বাংলা ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

স্তবক-১: মহাত্মা গান্ধী উদার মানসিকতা নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ৷ নিজ স্বার্থ ভুলে তিনি তাদেরকে ভাই বলে, বন্ধু বলে কাছে টেনে নিয়েছিলেন। তাদেরকে না খাওয়াতে পারলে নিজেও না খেয়ে থেকেছেন। এখানে তিনি ধনী-গরিব, জাতি-ধর্ম বিচার করেননি । স্তবক-২: আবু ইসহাকের 'জোঁক' গল্পে দেখা যায়, মহাজনেরা বিভিন্ন অজুহাতে গরিব বর্গাচাষিদের কষ্টের ফসল অধিকাংশই কেড়ে নেয়। সাদা কাগজে টিপসই নিয়ে মিথ্যা দেনার দায়ে তাদের সর্বহারা করে ছাড়ে। হাড়ভাঙা খাটনি খেটেও, উসমানের মতো বর্গাচাষিরা দুবেলা পেটপুরে খেতে পায় না।

  1. ক)

    'মানুষ' কবিতাটি কবির কোন কাব্যগ্রন্থ হতে সংকলিত?

    (1)
  2. খ)

    ‘ঐ মন্দির পূজারীর, হায় দেবতা, তোমার নয়।'— বুঝিয়ে লেখো ।

    (2)
  3. গ)

    স্তবক-১ এ 'মানুষ' কবিতার যে ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে তা ব্যাখ্যা করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    “প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও স্তবক-২ এর মহাজন ও মানুষ' কবিতার মোল্লা- পুরোহিতের স্বরূপ একই। বিশ্লেষণ করো ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    'মানুষ' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।

  2. খ)

    এই চরণ দ্বারা কবি বোঝাতে চেয়েছেন, মন্দির কেবল পূজারীদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। পূজারীরা সাধারণ মানুষকে মন্দিরে ঢুকতে বাধা দেয় এবং ধর্মকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে। কিন্তু স্রষ্টা সব মানুষের, কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর বা উপাসনালয়ের মধ্যে তিনি আবদ্ধ নন।

  3. গ)

    স্তবক-১-এ মহাত্মা গান্ধী ধনী-গরিব, জাতি-ধর্ম বিচার না করে সাধারণ মানুষকে ভাই ও বন্ধু বলে কাছে টেনে নিয়েছেন। তিনি নিজ স্বার্থ ভুলে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

    'মানুষ' কবিতায় নজরুল ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের ভেদাভেদ অস্বীকার করে মানুষের জয়গান গেয়েছেন। তাঁর মতে মানুষই সবচেয়ে বড়। তাই স্তবক-১-এ কবিতার অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবপ্রেমের ভাব প্রতিফলিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    স্তবক-২-এ মহাজনেরা অজুহাতে ও প্রতারণায় গরিব বর্গাচাষির ফসল কেড়ে নেয় এবং তাদের সর্বহারা করে। 'মানুষ' কবিতায় মোল্লা ও পুরোহিত ধর্মের নামে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করে এবং শোষণ করে। প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উভয়ের স্বরূপ এক, মন্তব্যটি যথার্থ।

    ১. মহাজন অর্থের জোরে দরিদ্র চাষিকে বঞ্চিত করে; মোল্লা-পুরোহিত ধর্মের ক্ষমতা ব্যবহার করে মানুষের অধিকার হরণ করে।
    ২. উভয়েই নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য অসহায় ও দুর্বল মানুষকে শিকার বানায়।
    ৩. উভয় চরিত্রই মানবিকতা ও সাম্যের বিরোধী এবং সমাজে বৈষম্য সৃষ্টি করে।

    সুতরাং, প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও শোষণ ও স্বার্থপরতার দিক থেকে মহাজন ও মোল্লা-পুরোহিতের স্বরূপ একই।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন