ইসলাম • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৬

ইসলাম প্রশ্ন

বিদ্যালয়ের শিক্ষা সপ্তাহ পালনের সময় প্রধান অতিথি তার বক্তৃতায় প্রথমত, এমন একজন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেন, যিনি তার কাজের জন্য দেশময় খ্যাতি অর্জন করেন। ফলে দেশের রাষ্ট্র প্রধান তাকে রাজদরবারে এসে ইলম্ শিক্ষা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু আত্মমর্যাদাবোধের কারণে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। দ্বিতীয়ত, প্রধান অতিথি অপর একজন জ্ঞানীর কথা উল্লেখ করেন, যিনি ইসলামি আইনের বিভিন্ন তত্ত্বকে বোর্ড গঠনের মাধ্যমে সহজ করে জনসাধারণের কাছে তুলে ধরেন। সরকার তাকে বিচারপতির পদ দিতে চাইলে তিনি তা গ্রহণ করেননি।

  1. ক)

    সিরাত কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    রাসূল (স) এর জীবনাদর্শ অনুকরণীয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    প্রধান অতিথি তার আলোচনায় প্রথমত কোন মনীষীর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন? তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    প্রধান অতিথি তার আলোচনায় দ্বিতীয়ত যে মনীষীর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, ফিকহ শাস্ত্রে তার অবদান মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    রাসুলুল্লাহ (স)-এর জীবনচরিত বা জীবনী সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনাকে সিরাত (Sirat) বলে।

  2. খ)

    রাসুলুল্লাহ (স)-এর জীবনাদর্শ অনুকরণীয়, কারণ আল্লাহ নিজেই বলেছেন, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আহযাব, ৩৩:২১) তিনি ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে সততা, ন্যায়বিচার ও দয়ার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর জীবন কুরআনের বাস্তব রূপ। তাই তাঁর আদর্শ অনুসরণ করলে মানুষ দুনিয়া ও আখিরাতে সফল হয়।

  3. গ)

    প্রধান অতিথি প্রথমত ইমাম মালিক (র)-এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।

    ইমাম মালিক (র) মদিনায় জন্মগ্রহণ করেন এবং জীবনের বেশিরভাগ সময় মদিনাতেই ইলম চর্চা করেন। তিনি হাদিস ও ফিকহের বিখ্যাত ইমাম। তাঁর সংকলিত গ্রন্থ 'আল-মুয়াত্তা' প্রাচীনতম হাদিস গ্রন্থগুলোর অন্যতম। তাঁর খ্যাতি দেশময় ছড়িয়ে পড়লে খলিফা তাঁকে রাজদরবারে এসে শিক্ষা দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু তিনি জ্ঞানের মর্যাদা ও আত্মসম্মান রক্ষার জন্য তা প্রত্যাখ্যান করেন। এ ঘটনা উদ্দীপকের বর্ণনার সাথে মেলে। তাই প্রথমত তিনি ইমাম মালিক (র)-কে ইঙ্গিত করেছেন।

  4. ঘ)

    প্রধান অতিথি দ্বিতীয়ত ইমাম আবু হানিফা (র)-এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। তিনি 'ইমামে আজম' উপাধিতে খ্যাত এবং হানাফি মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা। সরকার বিচারপতির পদ দিতে চাইলে তিনি তা গ্রহণ করেননি।

    ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর অবদান:

    ১. ফিকহ সংকলন বোর্ড গঠন: তিনি বিশিষ্ট আলিমদের নিয়ে একটি পরিষদ গঠন করে পরামর্শের ভিত্তিতে ইসলামি আইনের বিষয়গুলো সংকলন করেন। এটি সম্মিলিত ইজতিহাদের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
    ২. ফিকহের নীতিমালা প্রণয়ন: তিনি কুরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াসের ভিত্তিতে ফিকহের সুশৃঙ্খল নীতিমালা তৈরি করেন।
    ৩. নতুন সমস্যার সমাধান: কিয়াস ও ইজতিহাদের মাধ্যমে তিনি নতুন নতুন সমস্যার সমাধান দিয়ে ফিকহকে সহজ ও যুগোপযোগী করেন।
    ৪. শিষ্য তৈরি: তাঁর যোগ্য ছাত্ররা তাঁর মতামত বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেন।

    সুতরাং, ফিকহ শাস্ত্রের বিকাশে ইমাম আবু হানিফা (র)-এর অবদান অসামান্য ও চিরস্মরণীয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন