ভূগোল এবং পরিবেশ • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩

ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: সুরেশ টেলিভিশনে সমুদ্র তলেদেশের উপর নির্মিত একটি প্রতিবেদনে দেখতে পেল, মহাদেশসমূহের স্থলভাগের কিছু অংশ ঢালু হয়ে পানির মধ্যে নেমে এক ধরনের ভূমিরূপ গঠন করেছে।দৃশ্যকল্প-২: মিলি তার পাঠ্যবই পড়ে জানতে পারে সমুদ্র তলদেশের ভূভাগ' হঠাৎ, খাড়াভাবে সমুদ্রের গভীর তলদেশে নেমে এক ধরনের ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়েছে। আবার আরেকটি ভূমিরূপ রয়েছে যেখানে অসংখ্য গভীর খাত রয়েছে।

  1. ক)

    মালভূমি কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ভি আকৃতির উপত্যকা কীভাবে। ভাবে সৃষ্টি হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    সুরেশের দেখা ভূমিরূপটির গঠন প্রক্রিয়া বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ এর ভূমিরূণ দুটির কোনটিতে পাললিক শিলা সৃষ্টি হয়? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    পর্বত থেকে নিচু কিন্তু সমভূমি থেকে উঁচু, খাড়া ঢালযুক্ত ঢেউ খেলানো বিস্তীর্ণ সমতলভূমিকে মালভূমি বলে।

  2. খ)

    পর্বতের ঊর্ধ্বগতিতে নদীর স্রোতের বেগ প্রবল হয়। নদীখাতের পার্শ্ব অপেক্ষা তলদেশের শিলা বেশি কোমল হলে পার্শ্বক্ষয়ের চেয়ে নিম্নক্ষয় বেশি হয়।
    এভাবে ক্রমাগত ক্ষয়ের ফলে নদী উপত্যকা অনেকটা ইংরেজি 'V' আকৃতির হয়। তাই একে 'ভি' আকৃতির উপত্যকা বলে।

  3. গ)

    সুরেশের দেখা ভূমিরূপটি মহীসোপান।

    মহাদেশের চারদিকের স্থলভাগের কিছু অংশ অল্প ঢালু হয়ে সমুদ্রে নেমে গেলে মহীসোপান সৃষ্টি হয়। এর গঠন প্রক্রিয়া নিচে বর্ণনা করা হলো।

    ১. স্থলভাগের উপকূলীয় অঞ্চল নিমজ্জিত হওয়ার ফলে এটি গঠিত হয়।
    ২. সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতার তারতম্যের কারণেও মহীসোপান সৃষ্টি হয়।
    ৩. সমুদ্রতটে সমুদ্রতরঙ্গের ক্ষয়ক্রিয়াও এর গঠনে সহায়তা করে।

    এভাবে উপকূলরেখা থেকে সমুদ্রতলদেশ ক্রমান্বয়ে নিমজ্জিত হয়ে মহীসোপান গড়ে ওঠে। এর সমুদ্রের পানির সর্বোচ্চ গভীরতা ১৫০ মিটার।

  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২-এ উল্লিখিত ভূমিরূপ দুটি হলো মহীঢাল (ভূভাগ হঠাৎ খাড়াভাবে গভীর তলদেশে নেমে যাওয়া) এবং গভীর সমুদ্রের সমভূমি/সমুদ্রখাত অঞ্চল (যেখানে অসংখ্য গভীর খাত আছে)। এর মধ্যে মহীঢালে পাললিক শিলা সৃষ্টি হয়।

    ১. মহীঢালের ঢাল মৃদু হলে সেখানে জীবজন্তুর দেহাবশেষ ও পলি অবক্ষেপিত হয়।
    ২. এসব পদার্থ স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়ে পাললিক শিলা গঠন করে।
    ৩. অপরদিকে সমুদ্রখাত খাড়া ঢালবিশিষ্ট ও খুব গভীর। এটি প্লেট সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট প্লেট সীমানায় অবস্থিত এবং ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরিপ্রবণ।

    সুতরাং, পলি ও জৈব অবশেষ সঞ্চিত হওয়ার সুযোগ থাকায় মহীঢালে পাললিক শিলা সৃষ্টি হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন