ব্যবসায় উদ্যোগ • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪

ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন

মেঘনা নদীতে খাচায় মৎস্য চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে। এর মাধ্যমে প্রাকৃতিক সুবিধায় মৎস্য চাষ করে চাষীরা স্বাবলম্বী। কিন্তু চাষীদের সাথে কথা বলে তাদের সমস্যাও জানা গেছে। তারা বললেন শুকনো মৌসুমে বিভিন্ন ডাইং কোম্পানিগুলো তাদের শিল্পবর্জ্য নদীতে ছেড়ে দেয়। তাই তারা সেই সময় মৎস্য চাষ বন্ধ রাখেন। ভবিষ্যতে মাছের অস্তিত্ব হুমকির মধ্যে পড়বে বলে চাষীরা মনে করেন।

  1. ক)

    সামাজিক দায়বদ্ধতা কী?

    (1)
  2. খ)

    আচরণের মানদণ্ড কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে মৎস্য চাষীদের ব‍্যবসায় পরিচালনায় কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ডাইং কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে কোন বড় সমস্যাটি প্রতিফলিত হয়েছে? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ব্যবসায়ের সামাজিক দায়বদ্ধতা বলতে মুনাফা অর্জনের সাথে সমাজের কিছু মঙ্গলময় বা কল্যাণমূলক কাজ করাকে বোঝায়।

  2. খ)

    আচরণের মানদণ্ড হলো নৈতিকতা। নৈতিকতা শব্দটি গ্রিক 'ইথোস' থেকে এসেছে, যার অর্থ মানব আচরণের মানদণ্ড। এর মাধ্যমে মানুষ ভালো-মন্দের বিচার করে সঠিকটি গ্রহণ করে। নৈতিকতা মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মের সাথে জড়িত। যেমন একজন শিক্ষার্থীর নৈতিক আচরণ হলো যথাসময়ে স্কুলে যাওয়া, বাড়ির কাজ করা এবং শিক্ষকের নির্দেশ মেনে চলা।

  3. গ)

    উদ্দীপকে মৎস্য চাষীদের ব্যবসায় পরিচালনায় প্রাকৃতিক পরিবেশের দিকটি ফুটে উঠেছে।

    প্রাকৃতিক পরিবেশ ব্যবসায়ের একটি পরিবেশগত উপাদান। বাংলাদেশ নদীবিধৌত ও সমুদ্রবেষ্টিত বলে মৎস্য শিল্প বিকাশের উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ এখানে বিদ্যমান। উদ্দীপকে মেঘনা নদীর প্রাকৃতিক সুবিধা ব্যবহার করে চাষীরা খাঁচায় মৎস্য চাষ করছেন এবং স্বাবলম্বী হয়েছেন। আবার নদীর পানি দূষিত হলে সেই প্রাকৃতিক পরিবেশই ব্যবসায়কে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই ব্যবসায় পরিচালনায় প্রাকৃতিক পরিবেশের গুরুত্ব স্পষ্ট।

  4. ঘ)

    ডাইং কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রমে পরিবেশ দূষণ, বিশেষ করে পানি দূষণ নামক বড় সমস্যাটি প্রতিফলিত হয়েছে।

    ১. শিল্পবর্জ্যে নদী দূষণ: পাঠ্যবই অনুযায়ী ব্যবসায় ও শিল্পোন্নয়নের সবচেয়ে বড় সমস্যা পরিবেশ দূষণ। কারখানার বর্জ্য নদী-নালায় পড়ে পানি দূষিত করে। উদ্দীপকে ডাইং কোম্পানিগুলো শুকনো মৌসুমে শিল্পবর্জ্য নদীতে ফেলছে।
    ২. জলজ প্রাণীর ক্ষতি: বিষাক্ত পানিতে মাছসহ জলজ প্রাণী বাস করতে পারে না। তাই চাষীরা মৎস্য চাষ বন্ধ রাখতে বাধ্য হন এবং মাছের অস্তিত্ব হুমকিতে পড়ে।
    ৩. দায়বদ্ধতার অভাব: কাপড়ের রং তৈরিতে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়। ব্যবসায়ীদের কারখানার বর্জ্য প্রবহমান নদী বা জলাশয়ে ফেলা উচিত নয়। প্রতিটি কারখানায় বর্জ্য শোধনাগার থাকা জরুরি, যা তারা মানছে না।
    ৪. স্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য: দূষণে মানুষের স্বাস্থ্যহানি ঘটে এবং জীববৈচিত্র্য হুমকিতে পড়ে।

    সুতরাং, ডাইং কোম্পানিগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে সৃষ্ট পরিবেশ দূষণই তাদের ব্যবসায়ের বড় সমস্যা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন