হিন্দু ধর্ম • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
মলয় হাঁপানি রোগে ভুগছে। হঠাৎ ক্লাসে অসুস্থ হয়ে পড়লে, শ্রেণিশিক্ষক তাকে একটি আসন অনুশীলন করার পরামর্শ দেন। হাঁটু গেড়ে বসে, প্রণাম করার ভঙ্গিতে কপাল মাটিতে ঠেকিয়ে এই আসন করতে হয়। মলয় নিয়মিত এই আসন চর্চা করে এখন সুস্থ আছে।
- ক)(1)
ঈশ্বর-প্রণিধান কী?
- খ)(2)
প্রাণায়াম কেন অনুশীলন করা হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত উক্ত আসনের পদ্ধতি বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
মলয় যে আসনটি অনুশীলন করে তার প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
সমস্ত কর্ম ও ইচ্ছা ঈশ্বরে অর্পণ করাকে ঈশ্বর-প্রণিধান বলে।
- খ)
প্রাণায়ামের মাধ্যমে শ্বাস-প্রশ্বাসের গতিকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ছন্দোবদ্ধভাবে ধীরে ধীরে শ্বাস গ্রহণ করলে শ্বসনতন্ত্র বলিষ্ঠ হয় এবং স্নায়ুতন্ত্র শান্ত থাকে। এতে কামনা-বাসনাও কমে। যোগীর আয়ু শ্বাস গণনায় স্থির হয় বলে তিনি দীর্ঘ ও গভীরভাবে শ্বাস নেন। তাই প্রাণায়াম অনুশীলন করা হয়।
- গ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত আসনটি অর্ধকূর্মাসন, যেখানে হাঁটু গেড়ে বসে প্রণামের ভঙ্গিতে কপাল মাটিতে ঠেকাতে হয় এবং হাঁপানির উপকার হয়।
‘কূর্ম’ অর্থ কচ্ছপ। এ আসনে দেহ কচ্ছপের পিঠের মতো দেখায় বলে একে অর্ধকূর্মাসন বলে।
পদ্ধতি:
১. হাঁটু গেড়ে বসতে হবে। দুই হাঁটু ও দুই পায়ের পাতা জোড়া থাকবে, নিতম্ব গোড়ালির ওপর থাকবে এবং পায়ের তলা ওপরের দিকে থাকবে। হাত হাঁটুর ওপর আরাম করে রাখতে হবে।
২. হাত দুটো কানের পাশ দিয়ে মাথার ওপর তুলে তালু জোড়া করে এক হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে অন্য হাতের বুড়ো আঙুল জড়িয়ে ধরতে হবে। মেরুদণ্ড সোজা থাকবে।
৩. নিঃশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে কোমর থেকে প্রণামের ভঙ্গিতে কপাল মাটিতে ঠেকাতে হবে। তালু যতদূর সম্ভব দূরে মাটিতে থাকবে। নিতম্ব যেন গোড়ালি থেকে না ওঠে।
৪. শ্বাস স্বাভাবিক রেখে ৩০ সেকেন্ড থেকে নিঃশ্বাস নিতে নিতে আগের মতো বসতে হবে, তারপর ৩০ সেকেন্ড শবাসনে বিশ্রাম নিতে হবে। এভাবে তিনবার করতে হবে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীর জন্য এ আসন নিষেধ। - ঘ)
মলয় যে আসনটি অনুশীলন করে সেটি অর্ধকূর্মাসন। নিয়মিত অনুশীলনে মলয় হাঁপানি থেকে সুস্থ হয়েছে। এ আসনের প্রভাব বহুমুখী।
১. শ্বাসতন্ত্র ও হাঁপানি: অর্ধকূর্মাসনে হাঁপানি ও ডায়াবেটিসে উপকার হয়। মলয়ের হাঁপানি থেকে সুস্থতা এর প্রমাণ।
২. পরিপাক ও পেটের রোগ: পেটের অভ্যন্তরীণ অংশ সবল ও সক্রিয় হয়, যকৃৎ ভালো থাকে। অজীর্ণ, অম্ল, কোষ্ঠকাঠিন্য, আমাশয় দূর হয়, হজমশক্তি বাড়ে এবং পেটের বায়ুর প্রকোপ কমে।
৩. মেরুদণ্ড ও পেশি: মেরুদণ্ড সতেজ হয়, শরীর শিথিল হয়। পায়ের পেশির ব্যথা, হাড়ের বাত ও কাঁধের পেশির ব্যথা সারে। পেট ও নিতম্বের চর্বি কমে এবং পেট ও উরুর পেশি সবল হয়।
৪. মানসিক উপকার: মস্তিষ্ক শান্ত হয়, মন ধীর ও স্থির হয়। ভয়-ভীতি ও ক্রোধ আলগা হয় এবং সুখ-দুঃখ সমানভাবে নেওয়ার ক্ষমতা আসে। এছাড়া যোগীকে সাধনায় মনোনিবেশের জন্য প্রস্তুত করে।সুতরাং, অর্ধকূর্মাসন শরীর ও মনকে সুস্থ রাখে এবং হাঁপানির মতো রোগে উপকারী বলে মলয় এর সুফল পেয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও