পরিচয়: ফাল্গুনী পূর্ণিমা বা দোলপূর্ণিমার দিন রাধা-কৃষ্ণকে দোলায় রেখে আবীর ও কুঙ্কুমে রাঙিয়ে পূজা করা হয়। এটি মূলত বৈষ্ণবীয় উৎসব, যার আগের দিন 'নেড়া পোড়া' করে অমঙ্গল দূর করার প্রতীকী অনুষ্ঠান হয়।
১. ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা: দোলযাত্রা একটি ধর্মানুষ্ঠান। এতে পূজা ও প্রার্থনার মাধ্যমে ঈশ্বরের কাছে আশ্রয় চাওয়া যায়। তৃষ্ণা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছে এবং তার বিশ্বাস ও মানসিক শক্তি বেড়েছে।
২. অমঙ্গল দূরের প্রতীক: নেড়া পোড়া অমঙ্গল ধ্বংসের প্রতীক। ভাইয়ের রোগরূপ অমঙ্গল দূর হোক, এই কামনার সাথে এর ভাবগত মিল আছে।
৩. ভেদাভেদ ভোলা ও ঐক্য: দোলযাত্রায় শত্রু-মিত্র সবাই বিভেদ ভুলে একাত্ম হয়। এতে আত্মীয়-প্রতিবেশীর সহযোগিতা ও সহানুভূতি পাওয়া যায়, যা কঠিন সময়ে তৃষ্ণার জন্য সহায়ক।
৪. সীমাবদ্ধতা: তবে দোলযাত্রা মূলত রাধা-কৃষ্ণের লীলা স্মরণের বসন্ত-উৎসব। ভাইয়ের কপালে ফোঁটা ও হাতে রাখী পরানো ভ্রাতৃদ্বিতীয়া ও রাখীবন্ধনের আচার।সুতরাং, ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা ও মানসিক শক্তির দিক থেকে দোলযাত্রার আয়োজন যুক্তিসঙ্গত, কিন্তু ভাইয়ের মঙ্গল কামনার মূল অনুষ্ঠান হলো ভ্রাতৃদ্বিতীয়া ও রাখীবন্ধন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও