বাংলা ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

তপুর বয়স ছয়। সে রাত হলেও ঘুমাতে চায় না। তপুর মা সুরাইয়া বেগম চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে শাশুড়িকে বলেন, 'মা আপনি তপুকে একটু ঘুম পাড়ান, আমি জি-বাংলার সিরিয়ালটা দেখে আসি।' তপুর দাদি বলেন, আসো দাদুভাই, তোমাকে ডালিম কুমারের গল্প বলি।' কিন্তু তপু বলে, 'না, আমি ডরেমন কার্টুন দেখব।' দাদি ভাবেন- আমাদের অতীত জীবনের গল্পগুলো যদি বাঁচিয়ে রাখা যেত তাহলে কতই না ভালো হতো। তিনি আফসোস করে বলেন, 'কী যুগ আইলোরে, জি-বাংলা আর ডরিমান সব খাইল রে'।

  1. ক)

    ভূয়োদর্শন কী?

    (1)
  2. খ)

    পল্লিগানগুলোকে অমূল্য রত্নবিশেষ বলা হয়েছে কেন? বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের তপু ও তার মায়ের মানসিকতায় 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধের যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপকের দাদির চিন্তা-চেতনাই পারে 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধ লেখকের আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করতে।"- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ভূয়োদর্শন হলো বহু দেখার ফলে অর্জিত জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা।

  2. খ)

    পল্লিগানগুলোকে অমূল্য রত্নবিশেষ বলা হয়েছে, কারণ এসব গান গ্রামের সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, আবেগ ও জীবনের অভিজ্ঞতার সহজ-সরল প্রকাশ। এগুলো বহুকাল ধরে মুখে মুখে চলে এসেছে এবং বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির মূল্যবান সম্পদ। একবার হারিয়ে গেলে এর বিকল্প পাওয়া যায় না, তাই এর মূল্য রত্নের মতো।

  3. গ)

    উদ্দীপকের তপু ও তার মায়ের মানসিকতায় ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের পল্লিসাহিত্যের প্রতি অনীহা ও আধুনিক বিনোদনের প্রতি আকর্ষণ-এর দিকটি ফুটে উঠেছে।

    তপু দাদির বলা ডালিম কুমারের গল্প শুনতে চায় না, সে ডরেমন কার্টুন দেখতে চায়। তার মা সুরাইয়া বেগমও ছেলেকে ঘুম পাড়ানোর দায়িত্ব দিয়ে জি-বাংলার সিরিয়াল দেখতে যান। প্রবন্ধেও লেখক দেখিয়েছেন, মানুষ ক্রমে ছড়া, রূপকথা ও পল্লিগানের চর্চা থেকে সরে যাচ্ছে। তাই তপু ও তার মায়ের মনোভাবে প্রবন্ধের এই দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    মন্তব্যটি যথার্থ। ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের লেখক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর আকাঙ্ক্ষা হলো, পল্লিসাহিত্য হারিয়ে যাওয়ার আগেই তা সংরক্ষণ ও চর্চা করা। উদ্দীপকের দাদির চিন্তা-চেতনায় সেই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন আছে।

    ১. দাদি তপুকে ডালিম কুমারের গল্প শোনাতে চান, অর্থাৎ তিনি লোককাহিনিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে আগ্রহী।
    ২. তিনি আফসোস করে ভাবেন, অতীত জীবনের গল্পগুলো বাঁচিয়ে রাখা গেলে কত ভালো হতো। এতে সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার উপলব্ধি প্রকাশ পায়।
    ৩. আধুনিক বিনোদনের চাপে পল্লিসাহিত্য হারিয়ে যাচ্ছে বলে তাঁর যে বেদনা, প্রাবন্ধিকেরও একই বেদনা ছিল।

    সুতরাং, দাদির মতো চিন্তা-চেতনাই ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধ লেখকের আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করতে পারে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন