ইসলাম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৪

ইসলাম প্রশ্ন

জনাব তুহিন একজন সমাজসেবক। তিনি যুবসমাজের ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন। যুবকদের মধ্যে কেহ ভালো কাজ করলে তাকে অনুপ্রেরণা দেবার জন্য পুরস্কৃত করেন। আর কেহ অন্যায় কাজ করলে যেকোনোভাবেই হোক তা বন্ধ করার পাশাপাশি সঠিক কাজ করার পরামর্শ দেন। জনাব তুহিনের ছোট ভাই 'ক'-এর বন্ধু তালিব এ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায়। তার ভর্তিতে 'ক' মন খারাপ করে এবং ব্যাপারটি সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি। তাই সে তালিবকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে। 'ক'-এর আচরণ বুঝতে পেরে তার বাবা জনাব আ. সালাম বলেন, "এমন আচরণ মানুষের ভালো কাজকে ধ্বংস করে দেয়।"

  1. ক)

    আত্মশুদ্ধি কী?

    (1)
  2. খ)

    "ব্যয় করার ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা ব্যক্তির বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ"- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    জনাব তুহিনের আচরণে আখলাকে হামিদার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'ক' এর আচরণ চিহ্নিতপূর্বক জনাব আ. সালামের মন্তব্যের মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    নফসকে অন্যায়, অশ্লীলতা ও নিন্দনীয় স্বভাব থেকে পবিত্র করে সৎগুণে সজ্জিত করাকে আত্মশুদ্ধি বলে।

  2. খ)

    ব্যয়ে মধ্যমপন্থা মানে অপচয় ও কৃপণতা এই দুই চরমপন্থা ত্যাগ করে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমিত ব্যয় করা। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে এমন ব্যক্তিদের প্রশংসা করেছেন, যারা ব্যয়ে অপচয়ও করে না, কৃপণতাও করে না।

    মধ্যমপন্থী ব্যক্তি আয় অনুযায়ী পরিকল্পিতভাবে ব্যয় করেন, ফলে অভাবে পড়েন না এবং অন্যের প্রতি দায়িত্বও পালন করতে পারেন। এটি বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ।

  3. গ)

    জনাব তুহিন ভালো কাজে পুরস্কার দিয়ে উৎসাহ দেন এবং অন্যায় কাজে বাধা দিয়ে সঠিক পরামর্শ দেন। এতে আখলাকে হামিদাহর সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ (আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকার) এবং সমাজকল্যাণের দিকটি ফুটে উঠেছে।

    ব্যাখ্যা: ইসলামে সৎকাজে উৎসাহ দেওয়া এবং অন্যায় প্রতিরোধ করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। হাদিসে বলা হয়েছে, কেউ অন্যায় দেখলে সাধ্য অনুযায়ী হাত, মুখ বা অন্তর দিয়ে তা প্রতিহত করবে। তুহিন সেই দায়িত্ব পালন করছেন।

  4. ঘ)

    'ক' বন্ধু তালিবের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় মন খারাপ করে এবং তাকে এড়িয়ে চলে। 'ক'-এর এই আচরণ হিংসা (হাসাদ), যা আখলাকে যামিমাহর অন্তর্ভুক্ত।

    জনাব আ. সালামের মন্তব্যের মূল্যায়ন: তিনি বলেছেন, এমন আচরণ মানুষের ভালো কাজকে ধ্বংস করে দেয়। এটি সম্পূর্ণ যথার্থ, কারণ:
    ১. হাদিসে আছে, হিংসা নেক আমলকে এমনভাবে খেয়ে ফেলে, যেমন আগুন কাঠকে খেয়ে ফেলে।
    ২. হিংসুক ব্যক্তি মানসিক অশান্তিতে ভোগে এবং বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক নষ্ট করে।
    ৩. আল্লাহর বণ্টনের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ পায়, যা ঈমানের দুর্বলতা।

    সুতরাং, জনাব আ. সালামের মন্তব্য যথার্থ। 'ক'-এর উচিত হিংসা ত্যাগ করে বন্ধুর সাফল্যে খুশি হওয়া।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন