বিজ্ঞান • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২০
বিজ্ঞান প্রশ্ন
নাম | রক্তের গ্রুপ / ফ্যাক্টর
সুজন | A
নির্জন | B
নাবিল | Rh⁺
রিমি | Rh⁻
- ক)(1)
সিরাম কী?
- খ)(2)
শ্বেত রক্তকণিকাকে দেহের প্রহরী বলা হয় কেন?
- গ)(3)
সৃজনের রক্ত গ্রহণ করলে নির্জনের কী সমস্যা হতে পারে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
নাবিলকে বিয়ে করা রিমির ঝুঁকিপূর্ণ কেন? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
রক্তকোষ ও ফাইব্রিনোজেনের মতো জমাট বাঁধার উপাদান আলাদা হওয়ার পর রক্তের যে স্বচ্ছ হালকা হলুদ তরল অংশ থাকে, তাকে সিরাম বলে। এতেই অ্যান্টিবডি থাকে।
- খ)
শ্বেত রক্তকোষ দেহে রোগজীবাণু প্রবেশ করলে ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে গ্রাস করে ধ্বংস করে। এর মধ্যে লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি তৈরি করে জীবাণুকে ধ্বংস করে ও প্রতিরোধ করে। প্রহরী যেমন বাইরের শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করে, তেমনি শ্বেত কোষ জীবাণুর হাত থেকে দেহকে রক্ষা করে। তাই একে দেহের প্রহরী বলা হয়।
- গ)
সুজনের রক্তের গ্রুপ A (সৃজন বলতে সুজনকে ধরা হলো) এবং নির্জনের রক্তের গ্রুপ B।
গ্রুপ B রক্তের লোহিত কোষে B অ্যান্টিজেন থাকে এবং সিরামে A অ্যান্টিজেনের অ্যান্টিবডি থাকে। গ্রুপ A রক্তের লোহিত কোষে A অ্যান্টিজেন আছে।
নির্জন সুজনের A গ্রুপের রক্ত গ্রহণ করলে তার সিরামের A-বিরোধী অ্যান্টিবডি দাতার লোহিত কোষের A অ্যান্টিজেনের সাথে বিক্রিয়া করবে। এতে লোহিত কোষ গুচ্ছবদ্ধ (জমাট) হয়ে যাবে। এ কারণে নির্জনের মারাত্মক জটিলতা এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।
- ঘ)
নাবিলের রক্ত Rh⁺ এবং রিমির রক্ত Rh⁻। নাবিলকে বিয়ে করা রিমির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ সন্তান Rh⁺ হলে সন্তানসম্ভবা মায়ের জটিলতা তৈরি হয়।
১. মা Rh⁻ এবং বাবা Rh⁺ হলে সন্তান সাধারণত Rh⁺ হয়, কারণ Rh⁺ একটি প্রকট বৈশিষ্ট্য।
২. গর্ভাবস্থায় সন্তানের Rh⁺ রক্ত প্লাসেন্টার মাধ্যমে মায়ের রক্তে পৌঁছায়। ফলে মায়ের রক্তরসে Rh⁺-এর বিপরীতে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়।
৩. অ্যান্টিবডি ধীরে তৈরি হয় বলে প্রথম সন্তান সাধারণত সুস্থ থাকে।
৪. দ্বিতীয় সন্তান গর্ভে এলে মায়ের অ্যান্টিবডি ভ্রূণের রক্তে প্রবেশ করে লোহিত কণিকা ধ্বংস করে। এতে গর্ভপাত বা ভ্রূণের মৃত্যু হতে পারে; জীবিত জন্ম হলেও শিশুর প্রচণ্ড রক্তস্বল্পতা ও জন্ডিস হয়।সুতরাং, বিয়ের আগে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়া জরুরি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও