বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

দৃশ্যপট-১: "ক" নামক কোম্পানি প্রথমে ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কার করে এবং পরবর্তীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকতে না পেরে এদেশ ত্যাগ করে।দৃশ্যপট-২: "খ" নামক কোম্পানিটি ১৬০০ সালে এদেশে আসে এবং বিভিন্ন ছলচাতুরির মধ্য দিয়ে ১৭৫৭ সালে এদেশের শাসনক্ষমতা হস্তগত করে।

  1. ক)

    ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বাংলা কোন সালে অনুষ্ঠিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যপট-১ পাঠ্যবইয়ের কোন কোম্পানিকে নির্দেশ করে? পাঠ্যবইয়ের আলোকে বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যপট-২-এ উল্লেখিত কোম্পানিটি এদেশের মানুষের উপর দুইশত বছরের ঔপনিবেশিক শাসন কায়েম করে। তুমি কি এর সাথে একমত? যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ছিয়াত্তরের মন্বন্তর ১৭৭০ খ্রিষ্টাব্দে (১১৭৬ বঙ্গাব্দে) অনুষ্ঠিত হয়।

  2. খ)

    ১৭৯৩ সালের ২২শে মার্চ লর্ড কর্নওয়ালিস নির্দিষ্ট রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার ও ওড়িষ্যার জমিদারদের তাঁদের জমির ওপর যে স্থায়ী মালিকানা দেন, তাকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বলে। এতে রাজস্বের পরিমাণ চিরকালের জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। নিয়মিত রাজস্ব দিলে জমিদার বংশানুক্রমে জমিদারি ভোগ করতে পারত, আর রাজস্ব বাকি পড়লে জমিদারির অংশবিশেষ বিক্রি করে তা আদায় করা হতো।

  3. গ)

    দৃশ্যপট-১ পাঠ্যবইয়ের পর্তুগিজ কোম্পানি-কে নির্দেশ করে।

    পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা ১৪৯৮ সালের ২৭শে মে সমুদ্রপথে ভারতের পশ্চিম উপকূলের কালিকট বন্দরে পৌঁছান। এর ফলে ইউরোপের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যে নতুন যুগ শুরু হয়। পর্তুগিজরা কালিকট, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি স্থানে কুঠি স্থাপন করে। ১৫৩৮ সালে তারা চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে বাণিজ্যঘাঁটি নির্মাণের অনুমতি পায় এবং ১৫৭৯ সালে হুগলিতে উপনিবেশ গড়ে তোলে। তবে ব্যবসার পাশাপাশি সাম্রাজ্য বিস্তারে মনোযোগ দিলেও ওলন্দাজ ও ইংরেজদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে তারা এদেশ ত্যাগ করে। উদ্দীপকের 'ক' কোম্পানির জলপথ আবিষ্কার ও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকতে না পারার বিষয়টি পর্তুগিজদের সঙ্গে মিলে যায়।

  4. ঘ)

    দৃশ্যপট-২-এর কোম্পানিটি হলো ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, যারা ১৬০০ সালে আসে এবং ১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে। আমি আংশিক একমত, কারণ দুইশত বছরের ঔপনিবেশিক শাসনের ভিত্তি এই কোম্পানিই স্থাপন করে।

    ১. ক্ষমতা দখল ও শোষণ: পলাশির যুদ্ধের পর কোম্পানি বাংলার ক্ষমতা হাতে নেয়। ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভ করে দ্বৈত শাসন চালু করে, যার ফলে ১৭৭০ সালের ছিয়াত্তরের মন্বন্তরে বাংলার জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মারা যায়।
    ২. অর্থনৈতিক নিপীড়ন: কোম্পানি কুটির শিল্প ধ্বংস করে, দেশের সম্পদ ইংল্যান্ডে পাচার করে এবং ১৭৯৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে কৃষকদের জমিদারের শোষণের মুখে ফেলে।
    ৩. শাসনের মেয়াদ: কোম্পানির প্রত্যক্ষ শাসন চলে ১৮৫৮ সালে সিপাহি বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকার শাসনভার নেওয়া পর্যন্ত। এরপর ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ রাজশাসন চলে। অর্থাৎ ১৭৫৭ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত প্রায় দুইশত বছর ঔপনিবেশিক শাসনের সূচনা কোম্পানিই করেছিল, তবে পুরো সময়টি কোম্পানির শাসন ছিল না।

    সুতরাং, কোম্পানি ঔপনিবেশিক শাসনের ভিত্তি স্থাপন করে প্রায় দুইশত বছরের শাসনের সূচনা করেছিল, তবে পরবর্তী সময়ের শাসন ব্রিটিশ সরকারের হাতে ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন